প্রস্তাবটি উত্থাপনের সময় তেহরিখ–ই–ইনসাফের আইনপ্রণেতারা আইনসভায় হাজির ছিলেন না। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠক নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তাঁরা অধিবেশন বর্জন করেন।
প্রস্তাবে বলা হয়, ‘সেনাবাহিনীর মতো প্রতিষ্ঠান প্রতিটি ক্ষেত্রে দেশকে রক্ষা করেছে। ভারতের মতো পাঁচ গুণ বড় শত্রুকে সফলভাবে প্রতিরোধ করেছে। দেশের অখণ্ডতা ও স্থিতিশীলতার জন্য সেনাবিহীনর ভূমিকা অনস্বীকার্য। কিন্তু তেহরিক–ই–ইনসাফ শত্রুরাষ্ট্রের হাতিয়ার হয়ে কাজ করেছে। এই কারণে ওই রাজনৈতিক দল এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত। দলের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে দেশবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার এবং বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।’ রাজনৈতিক দল ও দলের নেতার বিরুদ্ধেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং শাস্তি দেওয়ার প্রস্তাবও করা হয়েছে।
তেহরিক–ই–ইনসাফ ও ইমরান খানকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও পাঞ্জাব আইনসভার তথ্যমন্ত্রী আজমা বোখারির অবশ্য প্রস্তাবে সায় নেই। এই ব্যাপারে সাংবাদিকদের তিনি বলেম, ‘কোনও রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা বা কোনও প্রদেশে গভর্নরের শাসন আরোপের আমি পক্ষপাতি নই।’ দেশের সরকারে থাকা বর্তমান শাসক দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ–নওয়াজ (পিএমএল-এন)–এর সঙ্গে তেহরিক–ই–ইনসাফ পার্টির চরম রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ জীবনের লড়াইয়ে জয়ী হয়ে রাষ্ট্রপতির হাত থেকে জাতীয় হস্তশিল্প পুরস্কার নিলেন মণিপুরের প্রতিবন্ধী মহিলা
তবে প্রাদেশিক তথ্যমন্ত্রী আজমা বোখারি সতর্ক করে বলেছেন, পিটিআইয়ের সাম্প্রতিক কার্যক্রম সরকারকে কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহনের পথে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘পিটিআই যদি নিজের পথ পরিবর্তন না করে, তবে সরকার দলটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার কথা বিবেচনা করতে পারে।’ ইমরান খানের তীব্র সমালোচনা করে আজমা বোখারি আরও বলেন, ‘আদিয়ালা কারাগারের বন্দী এখন কার্যত ‘আলতাফ হুসাইন পার্ট টু’ হয়ে গেছেন। পাকিস্তান–ভারত সংঘর্ষের সময় পিটিআই প্রতিষ্ঠাতার নীরবতা রাষ্ট্রবিরোধী আচরণের সমতুল্য।’
এদিকে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের দাবিতে আদিয়ালা কারাগারের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক–ই–ইনসাফের নেতা–কর্মীরা। বিক্ষোভকারীদের হঠাতে পুলিশ তাঁদের ওপর জলকামান ব্যবহার করে। বিক্ষোভকারীরা সাময়িক ছত্রভঙ্গ হলেও আবার জেলের সামনে হাজির হয়। সমর্থদের এই বারবার বিক্ষোভের কারণে ইমরান খানকে আদিয়ালা জেল থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে পাকিস্তান সরকার। অন্য একটা কারাগারে স্থানান্তরিত করা হতে পারে।
পাঞ্জাব সরকার এই বিষয়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ করছে বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক সমন্বয়ক ইখতিয়ার ওয়ালি খান বলেছেন যে, বিক্ষোভগুলি দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করেছে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। প্রতিবেদনে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে পুলিশ ইমরান খানের বোন এবং সমর্থকদের সাক্ষাতের অনুমতি না দেওয়ার পর তাদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য জলকামান ব্যবহার করেছে।