মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম, বেড়ে ওঠা হায়দরাবাদে। জীবনের তৃতীয় লিস্ট এ ম্যাচ খেলতে নেমেই দ্বিশতরান। ২১ বছর বয়সী তরুণ ব্যাটার আমান রাওয়ের তাণ্ডবের সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে গেলেন মহম্মদ সামির মতো অভিজ্ঞ বোলাররা। বাংলাকে ১০৭ রানে হারিয়ে বিজয় হাজারে ট্রফির এ গ্রুপের লিগ পর্ব জমিয়ে দিল হায়দরাবাদ। দুরন্ত ব্যাটিং করে ১৫৪ বলে ২০০ রান করে অপরাজিত থাকেন আমান রাও।
মঙ্গলবার রাজকোটের নিরঞ্জন শাহ স্টেডিয়ামে হায়দরাবাদেদর বিরুদ্ধে গ্রুপ লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে নেমেছিল বাংলা। টস জিতে হায়দরাবাদকে কে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান বাংলার অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ। প্রথম ১৫ ওভারের মধ্যে বাংলাকে সাফল্যের মুখ দেখাতে পারেননি সামি, মুকেশ, আকাশদীপ, শাহবাজ আমেদের মতো অভিজ্ঞ বোলাররে। আমান ও রাহুল সিংয়ের ওপেনিং জুটিতে হায়দরাবাদ তোলে ১০৪। তরুণ স্পিনার রোহিত দাস বাংলাকে প্রথম সাফল্য এনে দেয়। তুলে নেন রাহুল সিংকে (৫৪ বলে ৬৫)।
রাহুল সিং আউট হওয়ার পর হায়দরাবাদকে এগিয়ে নিয়ে যান আমান রাও ও অধিনায়ক তিলক ভার্মা (৪৫ বলে ৩৪)। মিডল অর্ডারে অভিষেক রেড্ডি (৫), প্রগ্নয় রেড্ডিরা (২২) ব্যর্থ। তাঁদের ব্যর্থতা অবশ্য বুঝতে দেননি আমান। অন্য প্রান্তে রীতি মতো ঝড় তোলেন। আমানের প্রথম ৫০ আসে ৬৫ বলে। এটাই লিস্ট এ ক্রিকেটে প্রথম হাফ সেঞ্চুরি। ১০৮ বলে সেঞ্চুরিতে পৌঁছে যান আমান। পরের ১০০ আসে ৪৬ বলে। ১৫৪ বলে দ্বিশতরান করেন। মারেন ১২টি চার এবং ১৩টি ছক্কা। ইনিংসের শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে দ্বিশতরান পূর্ণ করে আমান। হায়দরাবাদও পৌঁছে যায় ৩৫২/৫ রানে।
এটাই আমানের হায়দরাবাদের হয়ে তৃতীয় লিস্ট এ ম্যাচ। আগের দুটি ম্যাচে রান পাননি। প্রথম ম্যাচে করেছিলেন ৩৯, দ্বিতীয় ম্যাচে ১৩। জীবনের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি দ্বিশতরানে পরিণত করেন। আমানের অপরাজিত ২০০ লিস্ট এ ক্রিকেটে হায়দরাবাদের কোনও ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। চলতি বিজয় হাজারে ট্রফিতে এটা দ্বিতীয় দ্বিশতরান, আর ইতিহাসে নবম দ্বিশতরান।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে জন্মগ্রহন করেন আমান রাও। ক্রিকেটে হাতেখড়ি অবশ্য ভারতে। হায়দরাবাদেই বেড়ে উঠেছেন আমান রাও। এই তরুণ ডানহাতি ব্যাটার কিছুদিন আগেই সৈয়দ মুস্তাক আলিতে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে দ্রুত হাফ সেঞ্চুরি করে নজর কেড়েছিলেন। শার্দুল ঠাকুরের প্রথম ওভারে নিয়েছিলেন ২৪। এদিন বাংলার বিরুদ্ধেও জ্বলে উঠলেন। বিশেষ করে ডেথ ওভারে সামি, আকাশদীপ, মুকেশদের ওপর তাণ্ডবলীলা চালান।
ইতিমধ্যেই ক্লিন হিটার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন আমান, বিশেষ করে সাদা বলের ক্রিকেটে। টি২০ ক্রিকেটে তাঁর স্ট্রাইক রেট ১৬০–এর ওপরে। ঘরোয়া মরসুমে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরমেন্সের মাধ্যমে আমান রাও উঠে এসেছেন। অনূর্ধ্ব ২৩ ক্রিকেটে ৬ ম্যাচে ৩৮১ রান করেন, যার মধ্যে একটা সেঞ্চুরি, ৩টি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে, স্ট্রাইক রেট ১০২.৯৭।
জয়ের জন্য ৩৫৩ রানের লক্ষ্যটা বাংলার সামনে যথেষ্ট কঠিনই ছিল। তার ওপর পাওয়ার প্লে–র মধ্যে ৪ উইকেট হারায়। ৮ ওভারের মধ্যেই আউট হন সুমিত নাগ (১০), অভিমন্যু ঈশ্বরণ (১৫), সুদীপ ঘরামি (০) ও করণ লাল (১৩)। স্কোর বোর্ডে তখন মাত্র ৫০ রান। মহম্মদ সিরাজের বোলিংয়ের সামনে দিশা খুঁজে পাননি বাংলার টপ অর্ডার ব্যাটাররা।
এরপর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন অনুষ্টুপ মজুমদার ও শাহবাজ আমেদ। এই জুটি ভাঙতেই আবার ধস নামে বাংলার ইনিংসে। ৭২ বলে ৫৯ রান করে চিন্তন রক্ষণ রেড্ডির বলে আউট হন অনুষ্টুপ। শাহবাজের দুরন্ত সেঞ্চুরি করলেও দলের হার বাঁচাতে পারেনি। ৪৪.৪ ওভারে ২৪৫ রানে গুটিয়ে যায় বাংলার ইনিংস। ১১৩ বলে ১০৮ রান করে অপরাজিত থাকেন শাহবাজ। মারেন ৯টি ৪ ও ৪টি ৬। ৫৮ রানে ৪ উইকেট নেন মহম্মদ সিরাজ।
বাংলার ঝুলিতে ৬ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট। নেট রানরেটে বি গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে বাংলা (+১.২০২)। ২৪ পয়েন্টে শীর্ষে উত্তরপ্রদেশ। বিদর্ভ ও বরোদারও ১৬ পয়েন্ট। নেট রানরেটে তৃতীয় স্থানে বিদর্ভ (+০.৯৫০), চতুর্থ স্থানে বরোদা (+০.৩২০)। শেষ ম্যাচে বাংলা খেলবে উত্তরপ্রদেশের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, বিদর্ভ খেলবে অসম আর বরোদা খেলবে চণ্ডীগড়ের বিরুদ্ধে। উত্তরপ্রদেশকে হারালেই নক আউটে পৌঁছে যাবে বাংলা।