জানুয়ারিতে দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম মঞ্চে শান্তি বোর্ড গঠন করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যান্য দেশের সঙ্গে ভারতকেও আমন্ত্রন জানানো হয়েছিল। কিন্তু ভারত যোগ দেয়নি। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত শান্তি বোর্ডের প্রথম বৈঠকে পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে যোগ দিল ভারত। বৈঠকে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন ওয়াশিংটন ডিসির ভারতীয় দূতাবাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত নামগা সি খাম্পা।
শান্তি বোর্ডে যোগদানের জন্য মার্কিন আমন্ত্রণ পর্যালোচনা করার এক সপ্তাহ পর প্রথম বৈঠকে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। গত মাসে দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে শান্তি বোর্ড গঠন করার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়েছিলেন, সবাইকে এই সংস্থার অংশ করতে, যাতে জাতিসংঘের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যায়। এই শান্তি বোর্ডকে প্রাথমিকভাবে এমন একটা সংস্থা হিসাবে ভাবা হয়েছিল, যা গাজায় ইজরায়েল এবং হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি তত্ত্বাবধান করবে। একই সঙ্গে গাজার পুনর্গঠন করবে এবং গাজা উপত্যকার শাসনব্যবস্থায় ভূমিকা পালন করবে। তখন থেকেই এই শান্তি বোর্ডের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের আগ্রহ বেড়ে গেছে।
ওয়াশিংটনের ইউএস ইনস্টিটিউট অফ পিসে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রায় ৫০টি দেশের কর্তারা অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে আজারবাইজান, বেলারুশ, মিশর, হাঙ্গেরি, ইন্দোনেশিয়া, ইজরায়েল, জর্ডন, মরক্কো, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, উজবেকিস্তান এবং ভিয়েতনামসহ ২৭টি দেশ বোর্ডের সদস্য। ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বাকিরা পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশগ্রহণ করে।
শান্তি বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পাওয়ার পর ভারত তা গ্রহণ করবে কিনা সে বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেনি এবং দাভোসে এর উদ্বোধন থেকেও দূরে ছিল। এরপর, ১২ ফেব্রুয়ারি বিদেশ মন্ত্রক জানায় যে, শান্তি বোর্ডে যোগদানের প্রস্তাবটি বিবেচনাধীন রয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘ভারত সর্বদা পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে। শান্তি বোর্ডে যোগদানের জন্য মার্কিন সরকারের কাছ থেকে আমন্ত্রণ পেয়েছি। আমরা বর্তমানে এই প্রস্তাবটি বিবেচনা এবং পর্যালোচনা করছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী গাজাসহ সমগ্র অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী এবং স্থায়ী শান্তির পথ প্রশস্তকারী সকল উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাই, শান্তি বোর্ডে যোগদানের আমন্ত্রণের বিষয়ে, আমরা বর্তমানে এটি পর্যালোচনা করছি।’
বৃহস্পতিবারের বৈঠকে চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্সের উপস্থিতি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ভারত এখনও পূর্ণাঙ্গ সদস্য হতে প্রস্তুত না হলেও বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ইচ্ছুক। বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, কাজাখস্তান, আজারবাইজান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, মরক্কো, বাহরিন, কাতার, সৌদি আরব, উজবেকিস্তান এবং কুয়েত, নয়টি সদস্য দেশ গাজার জন্য ত্রাণ প্যাকেজে ৭ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি আরও ঘোষণা করেন যে, আমেরিকা শান্তি বোর্ডের জন্য ১০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তবে এই অর্থ কী ব্যয় করা হবে তা নির্দিষ্ট করে বলেননি।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল জ্যাসপার জেফার্স বলেছেন, মরক্কো, কাজাখস্তান, কসোভো এবং আলবেনিয়া গাজায় হাজার হাজার সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, অন্যদিকে মিশর এবং জর্ডন জানিয়েছে যে তারা কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেবে। ট্রাম্প জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিপক্ষ হিসেবে বোর্ডকে ব্যবহার করতে চান।