ট্রেন্ডিং

Terrorist killed in J&K

‌বুদগাম সংঘর্ষে নিহত লস্কর শীর্ষ কমান্ডার ফৌজি মুসা, আরও তিন সন্ত্রাসীকে ঘিরে ফেলেছে নিরাপত্তা বাহিনী

মঙ্গলবার গভীর রাতে দক্ষিণ কাশ্মীরের বুদগামের ইউসমার্গে নিরাপত্তা বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে সংঘর্ষে লস্কর–ই–তৈবার শীর্ষ কমান্ডার সুলেমান শাহ ওরফে ফৌজি মুসা নিহত হয়েছেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনা, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং সিআরপিএফ কোরাগ এলাকায় একটি যৌথ তল্লাশি অভিযান শুরু করে। নিরাপত্তা বাহিনীকে দেখে সন্ত্রাসীরা গুলি চালাতে শুরু করে। দুই পক্ষের তুমুল গোলাগুলি শুরু হয়। নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে মুসা নিহত হন।

ফাইল ছবি।

ইনসাইড বাংলা ওয়েব ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
Share on:

মঙ্গলবার গভীর রাতে দক্ষিণ কাশ্মীরের বুদগামের ইউসমার্গে নিরাপত্তা বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে সংঘর্ষে লস্কর–ই–তৈবার শীর্ষ কমান্ডার সুলেমান শাহ ওরফে ফৌজি মুসা নিহত হয়েছেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনা, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং সিআরপিএফ কোরাগ এলাকায় একটি যৌথ তল্লাশি অভিযান শুরু করে। নিরাপত্তা বাহিনীকে দেখে সন্ত্রাসীরা গুলি চালাতে শুরু করে। দুই পক্ষের তুমুল গোলাগুলি শুরু হয়। নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে মুসা নিহত হন। আরও তিনজন সন্ত্রাসী লুকিয়ে আছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সেনাবাহিনী পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলেছে। ঘন জঙ্গল ও পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অভিযান চালানো হচ্ছে। বুধবার সকালে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। 

২০২২ সালে কাশ্মীর উপত্যকায় অনুপ্রবেশ করে সুলেমান শাহ ওরফে ফৌজি মুসা। তখন থেকেই সে সক্রিয়ভাবে কাশ্মীরে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে শুরু করে। পীর পাঞ্জালের উভয় পারে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তার যুক্ত থাকার কথা এবং সন্ত্রাসী সংগঠনগুলিতে যুবকদের নিয়োগে তার ভূমিকা সম্পর্কেও তথ্য সামনে আসছে। লস্করে যোগদানের আগে মুসা একজন পাকিস্তানি এসএসজি কমান্ডো ছিল। ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর ইউসমার্গে এক সংঘর্ষে পাকিস্তানি লস্কর সন্ত্রাসী ইয়াসিরকে হত্যা করেছিল নিরাপত্তা বাহিনী। সংঘর্ষের পর নিরাপত্তা বাহিনী সন্দেহ ছিল, ইয়াসিরের এক সহযোগী জঙ্গলে লুকিয়ে রয়েছে। ওই সহযোগীকে আসিফ ফৌজি ওরফে মুসা হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এরপর ইউসমার্গের উচ্চভূমির জঙ্গলে তার খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী।

সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার থেকে সেনাবাহিনী, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং সিআরপিএফের যৌথ বাহিনী তল্লাশি অভিযান জোরদার করে। নিরাপত্তা বাহিনী ইউসমার্গের কোরাগ এলাকায় সন্ত্রাসীদের উপস্থিতির বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছিল। নিরাপত্তাবাহিনীর উপস্থিতি জানতে পেরেই সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। নিরাপত্তা বাহিনীও পাল্টা জবাব দেয়। তুমুল গোলাগুলির সময় একজন সন্ত্রাসী নিহত হয়। সেনাবাহিনী তাকে নিষিদ্ধ ঘোষিত লস্কর-ই-তৈবার সদস্য হিসেবে শনাক্ত করেছে।


সেনাবাহিনীর চিনার কোর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটা পোস্ট শেয়ার করে জানিয়েছে যে, ‘‌সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কোরাগ, ইউসমার্গ এলাকায় একটা যৌথ তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়। সন্দেহজনক কার্যকলাপ লক্ষ্য করার পর, সৈন্যরা সন্ত্রাসীদের চ্যালেঞ্জ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। পাল্টা হামলায় একজন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে এবং অভিযানটি এখনও চলছে।’‌

সেনাবাহিনী নিহত সন্ত্রাসীর পরিচয় সম্পর্কে এখনও কোনও অতিরিক্ত তথ্য জানায়নি। সংঘর্ষস্থল থেকে কোনও অস্ত্র বা অন্য কোনো সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে কিনা, তাও স্পষ্ট নয়। অন্য কোনও সন্ত্রাসী উপস্থিত আছে কিনা তা জানতে নিরাপত্তা বাহিনী আশেপাশের এলাকাগুলিতে তল্লাশি চালাচ্ছে। গুরভেটকালান গ্রামেও সন্ত্রাসীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। এরপর নিরাপত্তা বাহিনী এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রাখে।

বিগত কয়েক মাস ধরে নিরাপত্তা বাহিনী ইউসমার্গ এলাকায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। চলতি মাসের মাসের শুরুতে ইউসমার্গ এলাকায় আরেকটা অভিযানে ইয়াসির নামে এক সন্ত্রাসী নিহত হয়। ইয়াসির ছিল মুসার ঘনিষ্ঠ সহযোগী, যে জম্মু ও কাশ্মীরে বেশ কয়েকটি হামলায় জড়িত ছিল। বেশ কিছুদিন ধরেই নিরাপত্তা বাহিনী তাকে খুঁজছিল। ইয়াসির ও  মুসার এই হত্যাকাণ্ডকে জম্মু ও কাশ্মীরে সক্রিয় লস্কর-ই-তৈবার জন্য একটা বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ

অন্যান্য খবর

Inside Bangla is a comprehensive digital news platform. This web portal started its humble journey. Its courageous journalism, presentation layout and design quickly won the hearts of people. Our journalists follow the strict Journalism ethics.

Copyright © 2026 Inside Bangla News Portal . All Rights Reserved. Designed by Avquora