ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর কেনি বেডনারেকের সঙ্গে ভারতীয় বিভাগে রেকর্ড গড়া গুলবীর সিং।
টাটা স্টিল ওয়ার্ল্ড ২৫কে ম্যারাথনের দশম সংস্করণে চমক দেখালেন গুলবীর সিং ও সীমা। পুরুষ ও মহিলাদের ভারতীয় বিভাগে নতুন রেকর্ড গড়েছেন এই দুই দৌড়বিদ। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহিলা বিভাগে চমক দিয়েছেন ইথিওপিয়ার দেগেতু আজিমরাউ। দু’বারের চ্যাম্পিয়ন স্বদেশীয় সুতুমে আসফা কেবেদেকে পেছনে ফেলে সোনা জিতেছেন। আন্তর্জাতিক পুরুষদের বিভাগে প্রথম হয়েছেন জোশুয়া চেপ্টেগেই।
অলিম্পিকে দুবারের সোনাজয়ী জোশুয়া চেপ্টেগেই দৌড়ের শুরু থেকেই নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। ফ্ল্যাগ–অফ থেকেই গতি বাড়িয়ে সবার আগে এগিয়ে যান। কখনও নিয়ন্ত্রণ হারাননি। ১:১১:৪৯ সময় নিয়ে তিনি প্রথম হন। দ্বিতীয় হন তানজানিয়ার আলফোনস ফেলিক্স সিয়াম্বু। তিনি সময় নিয়েছেন ১:১১:৫৬। তৃতীয় হয়েছেন লেসোথোর টেবেলো রামাকোঙ্গোয়ানা। তিনি সময় নিয়েছেন ১:১১:৫৯। দৌড়ের বেশিরভাগ সময় ধরে এই ত্রয়ী ১৫ কিমি বা ২০ কিমি ব্যবধানে নিজেদের মধ্যে কোনও পার্থক্য না রেখে খুবই কাছাকাছি ছিলেন। কিন্তু জোশুয়া শেষ ৪ কিলোমিটারে অন্যদের থেকে দূরত্ব বাড়িয়ে নেন। প্রথম হয়ে জোশুয়া চেপ্টেগেই বলেন, ‘রেকর্ডের চেয়ে জয় আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কলকাতায় ফিরে আসা এবং প্রথম হওয়াটা আমার কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আমি বেঙ্গালুরুতে প্রথম হয়েছি। এই জয় আমাকে পরবর্তী ম্যারাথনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় আত্মবিশ্বাস যোগাবে।’
আন্তর্জাতিক অভিজাত মহিলাদের বিভাগে থিওপিয়ার দেগিতু আজিমরাউ দুর্দান্ত পারফরমেন্স করে র্তমান চ্যাম্পিয়ন সুতুমে আসফা কেবেদেকে পেছনে ফেলে প্রথম হয়েছেন। এই নিয়ে তৃতীয়বার কলকাতা ২৫কে–তে অংশ নিলেন আজিমরাউ। ২০১৭ সালে প্রথম হয়েছিলেন। ৮ বছর পর আবার প্রথম। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অগ্রগতি ধরে রাখেন আজিমরাউ। ১:১৯:৩৬ সময় নিয়ে প্রথম হন। ১:২০:২৮ সময় নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন সুতুমে। অন্যদিকে, মেসেলেচ আলেমায়েহু ১:২০:৪৮ সময় নিয়ে তৃতীয় হয়েছেন। দেগিতু বলেন, ‘শুরুর দিকে আমার পা একটু শক্ত ছিল। তাই আমি কেবল শক্তিশালী হওয়ার উপর মনোযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু ১০ কিলোমিটারের পর আমার পা আরও ভাল হয়ে ওঠে। তারপর আমি গতি বাড়াই। তাতেই প্রথম হতে পেরেছি।’
অভিজাত দৌড়ে ভারতীয় মধ্যে গুলভীর সিং বিরল কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। নিজের পুরনো রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। গুলবীর সময় নিয়েছেন ১:১২:০৬। তাঁর আগের রেকর্ড ছিল ১:১২:০৬। গতবছর তিনি এই রেকর্ড গড়েছিলেন। ভারতীয়দের বিভাগে দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছেন হরমনজোত সিং (১:১৫:১১) এবং সাওয়ান বারওয়াল (১:১৫:২৫)। নিজের রেকর্ড উন্নীত করার ব্যাপারে এশিয়ান লং ডিসট্যান্সে দুটি সোনাজয়ী গুলবীর সিং বলেন, ‘রেকর্ড সহজে হয় না। ধারাবাহিকতা থেকে আসে। শক্তিশালী সমর্থন, নিবেদিতপ্রাণ কোচ এবং নিরলস প্রশিক্ষণের মাধ্যমে। ডায়েট, ওয়ার্কআউট এবং বিশ্রামই আমার একমাত্র কাজ। অগ্রগতির জন্য সময় লাগে। কোনও শর্টকাট রাস্তা নেই।’
ভারতীয় অভিজাত মহিলাদের বিভাগে সীমার জয়ও সমানভাবে উল্লেখযোগ্য। গত বছরের এশিয়ান ক্রস–কান্ট্রি চ্যাম্পিয়ন এবং এই বছর বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয় গেমসে রুপোজয়ী সীমা সময় নিয়েছেন ১:২৬:০৪। তিনি ভেঙে দিয়েছেন ২০১৭ সালে সুরিয়া এল–এর (১:২৬:৫৩) রেকর্ড। দ্বিতীয় স্থানে শেষ করা সঞ্জীবনী যাদবের (১:৩০:৩৪) থেকে অনেকটাই এগিয়ে থেকে শেষ করেন সীমা। নির্মাবেন ঠাকুর ১:৩২:০২ সময় নিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন।