মুম্বইয়ের পশ্চিম শহরতলির গোরেগাঁও এলাকার এক কলেজে বোরখা–নিকাবের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর জন্য ৬ জন ছাত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে মুম্বই পুলিশ। বিবেক বিদ্যালয় ও জুনিয়র কলেজের বাইরে কিছু ছাত্রী অনশনে বসার জন্য এই ব্যবস্থা নেয় পুলিশ হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ ক্লাসরুমের ভেতরে বোরখা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার জন্য একটা ড্রেস কোড জারি করার পর ছাত্রীরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকে।
গোরেগাঁওয়ের বিবেক বিদ্যালয় জুনিয়র কলেজ কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি বোরখা ও হিজাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরিস্কার জানানো হয় বোরখা ও হিজাব পরে কলেজে আসা চলবে না। কলেজ কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা। তাঁরা বারবার কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে বোরখা ও হিজাব পরার অনুমতি চায়। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। বারবার অনুরোধ করার পরে শেষ পর্যন্ত হিজাব পরার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে বোরখা পরতে দেওয়া হয়নি।
শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ এবং জমা দেওয়া চিঠির পর কলেজ কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে। এক বিবৃতি জারি করে বলে, ‘আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ, অভিযোগ অস্বীকার করছি।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পরার ব্যাপারে আমাদের ইনস্টিটিউটের কোনও আপত্তি নেই। বাস্তবে এর ওপরে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। মনে হচ্ছে একটি ভুল উপস্থাপনা রয়েছে, যার ফলে অপ্রয়োজনীয় সমস্যা তৈরি হয়েছে, যা সম্পূর্ণরূপে এড়ানো যেত।’
কলেজ কর্তৃপক্ষর তরফ থেকে আরও বলা হয়েছে যে, তারা নিকাব ছাড়া বোরখার অনুরোধ অবিলম্বে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবং স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এই সিদ্ধান্তকে নজির হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। আরও বলেছে, তেমন কোনও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়নি। বিবৃতিতে শিক্ষার্থীদের কলেজ প্রাঙ্গণে এবং আশেপাশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, আইনশৃঙ্খলার সমস্যা তৈরি না করার ব্যাপারে আহ্বান জানানো হয়ে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত সমস্ত পোস্ট, ভিডিও মুছে ফেলার জন্য বলা হয়েছে। শিক্ষীর্থা জানিয়েছেন যে, বিষয় সমাধান হয়ে গেছে, এবং কলেজ বোরখা পরার অনুমতি দেবে।
কলেজ কর্তৃপক্ষর সঙ্গে সমস্যা মিটে গেলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কলেজের সামনে বেআইনি সমাবেশ করার জন্য ছাত্রীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মুম্বই পুলিশের এক কর্তা জানান, ‘গোরেগাঁও এলাকার এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বোরখা–নিকাব নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য ৬ জন ছাত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।’ ওই পুলিশ কর্তা আরও বলেন, বিবেক বিদ্যালয় ও জুনিয়র কলেজের বাইরে কিছু ছাত্রী অনশনে বসেছেন, এমন তথ্য পাওয়ার পর এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘পুলিশের অনুমতি ছাড়াই ছাত্রীরা বিক্ষোভ করছিল। বিক্ষোভ বন্ধ করতে বলায় তারা পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে তর্ক করেছিল। আমরা ৬ জন ছাত্রীর বিরুদ্ধে বেআইনি সমাবেশের জন্য মামলা করেছি।’