ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।
বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য অবশেষে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দিল ইরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এখন থেকে সব জাহাজ কোনও সমস্যা ছাড়াই হরমুজ দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে। লেবাননের সঙ্গে ইজরায়েলের যুদ্ধবিরতি চুক্তি সাক্ষরিত হওয়ার পরই হরমুজ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। মার্কিন হামলা প্রতিহত করতে ইরান ৬ মার্চ হরমুজ প্রণালী অবরোধ করেছিল। ইরানের এই ঘোষণার ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি বলেন, ‘লেবাননের সঙ্গে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি বলবৎ থাকা পর্যন্ত সকল বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধে চলাচল করতে পারবে। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থা কর্তৃক ঘোষিত সমন্বিত পথ দিয়েই সকল জাহাজ চলাচল করতে পারবে।’ তবে হরমুজ খুলে দেওয়া হলেও ইরান শর্ত দিয়েছে, আপাতত আরব দেশগুলি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর কোনো জাহাজ হরমুজ দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে না। তবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে। সেক্ষেত্রে তাদের ইরানের আইআরজিসি–র সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে।
এদিকে, বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য ইরানের হরমুজ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন। ট্রুথ–এ তিনি লিখেছেন, ‘হরমুজ খুলে দেওয়া হয়েছে। তারজন্য ইরানকে ধন্যবাদ। কিন্তু নৌ অবরোধটি পুরোপুরি কার্যকর থাকবে এবং শুধুমাত্র ইরানের ক্ষেত্রেই তা বলবৎযোগ্য হবে। ইরানের সঙ্গে আমাদের আলোচনা ১০০ ভাগ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এটি বহাল থাকবে। এই প্রক্রিয়াটি খুব দ্রুত এগিয়ে যাওয়া উচিত, কারণ বেশিরভাগ বিষয়েই ইতোমধ্যে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।’
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপে লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে ইজরায়েল। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইজরায়েলের ওপর টানা হামলা চালিয়ে আসছিল হিজবুল্লাহ। ইজরায়েলও লেবাননেন ওপর পাল্টা হামলা চালায়। তেহরান পরিস্কার জানিয়েছিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তারা শান্তি আলোচনায় বসতে পারে, যদি লেবাননের ওপর ইজরায়েল হামলা বন্ধ করে। আমেরিকার চাপেই লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে ইজরায়েল।
ইরান কেন ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল? প্রথমত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুদিন আগে হরমুজ প্রণালীর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চীনের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা অবরোধ তুলে নেব। হরমুজ সংক্রান্ত আমাদের প্রস্তাবে ইরান রাজি হয়েছে। চীনও আমাদের প্রস্তাবে রাজি হয়েছে।’
দ্বিতীয়ত, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের ওপর চাপ ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল যে, ইরান হরমুজ প্রণালী খুললেই কেবল যুদ্ধবিরতি আলোচনা এগোবে। রয়টার্স জানিয়েছে যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে একটা চুক্তিতে পৌঁছেছে। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হয়।
তৃতীয়ত, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের ওপর চাপ ছিল। হরমুজ প্রণালী খোলার বিষয়ে আলোচনার জন্য প্যারিসে ৪০টি দেশের একটা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফ্রান্স ও ব্রিটেনের মতো দেশগুলোর নেতারা এই বৈঠকে যোগ দেবেন। একসঙ্গে এতগুলো দেশের বৈরিতার সম্মুখীন হওয়ার সামর্থ্য ইরানের নেই। এছাড়া, ওমান সম্প্রতি টোল আরোপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। এতে ইরানের ওপর চাপ বেড়েছে।