অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডি সমুদ্র সৈকতে সন্ত্রাসী হামলায় আহত ৪০ জনের মধ্যে তিনজন ভারতীয় ছাত্রও ছিলেন। মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়েছে। তবে রবিবারের হামলায় গুলিবিদ্ধ হওয়া ওই তিন ভারতীয় ছাত্রের নাম প্রকাশ করা হয়নি। অস্ট্রেলিয়া টুডে নিউজ পোর্টাল জানিয়েছে, এই তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
রবিবার বন্ডি সমুদ্র সৈকতে ইহুদিদের হানুক্কা উৎসব চলাকালীন নাভিদ আকরাম (২৪) ও তার বাবা সাজিদ আকরাম (৫০) সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এই হামলায় কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১০ বছর বয়সী একটা শিশুও রয়েছে। প্রায় ৪০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা এখনও গুরুতর। ২ জন পুলিশ কর্তার অবস্থা গুরুতর হলেও আপাতত স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলসের পুলিশ কমিশনার মাল ল্যানিয়ন বলেছেন, নতুন তথ্য সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে অভিযুক্ত আক্রমণকারীদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এবং চরমপন্থী উপাদান আবিষ্কারের ঘটনা।
এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্র সৈকতে হামলাকারী একসময় ভারতের হায়দরাবাদে বসবাস করত। ২৭ বছর আগে হায়দরাবাদ ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দেয়। মঙ্গলবার তেলেঙ্গানা পুলিশ জানিয়েছে যে, হামলার সময় অস্ট্রেলিয়ান পুলিশের গুলিতে নিহত সাজিদ আকরাম হায়দরাবাদের বাসিন্দা। প্রায় তিন দশক আগে অস্ট্রেলিয়ায় চলে গেলেও তার কাছে এখনও ভারতীয় পাসপোর্ট রয়েছে। হামলার সময় সন্দেহভাজন সাজিদ আকরাম (৫০) পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। তার ছেলে নাভিদ আকরাম (২৪) বেঁচে গেছে এবং পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান তদন্তকারীরা এই হামলাকে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট গ্রুপ দ্বারা অনুপ্রাণিত একটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে বর্ণনা করেছেন।
তেলেঙ্গানার পুলিশ মহাপরিচালক জানান, ৫০ বছর বয়সী সাজিদ আকরাম হায়দরাবাদের বাসিন্দা। ১৯৯৮ সালের নভেম্বরে প্রাথমিকভাবে ছাত্র ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, চাকরির সন্ধানে ভারত ছেড়ে যাওয়ার আগে সাজিদ হায়দরাবাদে বাণিজ্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে। সাজিদ আকরাম প্রায় ২৭ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছিল। হায়দরাবাদে পরিবারের সঙ্গে খুব কমই যোগাযোগ রাখত। তেলেঙ্গানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন যে, আকরামের ভারতের মৌলবাদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুনঃ আইপিএলের নিলামে সবথেকে মূল্যবান বিদেশি গ্রিন, চমক দুই স্বদেশি ‘আনক্যাপড’ কার্তিক শর্মা ও প্রশান্ত বীরের
২০২২ সালে শেষবার হায়দরাবাদে এসেছিল সাজিদ আকরাম। হায়দরাবাদে থাকলেও ভারতীয় পাসপোর্ট ছাড়েনি। যদিও তার দুই সন্তান অস্ট্রেলিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছে এবং অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তদন্তকারীদের মতে, পারিবারিক বিরোধের কারণে কয়েক বছর আগে হায়দরাবাদে বসবাসকারী তার বড় পরিবারের সঙ্গে আকরামের সম্পর্ক ভেঙে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, হামলার অনেক আগেই আত্মীয়স্বজনরা তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলেছিলেন। পুলিশের মতে, ২০১৭ সালে তার বাবার মৃত্যুর সময় আকরাম তার জানাজায় অংশ নেননি।
অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমানোর পর আকরাম ভেনেরা গ্রোসোকে বিয়ে করে। যাকে পুলিশ ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত মহিলা বলে বর্ণনা করেছে। এই দম্পতির দুটি সন্তান, নাভিদ এবং একটি মেয়ে। পরিবারটি অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।
হামলার আগে নভেম্বর মাসে সাজিদ ও নাভিদ ফিলিপিন্সে গিয়েচিলেন। পুলিশ তাদের ভ্রমণের বিষয়টিও তদন্ত করছে। ফিলিপিন্সের ইমিগ্রেশন ব্যুরো বিবিসিকে নিশ্চিত করেছে যে, সাজিদ আকরাম এবং তার ছেলে ১ নভেম্বর দেশে প্রবেশ করে এবং ২৮ নভেম্বর দেশ ছেড়ে চলে যায়। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমিগ্রেশন মুখপাত্র ডানা স্যান্ডোভালের মতে, সাজিদ আকরাম ভারতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভ্রমণ করেছিল, আর নাভিদ আকরাম অস্ট্রেলিয়ান পাসপোর্ট ব্যবহার করেছিল। অস্ট্রেলীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফিলিপিন্স ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং পরিদর্শন করা স্থানগুলি তদন্তাধীন রয়েছে।