কলকাতার ফুটবলপ্রেমীরা যুবভারতীর গ্যালারিতে বসে উপভোগ করেছেন লিওনেল মেসি, অ্যাঞ্জেলো ডি মারিয়া, দিয়েগো ফোরলানদের খেলা। এবার আসতে চলেছে নেইমার, ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রড্রিগোদের খেলা দেখার সুযোগ। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী অক্টোবরে ফিফা উইন্ডোতে ভারতে আসতে পারে ব্রাজিল। অংশ নেবে একটা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে। আর এই আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের সম্ভাব্য আয়োজক হিসেবে উঠে এসেছে কলকাতার নাম।
ইএসপিএন ব্রাজিলের এক প্রতিবেদন অনুসারে, ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন ২৫ সেপ্টেম্বর টাউন্সভিলে এবং ২৯ সেপ্টেম্বর ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে অংশ নেবে। এই দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের পাশাপাশি অক্টোবরের শুরুতে ভারতে তৃতীয় একটা প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের জন্য পর্যায়ে আলোচনা করছে। তবে প্রস্তাবিত ভারতীয় ম্যাচটির প্রতিপক্ষ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, ভেন্যু হিসেবে কলকাতাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্বকাপ বিশ্বকাপ চলাকালীন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন ও স্থানীয় আয়োজকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্বকাপ চলাকালীন কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের কাছ থেকে ব্রাজিল বিপুল সমর্থন পেয়েছিল। এছাড়া এখানে প্রচুর পরিমান ব্রাজিল সমর্থক রয়েছে। সেই কথা মাথায় রেখেই প্রস্তাবিত ম্যাচটি কলকাতায় আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্বকাপ জুড়ে ব্রাজিলের হলুদ জার্সি পরা লক্ষ লক্ষ হাজার সমর্থকের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেয়ে গিয়েছিল। সেই ছবি চোখে পড়েছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন কর্তাদের।
এই প্রীতি ম্যাচটি ফিফার সম্প্রসারিত আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারের অংশ হবে। নতুন ‘সুপার ফিফা উইন্ডো’–র আওতায় জাতীয় দলগুলি প্রতিযোগিতামূলক ও প্রীতি ম্যাচ মিলিয়ে সর্বোচ্চ চারটি ম্যাচ খেলার জন্য ১৬ দিন পর্যন্ত সময় পাবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন ২০২৭ সালে আরও বেশি ঘরোয়া প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করতে চায় এবং জাতীয় দলকে ব্রাজিলের এমন সব শহরে নিয়ে যাবে, যেখানে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে খুব কমই আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কয়েক দশক ধরে কলকাতাকে ভারতীয় ফুটবলের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গণ্য করা হয়। এ বছরের বিশ্বকাপ আবারও তা দেখিয়ে দিয়েছে। বিশ্বকাপ চলাকালীন শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, স্পেন, পর্তুগালের পতাকায় ছেয়ে গিয়েছিল। ফুটবল সংস্কৃতির জন্য পরিচিত এলাকাগুলিতে মেসি, রোনাল্ডো, নেইমার ও ভিনিসিয়াস জুনিয়রদের বিশাল কাট আউট এবং রঙিন স্ট্রিট আর্টের মাধ্যমে সাজিয়ে তোলা হয়েছিল। অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল বেনিয়াটোলা এলাকার বিখ্যাত ‘ফিফা গলি’। এলাকার বাসিন্দারা ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকাদের প্রতিকৃতি, পতাকা এবং বিশ্বকাপ থিমের শিল্পকর্ম দিয়ে একটি পুরো গলি সাজিয়েছিল। সেই আবেগ ব্রাজিলের ফুটবল ফেডারেশনের ওপর ছাপ ফেলেছে।