শুল্ক আরোপ নিয়ে যখন নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের, সেই আবহে অন্য ছবি দেশেরই অভ্যন্তরে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যাপারে তোষণ নীতি তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেবন্ত রেড্ডির। হায়দরাবাদের একটা প্রধান রাস্তার নাম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে রাখার প্রস্তাব করেছেন তিনি। আসলে ‘তেলেঙ্গানা রাইজিং গ্লোবাল সামিট’–এর আগে বিশ্বব্যাপী মনোযোগ আকর্ষণের লক্ষ্যে এটা রেবন্তের একটা পদক্ষেপ।
আজ থেকে হায়দরাবাদে শুরু হয়েছে ‘তেলেঙ্গনা রাইজিং গ্লোবার সামিট’। ৪২টি দেশের ১৬৮৬ জন প্রতিনিধি, যার মধ্যে ২২৫ জন আন্তর্জাতিক অতিথি অংশগ্রহণ করছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, গ্রেট ব্রিটেন, সিঙ্গাপুর, কানাডা, জার্মানি থেকে অতিথিরা এসেছেন। বিশ্বব্যাঙ্ক, এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাঙ্ক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা যোগ দিয়েছেন। এই সভা বিশ্ব অর্থনৈতিক মানচিত্রে তেলেঙ্গানাকে শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যতের সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করবে। তাই বিশ্বব্যাপী সকলের মনোযোগ আকর্ষনের জন্যই তেলেঙ্গনার মুখ্যমন্ত্রী হায়দরাবাদের রাস্তার নামকরণ ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
হায়দরাবাদের মার্কিন কনস্যুলেট জেনারেলের পাশের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প এভিনিউ’ নামে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রেবন্ত রেড্ডি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কোনও ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে সম্মান জানানোর ক্ষেত্রে এটাই বিশ্বব্যাপী প্রথম পদক্ষেপ বলে মনে করছেন তেলেঙ্গনার নেতারা। তবে রাজ্যের নামকরণের এই উত্সব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বাইরেও বিস্তৃত। হায়দরাবাদকে প্রযুক্তির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অবদান রাখা বিশ্বব্যাপী ব্যবসা ও প্রযুক্তির অগ্রদূতদের সম্মান জানানো হয়েছে। অন্য একটা প্রধান সড়কের নাম ‘গুগল স্ট্রিট’ করা হয়েছে, যা এই অঞ্চলে বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি জায়ান্টের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি এবং বিনিয়োগকে স্বীকৃতি দেয়।
এছাড়া বিভিন্ন রাস্তার নামকরম করা হচ্ছে, ‘মাইক্রোসফট রোড’ এবং ‘উইপ্রো জংশন’। রাভিরায়ালার নেহেরু আউটার রিং রোডকে প্রস্তাবিত ফিউচার সিটির সঙ্গে সংযুক্তকারী ১০০ মিটার গ্রিনফিল্ড রেডিয়াল রোডের নামকরণেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা পদ্মভূষণ রতন টাটার নামে নামকরণ করা হবে। রাভিরায়ালা ইন্টারচেঞ্জটিকে ইতিমধ্যেই ‘টাটা ইন্টারচেঞ্জ’ হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
এই নামকরণের ব্যাপারে তেলেঙ্গনার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং প্রধান কর্পোরেশনের নামে রাস্তার নামকরণের দুটি উদ্দেশ্য রয়েছে। এটা যাত্রীদের জন্য উপযুক্ত শ্রদ্ধা প্রদান করে এবং অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। একই সঙ্গে হায়দরাদকে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতির উচ্চ স্তরে নিয়ে যায়।’ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিজেপি নেতা সঞ্জয় কুমার অবশ্য রেড্ডির সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘হায়দরাবাদের নাম পরিবর্তন করে ভাগ্যনগরে ফিরিয়ে আনা উচিত। এক্স–এ একে পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘যদি কংগ্রেস সরকার নাম পরিবর্তন করতে এতই আগ্রহী হয়, তাহলে তারা এমন কিছু দিয়ে শুরু করা উচিত যার আসলে ইতিহাস এবং অর্থ আছে।’