রাষ্ট্রপতির হাতেই উদ্বোধন হয়েছিল ১৩৫তম ইন্ডিয়ান অয়েল ডুরান্ড কাপের ঐতিহ্যবাহী ট্রফির আবরণ উন্মোচন। এরপর ইম্ফল, গুয়াহাটি, শিলং এবং রাঁচি ঘুরে ট্রফি এসে পৌঁছেছে কলকাতায়। ২৫ জুলাই কলকাতার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডুরান্ড কাপের উদ্বোধনী ম্যাচ। তার আগে ফোর্ট উইলিয়ামে বিজয় দুর্গে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হল ডুরান্ড কাপের ট্রফি। একই সঙ্গে শহরে বেজে গেল ডুরান্ড কাপের দামামা।
কলকাতায় জাঁকজমকপূর্ণ ডুরান্ড কাপ ট্রফির প্রদর্শন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে হাজির ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া এবং ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী ডাঃ ইন্দ্রনীল খাঁ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন
ইস্টার্ন কমান্ডের চিফ অফ স্টাফ এবং ডুরান্ড কাপ আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গম্ভীর সিং, রাজ্য সরকারের যুবকল্যাণ, ক্রীড়া ও সমবায় দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব শ্রী রাজেশ পাণ্ডে, বেঙ্গল সাব এরিয়ার জিওসি এবং আয়োজক কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল দীনেশ কুমার সিংসহ সেনা ও প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ কর্তারা।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ক্রীড়ামন্ত্রীসহ অন্যান্য বিশিষ্টজনদের সংবর্ধিত করা হয়। তুলে দেওয়া হয় স্মারক ও উত্তরীয়। এরপর অডিও–ভিস্যুয়াল প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ডুরান্ড কাপের গৌরবময় ইতিহাস এবং রাষ্ট্রপতি ভবনে ট্রফি উন্মোচনের ঝলক তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বলিউড অভিনেতা জন আব্রাহামের বিশেষ শুভেচ্ছাবার্তাও শোনানো হয়।
অনুষ্ঠানে ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, ‘উদ্বোধনী ম্যাচ এবং ফাইনালসহ এবারের ডুরান্ড কাপের ১৬টি
ম্যাচ আয়োজন করার সুযোগ পেয়ে কলকাতা গর্বিত। আমাদের রাজ্যের প্রতিটি ফুটবলপ্রেমীর কাছে এটা দারুণ সম্মানের। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে আমরা বিশ্বের নানা প্রান্তের দেশকে সমর্থন করেছি। এবার সময় এসেছে একজোট হয়ে ভারতীয় ফুটবল এবং আমাদের নিজেদের ফুটবলারদের পাশে দাঁড়ানোর। আমি সমস্ত ফুটবলপাগল দর্শকদের কাছে আবেদন করব, প্রথম ম্যাচ থেকে ফাইনাল পর্যন্ত গ্যালারি ভরিয়ে তুলুন। কারণ গ্যালারির সমর্থনের চেয়ে
বড় কোনও অনুপ্রেরণা ফুটবলারদের কাছে হতে পারে না।’
ডুরান্ড কাপ আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গম্ভীর সিং বলেন, ‘ভারতীয় সেনার কাছে ডুরান্ড কাপ অত্যন্ত আবেগের স্পোর্টিং ইভেন্ট এবং সেনা–নাগরিক সম্পর্কের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ২০১৯ সাল থেকে কলকাতা এই টুর্নামেন্টের প্রধান আয়োজক শহর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কারণ এই শহরে ফুটবল শুধু একটা খেলা নয়, একটা জীবনযাত্রা।’
২০১৯ সালে পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পর থেকে কলকাতাই ডুরান্ড কাপের মূল কেন্দ্রবিন্দু। ২৫ জুলাই বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট এবং ইস্টবেঙ্গলের মধ্যে ম্যাচ দিয়ে ১৩৫তম ডুরান্ড কাপের মহাযুদ্ধ শুরু হচ্ছে। এবছর গ্রুপ এ–তে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট, সাউথ ইউনাইটেড এফসি এবং সিআইএসএফ। গ্রুপ বি–তে রয়েছে মহামেডান স্পোর্টিং, ইন্ডিয়ান আর্মি, বাগপত এফসি এবং সমলেশ্বরী স্পোর্টিং। এই দুটি গ্রুপের ম্যাচ কলকাতায় অনুষ্ঠিত হবে। গ্রুপ পর্বের পাশাপাশি একটা কোয়ার্টার ফাইনাল, একটা সেমিফাইনাল এবং মেগা ফাইনাল কলকাতায় অনুষ্ঠিত হবে। এবারের প্রতিযোগিতায় শ্রীলঙ্কার সশস্ত্র বাহিনীর একটা দল সহ মোট ২৪টি দল অংশ নিচ্ছে। মোট ৬টি ভেন্যুতে খেলা হবে।