নাশকতা তৈরির জন্য বিস্ফোরক মজুত করে রেখেছিল সন্ত্রাসীরা। শেষ পর্যন্ত সন্ত্রাসীরা সেই বিস্ফোরক কাজে লাগাতে পারেনি। উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিশ। ফরিদাবাদ থেকে উদ্ধার হওয়া সেই বিস্ফোরকেই প্রাণ গেল ৯ জনের। আহত ২৫ জনেরও বেশি। ঘটনাটি ঘটেছে জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগরের নওগাম থানার পুলিশ স্টেশনে।
হরিয়ানার ফরিদাবাদে চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিলের ভাড়া বাড়ি থেকে ৩৬০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ। সেই বিস্ফোরক মজুত করে রাথা হয়েছিল শ্রীনগরের নওগাম পুলিশ স্টেশনে। শুক্রবার গভীর রাতে পরীক্ষার জন্য বিস্ফোরকের ভাণ্ডার থেকে যখন নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছিল, সেই সময়ই বিস্ফোরণটি ঘটে। বিস্ফোরণের ফলে নওগাম পুলিশ থানার ভবন প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে।
প্রথমে একটা বড় বিস্ফোরণ ঘটেছিল। তারপর ছোট ছোট বেশ কয়েকটা বিস্ফোরণ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাতে হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দে তারা হতচকিত হয়ে পড়েন। লাকার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে যে বিস্ফোরণের ফলে থানার ভবনটি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। বিস্ফোরণের পরপরই আগুনের শিখা এবং ঘন ধোঁয়া বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে প্রথমে স্থানীয়রা ছুটে আসে। পরে সেনাবাহিনী ছুটে এসে উদ্ধার কাজে হাত লাগায়। আহতদের সেনা হাসপাতাল ও কাশ্মীর ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সে ভর্তি করা হয়।
আরও পড়ুনঃ এনডিএ–র কাছে উড়ে গেল মহাগঠবন্ধন, সংখ্যাগরিষ্ট দল বিজেপি, মুখ্যমন্ত্রীর পদ না পেলে জোট ছাড়বেন নীতীশ?
ঘটনাস্থল থেকে প্রথমে ৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়ে। পুলিশসহ ২৭ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে হাসপাতালে আরও ৫ জন মারা যান। বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। বেশ কয়েকজন এখনও নিখোঁজ। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের খোঁজে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল, তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে ৩০০ ফুট দূরে দেহের কিছু অংশ পাওয়া গেছে।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে যে, দুটি দিক থেকে তদন্ত করা হচ্ছে। একটা সম্ভাবনা হল, ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সিল করার সময় অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট জ্বলে উঠেছিল। দ্বিতীয়টি সন্ত্রাসী হামলার দিকে ইঙ্গিত করে। কর্তাদের মতে, পুলিশ এবং ফরেনসিক দল যখন ফরিদাবাদ থেকে আনা বিস্ফোরকগুলি পরীক্ষা করছিল তখনই বিস্ফোরণটি ঘটে। সন্ত্রাসী মডিউল মামলা থেকে উদ্ধার হওয়া ৩৫০ কেজি মজুদের বেশিরভাগই থানার ভেতরে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। উদ্ধারকৃত কিছু রাসায়নিক পদার্থ পুলিশ ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু বেশিরভাগই থানাতে রয়ে গেছে। তদন্তকারীরা আরও একটা বিষয় খতিয়ে দেখছে, থানার ভেতরে থাকা বাজেয়াপ্ত করা গাড়িটিতে কি আইইডি লাগানো ছিল? যার ফলে সম্ভবত আরও বড় বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। জৈশ–ই–মহম্মদের সঙ্গে যুক্ত একটা ছায়া সংগঠন পিএএফএফ এই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে।