নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাংলাদেশ। তবে তারেকের শপথে হাজির থাকছেন না মোদী। তাঁর পরিবর্তে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ব্যস্ততার কারণেই বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথগ্রহন অনুষ্ঠানে যেতে পারছেন না নরেন্দ্র মোদী।
ভারত সফরে আসছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো। ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বইয়ে আগে থেকেই তাঁর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ঠিক হয়ে রয়েছে। এছাড়াও দিল্লিতে রয়েছে আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন। এই তুমুল ব্যস্ততার ফলে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারছেন না মোদী। অনায়াসে ভারত তারেকের শপথগ্রহন অনুষ্ঠান এড়িয়ে যেতে পারত। কিন্তু তা না করে দুই দেশের সম্পর্ককে গুরুত্ব দিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস যে ১৩টি দেশকে তারেক রহমানের শপথ গ্রহন অনুষ্ঠানে হাজির থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, তার মধ্যে ভারতও রয়েছে। অন্যান্য দেশগুলি হল চীন, সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ এবং ভুটান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ঢাকায় এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। নরেন্দ্র মোদী অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়ায় তাঁর সঙ্গে এক মঞ্চে থাকার মতো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিও এড়ানো গেল।
তারেক রহমানের শপথ গ্রহন অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ গ্রহন করে বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকে ঢাকাকে জানানো হয়েছে, পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচীর কারণে মঙ্গলবারের শপথ গ্রহন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যোগ দিতে পারছেন না। তবে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে পাঠানো হচ্ছে। বিড়লার সঙ্গে বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রিকে ঢাকায় পাঠানো হবে। বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা যাতে সেরে আসা যায়, তারজন্য বিক্রম মিস্রিকে পাঠানো হচ্ছে।
শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিপুল পরিমানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। দলের চেয়ারপার্সন এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন। লন্ডনে ১৭ বছর স্বেচ্ছা নির্বাসনে কাটানো তারেক রহমান বাংলাদেশের নতুন নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তাঁর বাবা জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দলটি দুই দশক পর আবার ক্ষমতায় ফিরে এসেছে।
জাতীয় নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি একাই ২০৯টি আসন জিতেছে। পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ বলে বিবেচিত ডানপন্থী জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন জিতেছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেওয়া হয়নি। শুক্রবার ফল ঘোষণার পর বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুই দেশের জনগণের শান্তি, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধির প্রতি ভারতের অব্যাহত প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
ফোনে কথা বলার পর এক্স–এ মোদী লেখেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে তাঁর প্রচেষ্টায় আমি আমার শুভেচ্ছা এবং সমর্থন জানাই। গভীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দুই প্রতিবেশী হিসেবে, আমি আমাদের উভয় দেশের জনগণের শান্তি, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধির প্রতি ভারতের অব্যাহত প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছি।’ অন্য এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদী লিখেছেন যে, তিনি অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে তাঁর সঙ্গে কাজ করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
নির্বাচনে জয়ের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রথম সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ দিল্লির প্রতি তার পররাষ্ট্র নীতির ভিত্তিপ্রস্তর হবে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এবং এর জনগণের স্বার্থ আমাদের পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণ করবে।’ তারেক রহমান ভারত, চীন এবং পাকিস্তানের মতো আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চান এবং কোনও দেশকে প্রভু হিসেবে দেখেন না।
এদিকে, বিএনপি বলেছে যে তারা দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি যৌথ প্রতিশ্রুতি সহ ভারতের সাথে গঠনমূলক যোগাযোগের জন্য উন্মুখ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এক্স–এ পোস্টের জবাবে দলটি লিখেছে, ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের উদ্বেগের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং আমাদের অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির জন্য একটি যৌথ প্রতিশ্রুতি দ্বারা পরিচালিত আমাদের বহুমুখী সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে আমরা ভারতের সাথে গঠনমূলকভাবে জড়িত হওয়ার জন্য উন্মুখ।’