ভিয়েতনামে এক নৌকা দুর্ঘটনায় জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে ১৫ জন ভারতীয় পর্যটকের। এই মর্মান্তিক নৌকা দুর্ঘটনা একটা নতুন মোড় নিয়েছে। ১৫ জন ভারতীয় পর্যটকের প্রাণহানির পর ভিয়েতনাম পুলিশ স্পিডবোটের ক্যাপ্টেনকে আটক করেছে। এই দুর্ঘটনায় নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে। এই নৌকাডুবির ঘটনায় পর্যটকবাহী নৌকাগুলিতে নিরাপত্তা মান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
১১ জুলাই ভিয়েতনামের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ফু কুওক দ্বীপের কাছে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্পিডবোটটিতে ৩২ জন ভারতীয় পর্যটক এবং ৪ জন ভিয়েতনামী নাবিক ছিলেন। উপকূল থেকে কিছুটা দূরেই যাওয়ার পরই স্পিডবোটটি উল্টে যায়। উপকূলে থাকা উদ্ধারকারী দল সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার কাজে নেমে পড়ে। খারাপ আবহাওয়া এবং উঁচু ঢেউয়ের জন্য উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়। যদিও উদ্ধারকারী দল অনেককে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তবে ১৫ জন ভারতীয় পর্যটককে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ভিয়েতনাম পুলিশ ৫৭ বছর বয়সী ক্যাপ্টেন নগুয়েন হং হাইকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে জলপথ নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলো এই দুর্ঘটনাটি শুধুমাত্র খারাপ আবহাওয়ার কারণে ঘটেছে, নাকি নৌকা চালনায় অবহেলার কারণে ঘটেছে, তা নির্ধারণ করার চেষ্টা করছে। কিছু প্রত্যক্ষদর্শী এবং বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা দাবি করেছেন যে, স্পিডবোটটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই উল্টে যায় এবং ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা ছিল না।
ভারতীয় দূতাবাস নিহতদের মরদেহ ভারতে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দুর্ঘটনার কবলে পড়াদের পরিবারকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা প্রদান করছে। ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ক্রুজ বোটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনারও নির্দেস দিয়েছেন। ১৬ জন জীবিত ভারতীয় পর্যটক চিকিৎসার পর দেশে ফিরে এসেছেন এবং একজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, দেশে ফেরত পাঠানোর আগে আনুষ্ঠানিক ময়নাতদন্তের জন্য নিহতদের মরদেহ হো চি মিন সিটিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিককালে ভারতীয় পর্যটকদের কাছে ভিয়েতনাম ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সহজ ভিসা নীতি এবং সরাসরি ফ্লাইটের কারণে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় সেখানে ভ্রমণ করছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং পর্যটন নিরাপত্তা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে যে, ১৫ জন ভারতীয়ের প্রাণহানির ঘটনাটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছিল, নাকি নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের ফল।