সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লার কাছে বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ১১ জনে। আহত ২০ জন আহত হন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ফরেনসিক প্রমাণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী যোগসূত্রের ইঙ্গিত পেয়েছে দিল্লি পুলিশ। এরপরই বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের ধারা প্রয়োগ করে মামলা শুরু করেছে। জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) তদন্ত হাতে তুলে নিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
দিল্লি বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জম্মু ও কাশ্মীরে আজ ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। এরা হলেন উমরের দুই ভাই আশিক আহমেদ ও জহুর আহমেদ, উমরের মা শামিমা বানু। এছাড়া বাকিরা হল প্লাম্বার আমির রশিদ মির, সরকারি কর্মচারী উমর রশিদ মীর ও এক ব্যাঙ্কের নিরাপত্তাকর্মী তারিক মালিক। এদের জম্মু ও কাশ্মীর থেকে আটক করা হয়।
লাল কেল্লার ট্র্যাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা একটা গাড়িতে বিস্ফোরণটি ঘটে। গাড়িতে আরোহী ছিলেন। হুন্ডাই আই২০ গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর হরিয়ানার। বিস্ফোরণের ফলে কাছের গাড়িগুলি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লাল কেল্লার কাছে যে জায়গায় বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে, সেখানে সারা বছরই পর্যটকদের ভিড় থাকে। যথেষ্ট পুলিশও থাকে। হুন্ডাই আই২০ গাড়িটি সিগন্যালে এসে দাঁড়াতেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আশেপাশের একাধিক গাড়িতে আগুন লেগে যায়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, অনেকের দেহাংশ রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে।
সূত্রের খবর, এইচআর ২৬সিই৭৬৭৪ নম্বরের গাড়িটি লাল কেল্লার কাছে পার্কিং লটে তিন ঘন্টারও বেশি সময় ধরে দাঁড় করানো ছিল। বিকেল ৩:১৯ মিনিটে গাড়িটি পার্কিং লটে প্রবেশ করে এবং সন্ধে ৬:৩০ মিনিটে বেরিয়ে যায়। প্রায় এক মিনিটের একটা ভিডিও ক্লিপে দেখা গেছে, গাড়িটি বদরপুর সীমান্তে প্রবেশ করছে। অন্য একটা ভিডিওতে দেখা গেছে সন্দেহভাজন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী হাত জানালায় রেখে গাড়িটি পার্কিং লটে প্রবেশ করাচ্ছে। চালকের গায়ে নীল–কালো টি–শার্ট ছিল। সূত্র জানিয়েছে যে, সন্দেহভাজন আত্মঘাতী হামলাকারী গাড়িটি পার্ক করার সময় এক সেকেন্ডের জন্যও গাড়ি থেকে বের হয়নি। হয়তো কারও জন্য অপেক্ষা করছিল অথবা পার্কিং লটে নির্দেশের অপেক্ষায় করছিল।
লাল কেল্লার এই বিস্ফোরণকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। ফরেনসিক প্রমাণ এবং গোয়েন্দা তথ্যে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী যোগসূত্রের ইঙ্গিত পাওয়ার পর দিল্লি পুলিশ বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের ধারা প্রয়োগ করেছে। দিল্লি এবং নিকটবর্তী অন্যান্য রাজ্যগুলিতেও উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মুম্বই, কলকাতা, বেঙ্গালুরু, জয়পুর, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, হায়দ্রাবাদ, উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ড, এই সব রাজ্যে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হরিয়ানার ফরিদাবাদে ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধারের একদিন পরই দিল্লিতে এই বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। সূত্র জানিয়েছে যে, দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামার একজন ডাক্তারের মালিকানাধীন আই২০ গাড়িটি বিস্ফোরণের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। ডাঃ মুজাম্মিল শাকিল এবং ডাঃ আদিল আহমেদ রাথের গ্রেফতার হওয়ার পর গাড়ির মালিক ডাঃ উমর মহম্মদ আতঙ্কিত হয়ে লাল কেল্লার কাছে বিস্ফোরণ ঘটান বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, উমর আরও দুই সহযোগীর সঙ্গে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং গাড়িতে একটা ডেটোনেটর রেখেছিলেন। সূত্র আরও জানিয়েছে, ফরিদাবাদে পাওয়া অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরণে ব্যবহৃত হয়েছিল।
উত্তরপ্রদেশ সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াড পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ জুড়ে একাধিক অভিযান চালাচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে সাহারানপুর, শামলি এবং মুজাফফরনগর জেলা। কর্মকর্তাদের মতে, চলমান তদন্তের সাথে সম্পর্কিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। সন্দেহভাজনদের এবং ফরিদাবাদ থেকে পরিচালিত মডিউলের মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্র তদন্ত করছে এটিএস।
সূত্র জানিয়েছে যে আদিলের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।তদন্তকারীরা বিলাল খানের মোবাইল ডিভাইস থেকে ৪,০০০ এরও বেশি সন্দেহজনক ফোন নম্বর উদ্ধার করেছেন বলে জানা গেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে যে তিনি একজন পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের সাথে যোগাযোগ করছিলেন।