বিমান দুর্ঘটনায় মারা গেলেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ার৷ বুধবার সকালে মুম্বই থেকে বিশেষ বিমানে তিনি বারামতি যাচ্ছিলেন। সেখানে একটা নির্বাচনী সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। বারামতিতে অবতরণের মুহূর্তেই বিমানটি ভেঙে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে বিমানটিতে আগুন লেগে যায়। অজিত পাওয়ারসহ বিমানে থাকা সকলেই নিহত হয়েছেন।
ভিএসআর অ্যাভিয়েশন পরিচালিত একটা ভিটি–এসএসকে লিয়ারজেট ৪৫ বিমানে মুম্বই থেকে বারামতি যাচ্ছিলেন অজিত পাওয়ার। ক্রু–সহ বিমানটিতে মোট পাঁচজন ছিলেন। অজিত পাওয়ার ছাড়াও তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা (পিএসও) বিদীপ যাদব, ক্যাপ্টেন সুমিত কাপুর, ক্যাপ্টেন সম্ভাবী পাঠক এবং বিমান পরিচারিকা পিঙ্কি মালি৷ দুর্ঘটনায় সকলেই নিহত হয়েছেন।
সকাল ৯টা ১৫ মিনিট নাগাদ বিমানটি ভেঙে পড়ে। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ও স্থানীয়রা প্রথমে ছুটে আসে৷ পরে উদ্ধারকারী দল হাজির হয়। দুর্ঘটনার পর বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং পরপর ৪ থেকে ৫টি বিস্ফোরণ ঘটে। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, ‘আকাশে ঘুরতে ঘুরতে বিমানটিকে কিছুটা বেসামাল মনে হয়েছিল এবং অবতরণের জন্য রানওয়ের কাছে পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে আছড়ে পড়ে এবং বিস্ফোরণ ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে বিমানটিতে আগুন লেগে যায়।’ তিনি আরও জানান, ‘বিস্ফোরণের পর বিমানের বেশ কিছু অংশ শূন্যে উড়ে যায়। কিছু ধ্বংসাবশেষ আমার বাড়ির কাছেও এসে পড়ে।’
আর এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ‘আমাদের বাড়ির পেছনেই বিমানঘাঁটি। দেখছিলাম, একটা বিমান ঢুকছে কিন্তু অবতরণ করছে না। কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার পর আবার ফিরে আসে। অবতরণ করার সময় রানওয়ের ঠিক সামনেই বিধ্বস্ত হল। সঙ্গে সঙ্গে আমরা পুলিশকে খবর দিই। পুলিশ ও দমকল এসে ১৫ মিনিট পর আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। এরপর কাছে গিয়ে আমরা মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখি।’
দুর্ঘটনার খবর পেতেই গোটা পাওয়ার পরিবার দিল্লির শরদ পাওয়ারের বাসভবন থেকে বারামতি রওনা দেয়। শরদ পাওয়ার, সুপ্রিয়া সুলে, সুনেত্রা পাওয়ার, অজিত পাওয়ারের স্ত্রী এবং ছেলে পার্থ বারামতি পৌঁছন। উপমুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুতে মহারাষ্ট্র সরকার ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে৷ এই সময়ে সমস্ত সরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। শোকের সময় কোনও সরকারি বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান হবে না। অজিতের মৃত্যুর পর কাকা শরদ পাওয়ারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রে মোদি ৷
মহারাষ্ট্র পুলিশ জানিয়েছে, বারামতির বিমান দুর্ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হচ্ছে। দুর্ঘটনাস্থলে ধ্বংসাবশেষের অবস্থান এবং অবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। ওড়ার সময় বিমানের প্রযুক্তিগত অবস্থা এবং বিমানটি ওড়ার জন্য উপযুক্ত ছিল কিনা তা নির্ধারণের জন্য ব্ল্যাক বক্স পরীক্ষা করা হবে। ককপিটের ভয়েস রেকর্ডিং থেকে শেষ মুহূর্তগুলোতে পাইলটদের কথোপকথন এবং সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে। বিমানটির রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত সমস্ত রেকর্ডও পর্যালোচনা করা হবে।