ট্রেন্ডিং

20,000 Palestinian children killed in targeted Gaza attacks

ইজরায়েলি হামলায় গাজাতে নিহত ২০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি শিশু, চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট জাতিসংঘের

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ৭ অক্টোবরের মধ্যে ইজরায়েলি বাহিনীর চালানো পরিকল্পিত ও লক্ষ্যবস্তুভিত্তিক হামলায় ২০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। এমনই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট দিয়েছে জাতিসংঘ নিয়োজিত এক কমিশন। ওড়িশা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি শ্রীনিবাসন মুরলিধরের সভাপতিত্বে গঠিত স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের ১০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গাজায় নষ্ট হয়েছে শিশুদের ভবিষ্যত।

ইনসাইড বাংলা ওয়েব ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২৫, ২০২৬
Share on:

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ৭ অক্টোবরের মধ্যে ইজরায়েলি বাহিনীর চালানো পরিকল্পিত ও লক্ষ্যবস্তুভিত্তিক হামলায় ২০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। এমনই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট দিয়েছে জাতিসংঘ নিয়োজিত এক কমিশন। ওড়িশা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি শ্রীনিবাসন মুরলিধরের সভাপতিত্বে গঠিত স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের ১০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার ওপর ইজরায়েলের পরিকল্পিত হামলায় ২০১৭৯ জন শিশু নিহত এবং ৪৪১৪৩ জন আহত হয়েছে।

জেনেভায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে শ্রীনিবাসন মুরালিধর জানান, কমিশন ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে ফিলিস্তিনি শিশুদের ইচ্ছাকৃত ও লক্ষ্য করে হত্যার অকাট্য প্রমাণ পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘‌কমিশনের অনুসন্ধানে ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর ইজরায়েলি বাহিনীর নির্যাতন, অমানবিক ও অবমাননাকর আচরণের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতাও রয়েছে। সেইসঙ্গে শিশুদের জন্য অপরিহার্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যেমন এতিমখানা, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল ইজরায়েলি বাহিনী। এই বিষয়টিও কমিশনের তদন্তে উঠে এসেছে।’‌ মুরলিধর আরও বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে শিশুদের ব্যাপক ও পরিকল্পিতভাবে হত্যা ও ক্ষতিসাধন করা হয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর হামাসের ইজরায়েল আক্রমণের পর থেকে ইজরায়েলি বাহিনীর দ্বারা ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অপরাধগুলি খতিয়ে দেখেছে কমিশন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্যালোচনাধীন দুই বছরের সময়কালে গাজায় নিহতদের ৩০ শতাংশ এবং আহতদের ২৬ শতাংশই ছিল শিশু। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর পর্যন্ত গাজার জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই ছিল ১৮ বছরের কম বয়সী এবং এই শিশুরা বারবার সংঘাত ও মানসিক আঘাতের সম্মুখীন হয়ে অবরোধ ও দখলদারিত্বের অধীনে জীবন কাটিয়েছে। 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শিশুদের নিহতের হার ২০০৮–০৯ এবং ২০১৪ সালের তুলনায় বেশি। এতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর নাগাদ গাজায় নিহত শিশুরা এই অঞ্চলের ১২ লক্ষ শিশু জনসংখ্যার প্রায় ২ শতাংশ।  নিহতদের মধ্যে অন্তত ৫০৩১ জন ছিল পাঁচ বছরের কম বয়সী, যার মধ্যে ১০২৯ জন ১ বছরের কম বয়সী এবং প্রায় ৪২০ জন নবজাতক। কমিশন বলেছে যে, নিহত ও আহত শিশুদের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চয়ই আরও বেশি এবং ‘‌সেভ দ্য চিলড্রেন’‌–এর উদ্ধৃতি দিয়ে অনুমান করেছে যে ৫১৬০ জন শিশু ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে।


মুরালিধর বলেন, কমিশনের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, ‌ইজরায়েল জনসংখ্যার প্রাণশক্তি দুর্বল করতে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অস্বীকার করতে শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানায়।‌ তিনি বলেন, ‘‌প্রতিবেদনে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া গেছে যে, ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হত্যা করেছে এবং তাদের শৈশব ধ্বংস করেছে। তারা গাজা উপত্যকায় নিপীড়ন ও যুদ্ধাপরাধসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীরে যুদ্ধাপরাধের জন্য দায়ী।’‌ মুরলিধর যোগ করেছেন, ‘‌ফিলিস্তিনি শিশু ও গর্ভবতী নারীদের সুরক্ষা, যত্ন এবং বেঁচে থাকা ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ইজরায়েল ফিলিস্তিনি সমাজের মৌলিক কাঠামোকে ধ্বংস করেছে, জনসংখ্যার প্রাণশক্তিকে দুর্বল করছে এবং একটা জাতি হিসেবে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার টিকিয়ে রাখা ও প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনি জনগণের সামগ্রিক সক্ষমতাকে খর্ব করছে।’‌ 

প্রতিবেদনে ইজরায়েলকে গাজায় সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করতে এবং ফিলিস্তিনি শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জন্য দায়ী সকলকে জবাবদিহি করার আহ্বান করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ব্যক্তিগত অপরাধী এবং রাজনৈতিক বা সামরিক নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত। এতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে ইজরায়েলের সঙ্গে সব দ্বিপাক্ষিক সামরিক সম্পর্কিত বাণিজ্য নিষিদ্ধ করতে এবং ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে বা তার পর থেকে গাজায় কর্মরত ইজরায়েলি কমান্ড পদে থাকা কর্মকর্তা, ইজরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর নেতৃত্ব, সামরিক কমান্ডার এবং সৈন্যদের ওপর অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ভ্রমণ , সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং আর্থিক বিধিনিষেধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইজরায়েল অবশ্য জাতিসংঘের গঠিত কমিশনের এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। এই প্রতিবেদনকে ‘‌মানহানিকর প্রহসন’‌ বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা বলেছে, ‘‌সিওআই একটা ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থা, যার মূল উদ্দেশ্যই হল সত্য অনুসন্ধানের পরিবর্তে ইজরায়েলকে একঘরে করে তার বদনাম করা। আরও বলেছে, প্রতিবেদনটি হামাসের হাতে নৃশংসভাবে খুন, অপহরণ ও আক্রমণের শিকার হওয়া ইজরায়েলি শিশুদের কথা পুরোপুরি উপেক্ষা করেছে। হামাসরা ফিলিস্তিনি শিশুদের যেভাবে ঢাল ও যুদ্ধের ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছিল, তা এড়িয়ে গেছে।

আরও পড়ুনঃ

অন্যান্য খবর

Inside Bangla is a comprehensive digital news platform. This web portal started its humble journey. Its courageous journalism, presentation layout and design quickly won the hearts of people. Our journalists follow the strict Journalism ethics.

Copyright © 2026 Inside Bangla News Portal . All Rights Reserved. Designed by Avquora