প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ মামলায় বড় স্বস্তি রাজ্য সরকারের। বুধবার কলকাতা হাই কোর্ট সিঙ্গলস বেঞ্চের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলির নির্দেশ খারিজ করে দিল। ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বহাল রাখল ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ৯ বছর পর একসঙ্গে এতজনের চাকরি বাতিল হলে বিরূপ প্রভাব পড়বে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে দুর্নীতির কথা মেনে নিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের রায়ে উচ্ছ্বাস শিক্ষকমহলে। খুশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও।
২০১৪ সালে প্রাথমিক টেট পরীক্ষার ভিত্তিতে ২০১৬ সালে ৪২৫০০ জন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়। ২০২৩ সালের ১২ মে কলকাতা হাই কোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলির সিঙ্গলস বেঞ্চ দুর্নীতির কারণে ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল করে। সিঙ্গলস বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। চাকরিহারাদের একাংশও আলাদা করে মামলা করে।
বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলির রায়ের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেয় বিচারপতি সুব্রত তালুকদার এবং বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ। পরে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। দেশের শীর্ষ আদালত নতুন করে ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগের নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়। সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি আবার হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে ফেরত পাঠায়। এরপর মামলাটি ওঠে বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চে। কিন্তু মামলা থেকে সরে দাঁড়ান বিচারপতি সৌমেন সেন। ১২ নভেম্বর বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি শেষ হয়। প্রায় তিন সপ্তাহ পরে এল বহু প্রতীক্ষিত রায়।
আরও পড়ুনঃ সিবিআই তদন্তের মতোই অশ্বডিম্ব প্রসব করবে এসআইআর
আরও পড়ুনঃ দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়ম, উপাচার্যের অপসারণের দাবি, তেজপুর বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিল পড়ুয়ারা
মামলার শুনানিতে হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, দুর্নীতি হয়েছে বলে সকলের চাকরি বাতিল করা যায় না। ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, ‘২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সাল, প্রায় ৯ বছর চাকরি করার পর যদি কারও চাকরি বাতিল হয়, তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। চাকরি করার সময় ওই চাকরিপ্রার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠেনি। কয়েক জনের জন্য গোটা নিয়োগপ্রক্রিয়ার ক্ষতি করা যায় না।’ ডিভিশন বেঞ্চের রায়ে স্বস্তিতে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক।
বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলির চাকরি বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে বারবার সরব হয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। অভিজিৎ গাঙ্গুলির নির্দেশ খারিজ হওয়ায় তিনি খুশি। ডিভিশন বেঞ্চের রায় ঘোষণা হওয়ার পর মমতা বলেন, ‘কথায় কথায় কোর্টে গিয়ে চাকরি খেয়ে নেওয়া, এটা তো ঠিক নয়। চাকরি তো দেওয়া দরকার, খেয়ে নেওয়া নয়। বিচার বিচারের মতো চলবে। বিচারকে আমরা শ্রদ্ধা করি। আমি সবচেয়ে খুশি যে, আমার চাকরিরত ভাইবোনেদের চাকরি থাকল।’