২০১৬ সালে পথচলা শুরু। দেখতে দেখতে কেটে গেছে ১০টা বছর। আবার ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ স্লোগানকে সামনে রেখে কলকাতা হাফ ম্যারাথনের আয়োজন করছে কলকাতা পুলিশ। উদ্দেশ্য মানুষের মধ্যে পথ নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনা বাড়ানো। ২০২৬ সালের ১৮ জানুয়ারি এই হাফ ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হবে। কলকাতা পুলিশের হাফ ম্যারাথন থেকেই এবার ওয়ার্ল্ড মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্সে যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ পাবেন প্রতিযোগীরা। বুধবার কলকাতা পুলিশ বডিগার্ড লাইনে আনুষ্ঠানিকভাবে কলকাতা হাফ ম্যারাথনে কথা ঘোষণা করা হল। হাজির ছিলেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা।
২১, ১০ ও ৫ কিমি বিভাগে এই হাফ ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এবারের হাফ ম্যারাথনের বিশেষত্ব হল ভারতীয় মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের স্বীকৃতি। ওয়ার্ল্ড মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্স ৩৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ক্রীড়াবিদদের জন্য তিনটি বয়সভিত্তিক গ্রুপে প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এই বয়সভিত্তিক গ্রুপগুলি হল ৩৫ থেকে ৩৯, ৪০–৪৫ ও ৪৫–৪৯। পুরুষ ও মহিলা প্রতিযোগীরা আলাদা বিভাগে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। কলকাতা পুলিশের হাফ ম্যারাথনে সেরা প্রতিযোগীরা ওয়ার্ল্ড মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় অ্যাথলিটরা দুটি বিভাগে যোগ্যতা অর্জন করতে পারবেন, হাফ–ম্যারাথন এবং ১০ কিলোমিটার। ২০২৬ সালের ২২ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার ডেগুতে অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রতিযোগিতা।
আরও পড়ুনঃ আসামের ব্যাটারদের দুরন্ত প্রতিরোধে জয়ের স্বপ্ন শেষ, ঝুলিতে মাত্র ৩ পয়েন্ট, তবুও শীর্ষে বাংলা
তবে হাফ ম্যারাথনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রতিযোগীকে ভারতীয় মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনে নথিভূক্ত হতে হবে এবং সরাসরি জাতীয় সংস্থা মাধ্যমে অথবা সংস্থার নির্দিষ্ট পদ্ধতির মাধ্যমে প্রবেশ করতে হবে। ভারতীয় মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন, ওয়ার্ল্ড মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্স এবং এশিয়ান মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্সের ভারতীয় মাস্টার্স অ্যাথলিটদের নির্বাচন করে থাকে। বয়সের মাপকাঠি পূরণ করলে যে কোনও ক্রীড়াবিদ এর যোগ্য হতে পারেন। তবে তাঁকে মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার অনুমোদন পেতে হবে।
কলকাতা পুলিশে এই ‘সেফ ড্রাইভ সেফ লাইফ’ হাফ ম্যারাথন ৩৫ বছরের বেশি বয়সী ক্রীড়াবিদদের জন্য একটা প্রিমিয়াম প্রতিযোগিতামূলক আকাঙ্ক্ষাও প্রদান করছে। যা এই ম্যারাথনকে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দৌড়গুলির মধ্যে অন্যতম করে তুলেছে। কলকাতা পুলিশের এই উদ্যোগ সম্পর্কে কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা বলেন, ‘প্রতিটি সকাল আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, এই শহর দুটি স্তম্ভের ওপর এগিয়ে যায়, শৃঙ্খলা এবং করুণা। সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ দুটোকেই সমানভাবে তুলে ধরে। এটা একটা বার্তা থেকে নাগরিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এই হাফ ম্যারাথন তার জ্বলন্ত উদাহরণ।’