মুখ্যমন্ত্রী আবাসন প্রকল্পের অধীনে জালিয়াতি করে ফ্ল্যাট অধিগ্রহণের অভিযোগে ২ বছরের কারাদণ্ড হল মহারাষ্ট্রের ক্রীড়ামন্ত্রী মানিকরাও কোকাটে এবং তাঁর ভাইয়ের। এছাড়া দুজনেরই ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা হয়েছে। মঙ্গলবার নাসিক জেলা ও দায়রা আদালত এই সাজা ঘোষণা করেছে। আদালত অবিলম্বে সাজা কার্যকর করার এবং মানিকরাও কোকাটে ও তাঁর ভাইকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছে।
বিচারপতি পিএম বদর অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট রূপালী নারওয়াদিয়াকে দ্রুত সাজা কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত আগের রায় বহাল রাখার পর নারওয়াদিয়ার যে কোনও সময় মানিকরাও কোকাটে ও তাঁর ভাইকে গ্রেফতারের জন্য সমন জারি করতে পারে। ১৯৯৭ সালে আবাসন জালিয়াতির মামলাটি নাসিকের সরকারওয়াড়া থানায় নথিভুক্ত করা হয়েছিল। আবাসন জালিয়াতির ঘটনায় মোট চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়। যাদের মধ্যে মানিকরাও কোকাটে, তাঁর ভাই এবং আরও দুজন ছিলেন।
ক্রীড়ামন্ত্রী মানিকরাও কোকাটেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী আবাসন প্রকল্পের অধীনে ১০ শতাংশ সংরক্ষিত কোটার অপব্যবহার করে নাসিকের কানাডা কর্নারে একটা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চারটি ফ্ল্যাট অধিগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৯৫ সালে ফ্ল্যাটগুলি অস্বাভাবিক ছাড়ে বরাদ্দ করা হয়েছিল। কোকাটে ভাইদের বিরুদ্ধে আবাসন কেনার নথিতে জালিয়াতি এবং প্রতারণার অভিযোগ করা হয়েছিল। জেলা ও দায়রা আদালতের রায়ে বলা হয়েছে যে, অভিযুক্তরা যদি জরিমানা না দেন, তাহলে তাঁদের অতিরিক্ত আরও এক মাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। অভিযোগের গুরুত্ব অনুসারে আদালত দ্রুত সাজা কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ প্রথম বিদেশি রাষ্ট্রনেতা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইথিওপিয়ার সর্বোচ্চ সম্মান পেলেন নরেন্দ্র মোদী
মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মন্ত্রী তুকারাম দিঘোল আবাসন জালিয়াতির ব্যাপারে একটা আবেদন দাখিল করেছিলেন। যার ফলে তদন্ত এবং পরবর্তী বিচার শুরু হয়েছিল। মামলার করার প্রায় তিন দশক পরে এই রায় ঘোষণা করল নাসিক জেলা ও দায়রা আদালত। যা এই ধরনের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘায়িত ছবিটা তুলে ধরে। দায়রা আদালতের সর্বশেষ রায়ে আগের শাস্তিই বহাল রাখা হয়েছে, যা জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে জালিয়াতির বিরুদ্ধে বিচার ব্যবস্থার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে। রায়ে ব্যক্তিগত লাভের জন্য পদের অপব্যবহারের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
৬৭ বছর বয়সী মানিকরাও কোকাটে বর্তমানে সিন্নার থেকে জিতে বিধানসভায় এসেছেন। কোকাটের রাজনৈতিক জীবন যথেষ্ট দীর্ঘ। তিনি ১৯৯৯, ২০০৪ এবং ২০০৯ সালেও বিধানসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৪ সালে হেরে যান। এরপর ২০২৪ সালে অজিত পাওয়ারের এনসিপি গোষ্ঠীর প্রার্থী হিসেবে বিধানসভায় ফিরে আসেন।