মারা গেলেন ৭০ ও ৮০–র দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সঙ্গীত শিল্পী সুলক্ষণা পণ্ডিত। বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। বৃহস্পতিবার সন্ধেয় মুম্বইয়ের নানাবতী হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে বেশ কিছুদিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন। সৌন্দর্য এবং সুরেলা কণ্ঠের জন্য ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও খুব জনপ্রিয় ছিলেন সুলক্ষণা। শুধুমাত্র চলচ্চিত্র জগতে তিনি ছাপ রেখে যাননি, বরং তার গানের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ও স্পর্শ করেছিলেন।
১৯৫৪ সালের ১২ জুলাই ছত্তিশগড়ের রায়গড়ে এক সঙ্গীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সুলক্ষণা পণ্ডিত। সঙ্গীতের প্রতি প্রতিভা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিলেন তিনি। সুলক্ষণার বাবা প্রতাপ নারায়ণ পণ্ডিত ছিলেন একজন দক্ষ শাস্ত্রীয় গায়ক এবং তার কাকা পন্ডিত জসরাজ ছিলেন একজন বিখ্যাত শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পী। সুলক্ষণারা ছিলেন তিন বোন এবং তিন ভাই। দুই ভাই যতীন এবং ললিত বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী হয়ে ওঠেন। ৯ বছর বয়সে সঙ্গীত যাত্রা শুরু হয়েছিল সুলক্ষণার। ১৯৬৭ সালে প্লেব্যাক গানে প্রবেশ করেন। ১৯৭৫ সালে ‘সংকল্প’ সিনেমার ‘তু হি সাগর হ্যায় তু হি কিনারা’ গানের জন্য ফিল্মফেয়ার সেরা মহিলা প্লেব্যাক পুরস্কার জিতেছিলেন।
অভিনয়েও দুর্দান্ত পারদর্শী ছিলেন সুলক্ষণা। ১৯৭০ এবং ১৯৮০ এর দশকে তিনি সক্রিয়ভাবে অভিনয়ে আসেন। ১৯৭৫ সালে বলিউডে প্রবেশ। সঞ্জীব কুমারের সঙ্গে ‘উলঝান’ ছবিতে অভিনয় করেন। এটাই ছিল তাঁর প্রথম সিনেমা। এরপর ১৯৭৬ সালে ‘সঙ্কোচ’ ছবিতে অভিনয় করেন। রাজেশ খান্না, জিতেন্দ্র, বিনোদ খান্না, শশী কাপুর এবং শত্রুঘ্ন সিনহার মতো বড় তারকাদের সঙ্গেও কাজ করেছেন। উত্তমকুমারের সঙ্গেও অভিনয় করেছেন সুলক্ষণা। তাঁর জনপ্রিয় সিনেমাগুলির মধ্যে রয়েছে ‘হেরা ফেরি’, ‘আপনপন’, ‘খানদান’, এবং ‘ওয়াক্ত কি দিওয়ার’। সুলক্ষণা, যিনি তার সুরেলা কণ্ঠ দিয়ে হৃদয় জয় করেছিলেন ।
সুলক্ষণা কেবল একজন অভিনেত্রীই ছিলেন না, একজন প্রতিভাবান গায়িকাও ছিলেন। নিজের অভিনীত ছবিতে অনেক গান গেয়েছিলেন, যা খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল। ১৯৬৭ সালের ‘তকদীর’ ছবিতে লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে তাঁর ‘সাত সমুন্দর পার সে’ গানটি দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। তিনি যখন সংকল্পের সেটে ছিলেন, তখন লতাজি তাঁকে দেখতে এসেছিলেন। লতাজি সুলক্ষণার গানের প্রশংসা করে বলেছিলেন, ‘তোমার কণ্ঠে জাদু আছে।’ ১৯৭৬ সালে ‘সংকল্প’ ছবির ‘তু হি সাগর তু হি কিনারা’ গানের জন্য সুলক্ষণা ফিল্মফেয়ার পুরষ্কার পেয়েছিলেন। ‘মৌসম মৌসুম লাভলি মৌসুম’ (থোড়ি সি বেওয়াফাই) এবং ‘বেকারার দিল’ (দূর কা রাহি)–এর মতো তাঁর অনেক গান এখনও মানুষের হৃদয়ে গেঁথে রয়েছে।
অভিনয় এবং গান উভয় ক্ষেত্রেই সমৃদ্ধ হলেও পরে তিনি পেশাদার এবং ব্যক্তিগত সমস্যার সম্মুখীন হন। সুলক্ষণা কখনও বিয়ে করেননি। অভিনেতা সঞ্জীব কুমারের সঙ্গে তাঁকে নিয়ে একটা গল্প সুলক্ষণার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। পরের দিকে স্বাস্থ্য সমস্যা এবং আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন। সুলক্ষণার মৃত্যু চলচ্চিত্র এবং সঙ্গীত জগতে এক চিরন্তন কণ্ঠস্বর এবং উপস্থিতি রেখে গেছে। তাঁর সুরেলা কণ্ঠস্বর, পর্দার উপস্থিতি এবং সংবেদনশীল প্রতিভা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।