ট্রেন্ডিং

Sheikh Hasina Extradition Request

শেখ হাসিনার প্রত্যার্পন চেয়ে ভারতকে চিঠি পাঠাল বাংলাদেশ, না পেলে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিত

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতকে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। শুক্রবারই ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে বিশেষ বাহকের মাধ্যমে এই চিঠি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালিত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা এখবর জানিয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে এই ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

হাসিনাকে কি বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে ভারত?‌

ইনসাইড বাংলা ওয়েব ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ২৪, ২০২৫
Share on:

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতকে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। শুক্রবারই ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে বিশেষ বাহকের মাধ্যমে এই চিঠি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালিত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের বরাত দিয়ে, এখবর জানিয়েছে। যদিও ভারতের পক্ষ থেকে এই ব্যাপারে এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি। 

গতবছর জুলাই–আগস্টে ছাত্র ও জনতার আন্দোলনের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই থেকেই তিনি ভারতের রয়েছেন। হাসিনা এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে গনহত্যার অভিযোগ নিয়ে আসা হয়। ১৭ নভেম্বর বাংলাদেশে বিশেষ ট্রাইবুনাল ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামানকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। হাসিনার শাস্তি কার্যকর করার জন্য এবার তাঁকে ফেরত চেয়ে দিল্লিকে চিঠি পাঠাল বাংলাদেশ।

ভারতের আশ্রয় নেওয়ার পর বিচারের জন্য গত বছর ডিসেম্বরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হাসিনার প্রত্যর্পণের জন্য মৌখিকভাবে ভারতকে একটা কূটনৈতিক নোট পাঠিয়েছিল। ভারত তা গ্রহনের কথা স্বীকার করলেও কোনও মন্তব্য করেনি। তবে ১৭ নভেম্বর বাংলাদেশ ট্রাইবুনাল রায় ঘোষণার কয়েক ঘন্টা পর ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতি জারি করে বলে যে, ‘‌ভারত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল কর্তৃক ঘোষিত রায়ের বিষয়টি লক্ষ্য করেছে।’‌ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘‌একটা ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশ হিসেবে, ভারত বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যার মধ্যে রয়েছে শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি এবং স্থিতিশীলতা। আমরা সর্বদা সেই লক্ষ্যে সকল অংশীদারদের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যোগাযোগ রাখব।’‌ 


আরও পড়ুনঃ পাকিস্তানকে কড়া বার্তা, সংস্কৃতির কথা তুলে ধরে সিন্ধু প্রদেশ দখলের ইঙ্গিত প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের


ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। হাসিনার শাসনকালেই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তিতে বলা আছে, আদালতের রায়ে প্রত্যর্পণ করানোর মতো অপরাধ করে থাকলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এক দেশ অন্য দেশের হাতে তুলে দেবে। তবে কয়েকটা শর্ত রয়েছে। চুক্তিতে স্পষ্ট ভাবে বলা রয়েছে, অপরাধের চরিত্রের বিষয়টি যদি রাজনৈতিক হয়, বিচারের উদ্দেশ্য সৎ না থাকে, তাহলে বন্দিকে প্রত্যর্পণ করা হবে না।

ভারত যদি বন্দি প্রত্যার্পন চুক্তি অনুযায়ী হাসিনাকে ফেরত না পাঠায়, তাহলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইনী উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘‌দণ্ডিত ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যেতে পারি কিনা সেই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আলোচনা করব। আমরা বিশ্বাস করি অপরাধীদের ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ভারতের আলাদা দায়িত্ব রয়েছে।’‌ 


আরও পড়ুনঃ

অন্যান্য খবর

Inside Bangla is a comprehensive digital news platform. This web portal started its humble journey. Its courageous journalism, presentation layout and design quickly won the hearts of people. Our journalists follow the strict Journalism ethics.

Copyright © 2026 Inside Bangla News Portal . All Rights Reserved. Designed by Avquora