চলতি আইএসএলে প্রথম দুটি ম্যাচ জিতে বিপ্লব ঘটিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। সমর্থকরা যখন জয়ের হ্যাটট্রিকের স্বপ্নে বিভোর, তখনই হোঁচট। তৃতীয় ম্যাচে এসে হারের মুখ দেখতে হয়েছে জামশেদপুর এফসির বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার চতুর্থ ম্যাচে সামনে এফসি গোয়া। আবার জয়ের সরণিতে ফিরতে মরিয়া লাল–হলুদ ব্রিগেড। রোজার সময় বিকেল ৫টায় ম্যাচ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজো।
দারুণ শুরু করেও একটা ম্যাচ হেরে লিগে টেবিলে পিছিয়ে পড়েছে ইস্টবেঙ্গল। এই মুহূর্তে ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে পঞ্চম স্থানে রয়েছে লাল–হলুদ ব্রিগেড। হতাশাজনক পারফরমেন্স ভুলে জয়ের রাস্তায় ফিরতে চান ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজো। এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে তিনি বলেন, ‘হতাশাজনক পারফরমেন্সের পর ফুটবলারদের আরও দায়িত্ববোধের প্রয়োজন। এফসি গোয়া সংগঠিত দল। দারুণ শক্তিশালী। দলে ভাল ভাল ফুটবলার রয়েছে। ওদের কোচকেও সম্মান করি। ৩ পয়েন্ট পেতে গেলে শুরু থেকেই সেরা ফুটবল খেলতে হবে। দলের ফুটবলারদের ওপর আস্থা রয়েছে।’
এই মুহূর্তে লিগ টেবিলের শীর্ষে রয়েছে মোহনবাগান। সবুজ–মেরুণ শিবিরের শীর্ষে থাকা নিয়ে ভাবছেন না অস্কার ব্রুজো। তবে আরও বেশি গোল করার কথা ভাবছেন লাল–হলুদ কোচ। কারণ, সংক্ষিপ্ত লিগে গোল পার্থক্য বড় হয়ে দেখা দেবে। অস্কার ব্রুজো বলছিলেন, ‘আমরা তিন গোল হজম করেছি, সেদিক থেকে দেখতে গেলে আমাদের আরও গোল করতে হবে। আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে। এই মুহূর্তে ট্রফি নিয়ে ভাবছি না। মোহনবাগানের শীর্ষে থাকা নিয়েও ভাবছি না। শুধু নিজের দল নিয়ে ভাবছি।’
ইউসেফ ইজেজেরি ৪ গোল করে গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন। ব্রাজিলিয়ান মিগেল ফিগেরা ও এডমুন্ড লালরিনডিকা ২টি করে গোল করেছেন। গোলের জন্য ইউসেফের দিকেই তাকিয়ে অস্কার ব্রুজো। ইস্টবেঙ্গলের মাঝমাঠের অন্যতম স্তম্ভ মহম্মদ রশিদের মুখেও ঘুরে দাঁড়ানোর কথা। তিনি বলেন, ‘এই মরসুমে আমাদের মাত্র ১৩টি ম্যাচ আছে। গোয়া এফসি ম্যাচ আমাদের কাছে নতুন দিন, নতুন চ্যালেঞ্জ। আগের ম্যাচের ফলাফল ভুলে ঝাঁপিয়ে পড়তে চাই। আমাদের এগিয়ে যাওয়ার দিকে নজর দিতে হবে।’
এদিকে, এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে বিকেল ৫ টায় ম্যাচ। রোজার মাসে এই সময় ম্যাচ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ ইস্টবেঙ্গল কোচ। ফেডারেশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অস্কার ব্রুজো। তিনি বলেন, ‘প্রথম ম্যাচে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে সন্ধে ৭টায় খেলতে নেমেছিলাম। কিন্তু রমজান মাস শুরু হতেই আমাদের প্রত্যেকটা ম্যাচ বিকেল ৫টায় দেওয়া হয়েছে। আবার রমজান মাস শেষ হওয়ার পর সন্ধে ৭.৩০ মিনিটে খেলা দেওয়া হয়েছে। মনে রাখতে হবে, আমাদের দলে পাঁচ ফুটবলার ইসলাম ধর্মাবলম্বী। সেই কারণে রোজা রেখে ম্যাচ খেলতে নামা বেশ কঠিন।’