দীর্ঘদিন দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। অথচ কখন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন করতে পারেননি বিরাট কোহলি। তিনি নেতৃত্ব ছাড়তেই সাফল্য। গতবছর রজত পতিদারের নেতৃত্বে আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বেঙ্গালুরু। তাঁর নেতৃত্বেই আবার খেতাব ধরে রাখল। গুজরাট টাইটান্সকে ৫ উইকেটে উড়িয়ে টানা দ্বিতীয়বার আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন হল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।
আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হাইভোল্টেজ ম্যাচে প্রতিটি বিভাগে দুর্দান্ত পারফরমেন্স দেখিয়েছে রজত পতিদারের দল। বেঙ্গালুরু বোলারদের দাপটে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৫ রানের বেশি তুলতে পারেনি গুজরাট টাইটান্স। জবাবে ১৮ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬১ রান তুলে দ্বিতীয়বার খেতাব জিতে নেয় বেঙ্গালুরু। ৪২ বলে ৭৫ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেন বিরাট কোহলি। এবছর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইপিএলের ইতিহাসে তৃতীয় দল হিসেবে শিরোপা রক্ষা করল বেঙ্গালুরু।
হাইভোল্টেজ ফাইনালে টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। বেঙ্গালুরুর বোলাররা অধিনায়ক রজত পতিদারের সিদ্ধান্তকে পুরোপুরি সঠিক প্রমাণ করেন। ২২ রানের মাথায় শুভমান গিলকে (৮ বলে ১০) তুলে নিয়ে গুজরাটকে প্রথম ধাক্কা দেন জশ হ্যাজেলউড। এরপরেই সাই সুদর্শনকে (১২ বলে ১২) ফেরান ভুবনেশ্বর কুমার। নিশান্ত সিন্ধু ও জস বাটলার ইনিংসকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ক্রুনাল পান্ডিয়ার নিখুঁত ওয়াইড ইয়র্কারে স্টাম্পড হন বাটলার (২৩ বলে ১৯)।
গুজরাটের মিডল অর্ডারে আতঙ্ক তৈরি করেন সালাম রসিক দার। প্রথমে তিনি ফেরান নিশান্তকে (১৮ বলে ২০)। তবে ওয়াশিংটন সুন্দর এক প্রান্ত ধরে রেখে ৩৭ বলে অপরাজিত ৫০ রান করে গুজরাটকে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৫ রান তুলতে সাহায্য করেন। আর্শাদ খান ৬ বলে করেন ১৫। বেঙ্গালরুরুর তরুণ বোলার রসিক সালাম দার দুর্দান্ত বোলিং করে ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। ভুবনেশ্বর কুমার ও জশ হ্যাজেলউড ২টি করে উইকেট নেন। ক্রুনাল পান্ডিয়াও ১টি উইকেট নেন।
জয়ের জন্য ১৫৬ রানের লক্ষ্য খুব একটা কঠিন লক্ষ্য ছিল না বেঙ্গালুরুর কাছে। শুরু থেকেই ঝড় তোলেন ভেঙ্কটেশ আয়ার ও বিরাট কোহলি। ১৬ বলে ৩২ রান করে আউট হন ভেঙ্কটেশ। তাঁর ইনিংসে ছিস ৪টি চার ও ২টি ছক্কা। দেবদত্ত পাড়িক্কলকে (১) ফেরান কাগিসো রাবাদা। এরপর রজত পতিদার (১৩ বলে ১৫) ও ক্রুনাল পান্ডিয়াকে আউট করে গুজরাটকে ম্যাচে ফেরান রশিদ খান। কিন্তু বিরাট কোহলি এক প্রান্ত ধরে রাখেন। টিম ডেভিড ১৭ বলে ২৪ রান করে দলকে জয়ের দিকে নিয়ে যান। ৪২ বলে অপরাজিত ৭৫ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করেন বিরাট কোহলি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ৩টি ছক্কা। ২৫ রানে ২ উইকেট নেন রশিদ খান।
এই জয়ের মাধ্যমে চেন্নাই সুপার কিংস এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে অভিজাত ক্লাবে যোগ দিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু, যারা সফলভাবে শিরোপা রক্ষা করেছে। ২০২৫ সালে প্রথম শিরোপা জিতেছিল বেঙ্গালুরু। এই বছরও ফর্ম ধরে রেখে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করল। ম্যাচের সেরা হয়েছেন বিরাট কোহলি। আইপিএলের সেরা ক্রিকেটারের পুরষ্কার পেয়েছেন বিষ্ময় প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশী।