জাঁকজমকহীন ভাবে শুরু হয়েছে এবছর আইপিএল। উদ্বোধনী ম্যাচেই জয় তুলে নিয়েছে মোহনবাগান। সোমবার মাঠে নামছে কলকাতার আর এক প্রধান ইস্টবেঙ্গল। প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ নর্থইস্ট ইউনাইটেড। আইএসএল অভিযানে নামার আগে দল নিয়ে আশাবাদী লাল–হলুদ কোচ অস্কার ব্রুজো। এবার যে পছন্দের দল নিয়ে আইএসএল অভিযানে নামছেন, প্রথম ম্যাচের আগেই খোলসা করে দিয়েছেন।
শেষ প্রতিযোগিতা খেলেছেন সুপার কাপ। তারপর থেকেই আইএসএল নিয়ে দীর্ঘ টালবাহনা। আইএসএল নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও দলকে নিয়মিত অনুশীলনের মধ্যে রেখেছিলেন ব্রুজো। আইএসএলের জন্য তাঁর দল যে প্রস্তুত, পরিস্কার করে দিয়েছেন লাল–হলুদ কোচ। ব্রুজো বলছিলেন, ‘সোমবার আমাদের সামনে কঠিন লড়াই। তবে গতবারের তুলনায় এই বছর আমরা ভাল দল গড়েছি। গত বছর যখন আমি যোগ দিয়েছিলাম, তখন মরসুম শুরু হয়ে গিয়েছিল। দলে ভারসাম্যের অভাব ছিল। এবার অনেক পরিবর্তন করা হয়েছে। দলে ভারসাম্য এসেছে।’
এবছর হেড অফ ফুটবল অপারেশনস থাংবোই সিংটোর সঙ্গে পরামর্শ করে দল গড়েছেন অস্কার ব্রুজো। নর্থইস্টের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে বলছিলেন, ‘আমি আর থাংবোই ই দল তৈরি করেছি। সমর্থকরা শুধু সাফল্য বোঝে। গত মরশুমে আমরা দলের আসল প্লেয়ারদের অনেক সময় পাইনি। এবারও কেভিন সিবলেকে শুরু থেকে পাওয়া যাবে না। আগামী দুই সপ্তাহেল মধ্যে ভারতে ফিরতে পারে।’ তবে ষষ্ঠ বিদেশি নিয়ে এখনই কিছু বলতে নারাজ লাল–হলুদ কোচ। ফিফা ব্রেকের আগে সিবলেকে দেখে নিতে চান তিনি।
এদিন কোচের সঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির ছিলেন মহম্মদ রশিদ। ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে নামার আগে উচ্ছ্বসিত এই ফিলিস্তিনের এই ফুটবলার। তিনি বলেন, ‘পুরো দল মাঠে নামার জন্য মুখিয়ে রয়েছে। তবে আমার লক্ষ্য একটা একটা করে ম্যাচ ধরে ধরে এগিয়ে যাওয়ার।’ দীর্ঘদিন পর খেলতে নামা ও আইএসএল নিয়ে ডামাডোলের প্রসঙ্গও উঠে এল তাঁর সামনে। পরিস্থিতি কঠিন হলেও দলের ওপর আস্থা রয়েছে রশিদের। তিনি বলেন, ‘সবাই পেশাদার ফুটবলার। আমাদের মোটিভেট করার জন্য সমর্থকরা রয়েছে। তবে অনেকটা সময় না খেলা শুধু প্লেয়ার নয় কোচের জন্যও কঠিন। সমর্থক প্লেয়াররা ট্রফির জন্য মুখিয়ে রয়েছে। সমর্থকদের অনুরোধ করব, মাঠে আসুন, আমাদের সমর্থন করুন।’
দুই দলের শেষ পাঁচ সাক্ষাতের পরিসংখ্যানে কোনও দলই অবশ্য এগিয়ে নেই। দুটি দলই দুটি করে ম্যাচ জিতেছে। একটা ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে শেষ সাক্ষাৎকারে গুয়াহাটিতে ইস্টবেঙ্গলকে ৪–০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছিল হাইল্যান্ডার্সরা। ঘরের মাঠে আইএসএল অভিযানে নামার আগে এটা অবশ্যি চিন্তায় রাখবে মশাল বাহিনীকে।