মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের মধ্যে ভারতের জন্য সুখবর। ভারতসহ পাঁচটি মিত্র দেশের জাহাজের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিল ইরান। ভারত ছাড়াও রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান এবং ইরাকের জাহাজগুলিকে সংঘাতপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর সংকীর্ণ পথ দিয়ে নিরাপদে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন যে, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ নেই। বেশ কয়েকটা বন্ধু দেশের জাহাজকে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টিভির বরাত দিয়ে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে আরাঘচি বলেন, ‘অনেক জাহাজ মালিক, বা এই জাহাজগুলোর মালিক দেশগুলো আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রণালীটি দিয়ে তাদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করেছে। এই দেশগুলোর মধ্যে যেগুলোকে আমরা মিত্র মনে করি, অথবা অন্য কোনও কারণে আমরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেসব ক্ষেত্রে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দিয়েছে।’
তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে জড়িত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর জাহাজগুলোকে যুদ্ধবিধ্বস্ত জলপথ দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে না। ‘শত্রু দেশগুলোর’ জাহাজ প্রসঙ্গে আরাঘচি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধের মধ্যে আছি। এই অঞ্চলটি একটা যুদ্ধক্ষেত্র, এবং আমাদের শত্রু ও তাদের মিত্রদের জাহাজগুলোকে এর মধ্য দিয়ে যেতে দেওয়ার কোনও কারণ নেই। কিন্তু এটা অন্যদের জন্য উন্মুক্তই থাকছে।’
প্রায় পাঁচ দশক পর হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের দেখানো কর্তৃত্বের বিষয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আরাঘচি। তিনি বলেন, ইরান যখন আংশিক অবরোধের কথা ঘোষণা করেছিল, তখন বিশ্বের অনেক দেশই তা বিশ্বাস করেনি এবং এই সিদ্ধান্তকে ধাপ্পাবাজি ভেবেছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর তার শক্তি ও কর্তৃত্ব প্রদর্শন করেছে।
আরাঘচি বলেন, ‘অনেক দেশ ভেবেছিল হরমুজ বন্ধ করার সাহস ইরানের নেই। কিন্তু আমরা তা শক্তি দিয়ে করেছি। এটা থামাতে শত্রুপক্ষ সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিল, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। তারা এমনকি অন্যান্য দেশের কাছেও সাহায্য চেয়েছিল। তারা যাদেরকে নিজেরা শত্রু মনে করে, তাদের কাছেও এই জলপথটি পুনরায় চালু করতে সাহায্যের জন্য আবেদন করেছিল। কিন্তু কেউ সাড়া দেয়নি, কারণ এটা করা একেবারেই সম্ভব নয়।’
হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় ভারতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)-এর সরবরাহ ঘাটতি দেখা দেয়। কারণ ভারতের মোট এলপিজির প্রায় ৯০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়েই আমদানি করত। এই ঘাটতি ছোট রাস্তার বিক্রেতা থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁর মালিক পর্যন্ত সমাজের এক বিশাল অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তবে শীঘ্রই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে। কারণ এলপিজি নিয়ে হরমুজে আটকে থাকা নন্দা দেবী ও শিবালিকসহ বেশ কয়েকটি জাহাজকে প্রণালীটি দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হয়। জাহাজগুলো কয়েক সপ্তাহ আগে ভারতে এসে পৌঁছেছে।