ট্রেন্ডিং

Afghanistan suffering from Starvation

আফগানিস্তানে অনাহারের শিকার ৪৭ লক্ষ মানুষ, বাঁচার জন্য নিজেদের সন্তান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন মানুষ

দারিদ্র্য ও ক্ষুধার সংকট উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে আফগানিস্তানে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, অন্ন সংস্থান করতে না পেরে অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। জাতিসংঘের মতে, এই মুহূর্তে দেশটিত প্রায় ৪৭ লক্ষ মানুষ অনাহারের শিকার হয়েছে, যা আফগানিস্তানের মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশেরও বেশি।

অনাহারে সন্তানদের বিক্রি করে দিচ্ছেন আফগানরা।

ইনসাইড বাংলা ওয়েব ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১৯, ২০২৬
Share on:

দারিদ্র্য ও ক্ষুধার সংকট উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে আফগানিস্তানে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, অন্ন সংস্থান করতে না পেরে অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। জাতিসংঘের মতে, এই মুহূর্তে দেশটিত প্রায় ৪৭ লক্ষ মানুষ অনাহারের শিকার হয়েছে, যা আফগানিস্তানের মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশেরও বেশি।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি আফগানিস্তানের ঘোর প্রদেশে। প্রতিদিন সকালে শত শত মানুষ কাজের সন্ধানে রাস্তার পাশে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। কিন্তু তাদের মধ্যে বেশিরভাগই কোনও কাজ পায় না। বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ৪৫ বছর বয়সী জুমা খান বলেছেন যে, তিনি গত দেড় মাসে মাত্র তিন দিন কাজ পেয়েছেন। তাঁর সন্তানরা টানা তিন রাত না খেয়ে ঘুমিয়েছে। আটা কেনার জন্য প্রতিবেশীর কাছ থেকে টাকা ধার করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

জুমা খান তো শুধু একটা উদাহরণ মাত্র। এই রকম হাজার হাজার জুমা খান রয়েছেন আফগানিস্তানে। একই অবস্থা রাবানির পরিবারেও। তাঁর সন্তানরা দুদিন ধরে ক্ষুধার্ত রয়েছে জেনে আত্মহত্যা করার কথা ভেবেছিলেন রাবানি। বৃদ্ধ খাজা আহমেদ বার্ধক্যের কারণে কাজ পান না। তাঁর পরিবারও ক্ষুধার্ত। স্থানীয় একটা বেকারিতে বাসি রুটি বিতরণ করা হলে, লোকেরা তা নেওয়ার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে। 

গ্রামগুলোর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। আব্দুল রশিদ আজিমী নামে এক ব্যক্তি জানান, তিনি তাঁর ৭ বছর বয়সী দুই যমজ মেয়েকে বিক্রি করে দিতে প্রস্তুত। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বিবিসিকে বলেন, ‘‌মেয়েদের খাওয়ানোর মতো কোনও খাবার আমার কাছে নেই। গোটা পরিবার মাঝে মাঝে শুধু রুটি আর গরম পানি খেয়ে বেঁচে আছি।’‌ 


বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুসারে, সাঈদ আহমেদ নামের এক ব্যক্তি তাঁর পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে শাইকাকে চিকিৎসার খরচ জোগাতে এক আত্মীয়ের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। মেয়েটি অ্যাপেন্ডিসাইটিস ও লিভারের রোগে ভুগছিল এবং তার চিকিৎসার খরচ করার মতো টাকা সাঈদের কাছে ছিল না। সাঈদ জানান, তিনি দুই লাখ আফগানির বিনিময়ে তাঁর মেয়েকে বিক্রি করে দিয়েছেন। বর্তমানে তার চিকিৎসার জন্য কিছু টাকা নেওয়া হয়েছে এবং পাঁচ বছর পর মেয়েটিকে তার আত্মীয়ের বাড়িতে ফেরত পাঠানো হবে।

আগে আফগানিস্তানের লক্ষ লক্ষ মানুষ বিদেশ থেকে খাদ্য সহায়তা পেত, যার মাধ্যমে তাদের আটা, তেল, ডাল এবং শিশুদের জন্য পুষ্টিকর সম্পূরক খাদ্য সরবরাহ করা হত। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ এই সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে। জাতিসংঘের মতে, ২০২৫ সালের তুলনায় এ বছর বৈদেশিক সহায়তা ৭০% কমে গেছে। খরা, বেকারত্ব এবং মুদ্রাস্ফীতি আপগানিস্তানের পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলেছে।

অপুষ্টিতে ভুগছে এমন শিশুর সংখ্যা হাসপাতালগুলিতে দ্রুত বাড়ছে। অনেক নবজাতক শ্বাসকষ্টে ভুগছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, দারিদ্র্য এবং ওষুধের অভাব শিশুমৃত্যু বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। অনেক পরিবার চিকিৎসার খরচ বহন করতে না পারায় অসুস্থ সন্তানদের হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন বহু শিশু মারা যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি ক্রমাগত খারাপ হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ

অন্যান্য খবর

Inside Bangla is a comprehensive digital news platform. This web portal started its humble journey. Its courageous journalism, presentation layout and design quickly won the hearts of people. Our journalists follow the strict Journalism ethics.

Copyright © 2026 Inside Bangla News Portal . All Rights Reserved. Designed by Avquora