হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ফিলিস্তিনের ওপর ইজরায়েলের হামলা যেন আরও বেড়ে গেছে। বুধবার গাজা জুড়ে ইজরায়েলের ভয়ঙ্কর হামলায় কমপক্ষে ২৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে যে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে কর্মরত ইজরায়েলি সেনাদের ওপর কয়েকজন সন্ত্রাসী গুলি চালানোর পর তারা হামাসের লক্ষ্যবস্তুতে এই হামলা চালায়। হামাস অবশ্য ইজরায়েলের সেনার ওপর হামলা দাবি উড়িয়ে দিয়েছে এবং এই হামলাকে ‘বিপজ্জনক পরিস্থিতির অবনতি’ হিসাবে নিন্দা করেছে।
গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, বুধবারের সবচেয়ে মারাত্মক হামলাটি ছিল গাজার পূর্বাঞ্চলের জায়তুন এলাকায়। এই অঞ্চলে ইজরায়েলি বাহিনী বিমান থেকে বোমা নিক্ষেপ করে। হামলা এখানে একজন মহিলা এবং একজন শিশুসহ ১০ জন নিহত হয়েছেন। সিভিল ডিফেন্স আরও জানিয়েছে, খান ইউনিসের পশ্চিমে অবস্থিত এক এলাকায় আরেকটি বিমান হামলা চালানো হয়। নিকট প্রাচ্যে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্ম সংস্থা UNRWA–র ভেতরে থাকা একদল বেসামরিক নাগরিককে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
বুধবার ইসরায়েলি হামলার পর গাজার খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে আহত ফিলিস্তিনিদের নিয়ে আসা হয়। বুধবারের হামলায় নিহতদের মধ্যে ৯ জন শিশু ছিল বলে জানিয়েছেন ছিটমহলের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। কমপক্ষে ৭৭ জন আহত হয়েছেন। গাজা শহরের আল–আহলি ব্যাপটিস্ট হাসপাতাল কমপ্লেক্সে তোলা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে যে হামলায় আহতদের বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সগুলির চারপাশে কয়েক ডজন লোক ভিড় করছে এবং হাসপাতালের ভেতরে মৃতদেহের পাশে বেশ কয়েকজন বসে রয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ হতাশায় মৃতদেহের ব্যাগের দিকে তাকিয়ে আছেন। একটা বডি ব্যাগে তিনটি প্রাণহীন শিশুর মৃতদেহ রয়েছে।
অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় এই হামলা ছিল তৃতীয় বড় ধরনের হামলা। এর আগে ১৯ এবং ২৮ অক্টোবর হামলায় প্রায় ১৫০ জন ফিলিস্তিনি এবং তিনজন ইজরায়েলি সেনা নিহত হয়েছিল। আরেকটা পৃথক ঘটনায়, ইজরায়েল দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অস্ত্র মজুদস্থল বলে দাবি করা স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে।
এদিকে হামাস, ইজরায়েল সেনার ওপর হামলার ব্যাপারে আইডিএফের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে। বলেছে, ‘ইজরায়েল তার চলমান অপরাধ এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনকে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা করছে।’ যুদ্ধবিরতিকে সম্মান করতে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে আগ্রাসন বন্ধ করতে ইজরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগ করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হামাসরা।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, লেবাননের একটা ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইজরায়েলি হামলায় ১৩ জন নিহত হওয়ার একদিন পর গাজায় এই হামলা চালানো হল। আইডিএফ জানিয়েছে, মঙ্গলবারের হামলায় হামাসের একটা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র টার্গেট করা হয়েছিল, যেটা আইডিএফ এবং ইজরায়েল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা এবং পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল।
বুধবার ইজরায়েল দক্ষিণ লেবাননে আরও হামলা চালায়। ইজরায়েলের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, হিজবুল্লাহর রকেট ইউনিটের বেশ কয়েকটি অস্ত্র সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় জাতীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, এই হামলায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি তবে বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।