জয়ের জন্য শেষ ২ বলে প্রয়োজন ছিল ২ রান। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণর পঞ্চম বলে ১ রান নেওয়ার সুযোগ ছিল ডেভিড মিলারের। অথচ নেননি। লক্ষ্য ছিল শেষ বলে ২ রান তুলে দলকে জেতাবেন। মিলারের সেই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের খেসারত দিতে হল দিল্লি ক্যাপিটালসকে। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ১ রানে জয় তুলে নিল গুজরাট টাইটান্স। চলতি আইপিএলে এটাই প্রথম জয় শুভমান গিলদের।
নাটকীয় এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২১০ রান তুলেছিল গুজরাট টাইটান্স। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লোকেশ রাহুলের দুরন্ত ব্যাটিংয়ের সুবাদে জয়ের দোরগোড়ায়ও পৌঁছে গিয়েছিল দিল্লি। শেষ ২ ওভারে জয়ের জন্য দিল্লির প্রয়োজন ছিল ৩৬ রান। ১৯ তম ওভারে মহম্মদ সিরাজের বলে ২৩ রান তোলেন ডেভিড মিলার ও বিপ্রজ নিগম। সিরাজের ওই ওভারে প্রথম তিন বলে দুটি ছক্কা ও একটা চার মারেন মিলার।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য দিল্লির প্রয়োজন ছিল ১৩ রান। একদিনের ক্রিকেট তো বটেই টি২০ ক্রিকেটেও একেবারে কঠিন নয়। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণর প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকান বিপ্রজ। কিন্তু পরের বলেই আউট। এরপর ক্রিজে আসেন কুলদীপ যাদব। তৃতীয় বলে তিনি ১ রান নিয়ে মিলারকে স্ট্রাইক দেন। সেই সময় ৩ বলে প্রয়োজন ছিল ৮ রান। প্রসিদ্ধর চতুর্থ বল গ্যালারিতে পাঠান মিলার। জয়ের আরও কাছাকাছি দিল্লি। পঞ্চম বলে ১ রান নেওয়ার সুযোগ থাকলেও নেননি মিলার। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ শেষ বল ব্যাটে লাগাতে পারেননি। বল চলে যায় উইকেটকিপার জস বাটলারের হাতে। ১ রান নেওয়ার জন্য নন–স্ট্রাইকার প্রান্ত থেকে পড়িমড়ি করে দৌড়েছিলেন কুলদীপ যাদব। কিন্তু তিনি ক্রিজে পৌঁছনোর আগেই ঠান্ডা মাথায় উইকেট ভেঙে দেন বাটলার। ২০৯ রানে গুটিয়ে যায় দিল্লি ক্যাপিটালসের ইনিংস।
গুজরাটকে বড় রানে পৌঁছে দেওয়ার কৃতিত্ব শুভমান গিল, জস বাটলারদের। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় ওভারেই সাই সুদর্শনের (৭ বলে ১২) উইকেট হারায় গুজরাট। এরপর দলকে এগিয়ে নিয়ে যান জস বাটলার ও শুভমান গিল। ২৭ বলে ৫২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে কুলদীপের বলে বোল্ড হন বাটলার। বাটলার যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন, নিজেকে সংযত রেখেছিলেন শুভমান। কিন্তু বাটলার আউট হওয়ার পরই ঝড় তোলেন। ৪৫ বলে ৭০ রান করেন শুভমান। ৩২ বলে ৫৫ ওয়াশিংটন সুন্দরের। ৫৫ রানে ২টি উইকেট নেন মুকেশ কুমার।
ব্যাট করতে নেমে জবাব দেওয়ার কাজটাও ভাল শুরু করেছিলেন দিল্লি ক্যাপিটালসের দুই ওপেনার পাথুম নিসঙ্কা ও লোকেশ রাহুল। ওপেনিং জুটিতে ৮ ওভারে ওঠে ৭৬। পাথুম নিসঙ্কাকে (২৪ বলে ৪১) তুলে নিয়ে জুটি ভাঙেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। পরপর ২ বলে নীতীশ রানা (৬ বলে ৫) ও সমীর রিজভিকে (০) তুলে নিয়ে দিল্লিকে চাপে ফেলে দিয়েছিলেন রশিদ খান। এরপর লোকেশ রাহুলের সঙ্গে জুটি বাঁধেন ডেভিড মিলার। মাঝে হাতে চোট পেয়ে তিনি ডাগ আউটে ফিরে যান। পরিবর্তে ব্যাট করতে নামা অক্ষর প্যাটেল (৩ বলে ২), ট্রিস্টান স্টাবস (৬ বলে ৭) দ্রুত ফিরে যান। এরপর ক্রিজে নামেন ডেভিড মিলার। তিনি ও লোকেশ রাহুল দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান। রাহুল যখন আউট হন, দিল্লির রান ১৭ ওভারে ৬ উইকেট ১৬৬। ৫২ বলে ৯২ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন লোকেশ রাহুল। ২০ বলে অপরাজিত ৪১ রানের ইনিংস খেলেও শেষ পর্যন্ত দলকে জয় এনে দিতে পারেননি ডেভিড মিলার। দিল্লির জয়ের পেছনে কাঁটা হয়ে দাঁড়ান রশিদ খান। ১৭ রানে ৩ উইকেট নেন রশিদ।