২০২৭ মহিলাদের ফুটবল বিশ্বকাপে যোগত্যা অর্জনের সুযোগ ছিল ভারতের। দরকার ছিল এএফসি এশিয়ান কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার। কিন্তু লক্ষ্যপূরণ ব্যর্থ হওয়ায় ফুটবল বিশ্বকাপে যোগ্যতাঅর্জন করতে পারেনি ভারতীয় মহিলা ফুটবল দল। ফুটবল দলের সেই ব্যর্থতা ঢেকে দিল মহিলা হকি দল। এবছর আগস্টে অনুষ্ঠিত হতে চলে মহিলা হকি বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করেছে ভারত।
আন্তর্জাতিক হকি সংস্থা ২০২৬ বিশ্বকাপের মূল পর্বে শেষ ৭টি জায়গার জন্য একইসঙ্গে চিলির সান্তিয়াগো ও ভারতের হাযদরাবাদে বাছাইপর্বের প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছে। নিয়মানুযায়ী দুটি কোয়ালিফায়ারের প্রথম ৩টি দল ও র্যাঙ্কিংয়ে থাকা সেরা চতুর্থ দল বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। সান্তিয়াগোতে আয়োজক চিলি, অস্ট্রেলিয়া, আয়ারল্যান্ড প্রথম তিনটি স্থান দখল করে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার ছাড়পত্র পেয়েছে। বিশ্বের র্যাঙ্কিংয়ে ১৫ নম্বরে থাকা জাপান সান্তিয়াগো পর্বের কোয়ালিফায়ারে চতুর্থ স্থান পেয়ে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাচ্ছে।
অন্যদিকে, হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত কোয়ালিফায়ার পর্বে সেমিফাইনালে পৌঁছে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করেছে ভারত। ভারতীয় মহিলা হকি দল তাদের শেষ পুল বি ম্যাচে ওয়েলসকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। আজ সেমিফাইনালে ইতালির মুখোমুখি হবে ভারত। ইতালির কাছে সেমিফাইনালে, এমনকি তার পরের প্লেঅফ ম্যাচে হারলেও হায়দরাবাদ পর্বের কোয়ালিফায়ারের র্যাঙ্কিংয়ে সেরা চতুর্থ স্থান পাওয়ায় ভারতের বিশ্বকাপে খেলা আটকাবে না।
পুল বি-এর শেষ ম্যাচে ভারত ওয়েলসকে ৪–১ গোলে হারিয়েছে। নবনীত কাউরের হ্যাটট্রিক ভারতের সেমিফাইনালে ওঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তরুণী সাক্ষী রানা আরও একটা গোল করেন। হায়দরাবাদের জিএমসি বালযোগী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ভারতীয় মহিলা হকি দলের হয়ে প্রথম গোলটি করেন সাক্ষী রানা। প্রথম কোয়ার্টারে এই গোলের পর, ভারতের পরবর্তী দুটি গোল আসে নবনীত কাউরের স্টিক থেকে, যা হাফটাইমে ভারতের লিড ৩–১ এ বাড়িয়ে দেয়। বিশ্বকাপে ছাড়পত্র এসে যাওয়ায় ভারতীয় মহিলা হকি দলের শিবিরে খুশির বাতাস বইছে। তারা এখন ইতালি ম্যাচটা চাপমুক্ত মনে খেলতে নামতে তৈরি।
এই নিয়ে ৯ বার মহিলা বিশ্বকাপ হকিতে যোগ্যতার্জন করল ভারতীয় মহিলা হকি দল। ১৯৭৪ সালে চতুর্থ স্থান পাওয়াটাই ছিল প্রথম বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের সবচেয়ে সেরা সাফল্য। ২০২২ স্পেন বিশ্বকাপে ভারত শেষ করেছিল নবম স্থানে।