ব্রাজিল মানেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ফুটবল শৈলী। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই বিগত ৫ বছরে ফুটবল বিশ্বে বিপ্লব ঘটানো মরক্কোর বিরুদ্ধে কেমন শুরু করে কার্লো আনসেলোত্তির দল, তার দিকে তাকিয়ে ছিলেন বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা। ‘অ্যাটলাস সিংহ’র বিরুদ্ধে হতাশ করল ব্রাজিলিয়া সাম্বা।গ্রুপ ‘ডি’র প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিরুদ্ধে প্রথমে পিছিয়ে পড়ে ভিনিসিয়াসের দুরন্ত গোলে কোনও রকমে হার বাঁচাল ব্রাজিল।
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিল ও মরক্কোর মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে আবির্ভাবের পর থেকেই উল্কার গতিতে উত্থান মরক্কোর। গত পাঁচ–ছয় বছরে রীতিমতো তো বিপ্লবই ঘটিয়েছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড, পর্তুগাল, পোল্যান্ডকে পেছনে ফেলে আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করেছিল। প্রি–কোয়ার্টার ফাইনালে দুরন্ত লড়াই করে জার্মানির কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল। এবারের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ব্রাজিলকে আটকে মরক্কো বুঝিয়ে দিল, তারা তৈরি হয়েই এসেছে।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গ্রুপ লিগের প্রথম ম্যাচেই দুরন্ত লড়াই মরক্কোর। প্রথমার্ধে ব্রাজিলকে তো রীতিমতো জার্সি দেখে চিনতে হচ্ছিল। বিশ্বকাপের অন্যতম হট ফেবারিট, অথচ তাদের কী হাল! প্রথম ম্যাচ সবসময়ই কঠিন, তাই বলে এই হাল। প্রথমার্ধে ব্রাজিলের মাঝমাঠ বলে কিছুই ছিল না। কাসিমিরোকে তো খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছিল না। রক্ষণে রজার ইবানিয়েজের একই অবস্থা। ব্রাজিল কোচ কার্লো আনসেলোত্তি আগেই বলেছিলেন সদ্য চোট সারিয়ে ওঠা নেইমারকে খেলাবেন না। সামনে একা ভিনিসিয়াস জুনিয়র। বিপক্ষ শক্তিশালী হলেও মরক্কো কোচ মহম্মদ কুয়াবি ব্রাজিলের বিরুদ্ধে গুটিয়ে থাকার কথা ভাবেননি। আক্রমণাত্মক ফুটবলেই আনসেলোত্তির দলকে বারবার পরীক্ষার মুখে ফেলে দিয়েছিলেন। তাই প্রথমার্ধে মরক্কোকে অনেক বেশি চনমনে মনে হচ্ছিল। অআর সেটা আসরাফ হাকিমির সৌজন্যে।
শুরু থেকেই প্রেসিং ফুটবল। ম্যাচের ৭ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল মরক্কোর সামনে। একটা লুজ বল পেয়ে গিয়েছিলেন এল আয়নুয়াইয়। ব্রাজিল গোলকিপার অ্যালিসনকে নিজের জায়গায় না দেখে গোল লক্ষ্য করে শট নিয়েছিলেন। সময়মতো আটকে দলের পতন রোধ করেন গ্যাব্রিয়েল। ম্যাচের ২১ মিনিটে রক্ষণের ভুলে এগিয়ে যায় মরক্কো। আসলে মরক্কোর প্রেসিং ফুটবলের জন্যই ভুল করতে বাধ্য হয় ব্রাজিল রক্ষণ। লুকাস পাকেতার ভুল পাসে বল পেয়ে যান মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াজ। তিনি দুর্দান্ত পাস বাড়ান ইসমাইল সাইবারির উদ্দেশ্যে। সেই বল ধরে গ্যাব্রিয়েলকে টপকে ও আগুয়ান গোলকিপার অ্যালিসনের মাথার ওপর দিয়ে আলতো চিপে বল জালে পাঠান ইসমাইল সাইবারি।
পিছিয়ে পড়ে সম্বিত ফেরে ব্রাজিলের। রাফিনহা, পাকুয়েতা, ভিনিসিয়াসরা আক্রমণ তুলে নিয়ে আসার চেষ্টা করে। চাপে পড়ে যায় মরক্কো রক্ষণ। ৩২ মিনিটে ভিনিসিয়াসের দুরন্ত গোলে সমতা ফেরায় ব্রাজিল। ভিনিসিয়াসের জ্বলে ওঠার রসদটা আসলে জুগিয়েছে সাইবারির ওই গোল। বক্সের বাঁদিকে ব্রুনো গিমারেস বল বাড়ান ভিনিসিয়াসকে। কাট–ইন করে বক্সে ঢুকে মরক্কোর এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ডান পায়ের কোনাকুনি শটে গোল করেন ভিনিসিয়াস। দেশের জার্সিতে ৫০তম ম্যাচে গোল করে দলের হার এড়ালেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ফাবিনিও ও দানিলোকে নামিয়ে ম্যাচের গতি বদলে দেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনসেলোত্তি। এই দুই ফুটবলার মাঠে আসতেই ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরার চেষ্টা করে ব্রাজিল। মরক্কোর তুলনায় দ্বিতীয়ার্ধে ভাল খেলেছে ব্রাজিল। তবে ইনজুরি সময়ের ৯ মিনিটের মাথায় মরক্কো মিডফিল্ডার আয়নাউয়ির দূরপাল্লার শট ব্রাজিল গোলকিপার অ্যালিসন আটকে না দিলে খালি হাতেই ফিরতে হত ব্রাজিলকে।