জেলমুক্তির পর আবার আটক। আপাতত দেশে ফেরা বিশবাঁও জলে বীরভূমের সোনালি খাতুনদের। অনুপ্রবেশ মামলায় সোমবার অন্তঃসত্ত্বা সোনালি খাতুন, তাঁর ৮ বছরের ছেলেসহ আরও পাঁচজনকে জামিন দিয়েছিল চাঁপাই নবাবগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। কিন্তু জেল থেকে বার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের আবার আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের দাবি এখনও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। আপাতত চাঁপাই নবাবগঞ্জ থানাতেই রয়েছেন সোনালি বিবিরা।
চলতি বছর ২৬ জুন বাংলাদেশি তকমা সাঁটিয়ে অসম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল বীরভূমের বাসিন্দা অন্তঃসত্ত্বা সোনালি খাতুন, তাঁর ৮ বছরের ছেলেসহ আরও পাঁচজনকে। চাঁপাই নবাবগঞ্জ থানার পুলিশ তাঁদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গ্রেফতার করে। অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করে বাংলাদেশ পুলিশ। এতদিন তাঁরা বাংলাদেশ জেলে বন্দি ছিলেন। সোমবার সোনালি খাতুনসহ ৬ জনকে জামিন দিয়েছে চাঁপাই নবাবগঞ্জের আদালত। সোমবার সন্ধেয় তাঁরা জেল থেকে ছাড়া পান। এদিনই সোনালি খাতুন ও তাঁর ৮ বছরের ছেলেকে দেশে ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।
সোনালিদের বাংলাদেশে পুশব্যাক করা নিয়ে প্রথমে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন সোনালির বাবা ভাদু শেখ। ২৬ সেপ্টেম্বর সোনালিসহ ৬ জনকেই ৪ সপ্তাহের মধ্যে ভারতে ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই কেন্দ্রীয় সরকার কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিল। শুনানির সময় সোনালির যাবতীয় নথিপত্র পরীক্ষা করে তাঁকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল দেশের শীর্ষ আদালত। পর্যবেক্ষণে আদালত জানিয়েছিল, সোনালিদের বক্তব্য না শুনেই তাঁদের পুশব্যাক করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বিক্ষোভের পরিকল্পনা ইমরান সমর্থকদের, রাওয়ালপিন্ডিতে ১৪৪ ধারা জারি, বাবার অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা কাসিমের
সোমবার এই মামলার শুনানি ছিল। মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতির জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ সোনালিদের দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের দুই সদস্যের বেঞ্চ নির্দেশে জানিয়েছে, মানবিকতার খাতিরে সোনালিদের ভারতে ফেরার অনুমতি দিতে হবে। পাশাপাশি সোনালিদের ওপর নজরদারি রাখার এবং হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শও দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের দুই সদস্যের বেঞ্চ।
সোমবার বাংলাদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জ আদালত সোনালিদের জামিন দিয়েছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সোনালিরা ভারতীয়। ওরা ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেনি। ওদের জোর করে পুশব্যাক করা হয়েছে। অনুপ্রবেশ হলেও সোনালিরা নির্দোষ। তাই জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় চাঁপাই নবাবগঞ্জ চিপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। তাঁদের জরিমানা করে জামিন দেওয়া হয়। প্রায় ১০০ দিন চাঁপাই নবাবগঞ্জ সংশোধনাগারে বন্দি থাকার পর মুক্তি পান সোনালিরা। জেল মুক্তির পরও এখনই দেশে ফেরা হচ্ছে না তাঁদের।