অভিবাসন সংক্রান্ত ব্যাপারে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। কদিন আগে ১৯টি দেশের ওপর অভিবাসন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এবার আরও ৩০টি দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনই জানিয়েছেন মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা মন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়াম। তবে নতুন কোনও দেশের নাম সংযোজন হবে না।
মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা মন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়াম বৃহস্পতিবার বলেছেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন তাদের বর্তমান ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ১৯টি দেশ থেকে আরও ৩০টিরও বেশি করার পরিকল্পনা করেছে। যদিও কোন কোন দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে, নোয়াম সেই দেশগুলির নাম উল্লেখ করেননি। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, সংখ্যাটি ৩০ ছাড়িয়ে যাবে। ‘দ্য ইনগ্রাহাম অ্যাঙ্গেল’–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নোয়াম বলেন, ‘কতগুলি দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হচ্ছে, তা আমি নির্দিষ্ট করে বলব না, তবে ৩০টিরও বেশি দেশের ওপর বলবৎ হবে। প্রেসিডেন্ট দেশগুলির ব্যাপারে মূল্যায়ন চালিয়ে যাচ্ছেন।’
সম্প্রতি ওয়াশিংটন ডিসি-তে আফগান সন্ত্রাসীর বন্দুক হামলার পর তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলির নাগরিকদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমনের ব্যাপারে কঠোর হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমাদের জাতিকে খুনি এবং নেশাগ্রস্তদের দ্বারা প্লাবিত করে এমন প্রতিটি জঘন্য দেশের ওপর সম্পূর্ণ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল।" হোয়াইট হাউস একটা ঘোষণাপত্র জারি করে ১৯টি দেশের তালিকা প্রকাশ করে। যার বেশিরভাগই আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের, যারা সম্পূর্ণ বা আংশিক মার্কিন অভিবাসন বিধিনিষেধের মুখোমুখি। ওয়াশিংটন ডিসিতে সাম্প্রতিক গুলিতে একজন ন্যাশনাল গার্ড সদস্য নিহত এবং আরেকজন আহত হওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি একজন আফগান নাগরিক।
নোয়াম এবং ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে যে, তারা পূর্ববর্তী নীতিমালার অধীনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসীদের, বিশেষ করে নিষিদ্ধ তালিকায় থাকা দেশগুলির অভিবাসীদের জন্য যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করছে।
ট্রাম্প সম্প্রতি তার অভিবাসন সংক্রান্ত বক্তব্য আরও তীব্র করে তুলেছেন। তিনি বলেছেন যে, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলি থেকে স্থায়ীভাবে অভিবাসন বন্ধ করতে চান এবং বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসকারী লক্ষ লক্ষ অভিবাসীকে নির্বাসিত করতে চান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধ, আবাসন সংকট এবং সামাজিক কর্মহীনতার জন্য অভিবাসীদের দায়ী করেছেন ট্রাম্প।