টি২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বরাবরি দাপট দেখিয়ে এসেছে ভারত। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটল না। পাকিস্তানকে ৬১ রানে উড়িয়ে সুপার এইটে খেলা নিশ্চিত করে ফেলল ভারত। ভারতীয় বোলারদের সামনে অসহায় আত্মসমর্পন পাকিস্তান ব্যাটারদের। এদিন কলম্বোয় দুরন্ত ব্যাটিং করে ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দেন ঈশান কিষাণ। এই নিয়ে টি২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৯ ম্যাচে ৮টিতেই জিতল ভারত। পাকিস্তান জিতেছে মাত্র ১টিতে।
ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বিতর্ক। এদিনও বিতর্ক অব্যাহত। দুই দলের অধিনায়কের মধ্যে করমর্দন হল না। এমনকী, ম্যাচের পরও হাত মেলালেন না দুই দলের ক্রিকেটাররা। টস জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠায় পাকিস্তান। প্রথম ওভারেই স্পিন আক্রমণ দিয়ে মাস্টারস্ট্রোক পাক অধিনায়ক সলমান আগার। নিজের হাতেই বল তুলে নিয়েছিলেন। চাপ তৈরি করে চতুর্থ বলেই তুলে নিয়েছিলেন অভিষেক শর্মাকে (০)। তবে পরের ওভারেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন ঈশান কিষাণ। শাহিন আফ্রিদির ওভারে নেন ১৫। ঝড় তুলে প্রাথমিক চাপ কাটিয়ে দেন ঈশান। পাওয়ার প্লে–র ৬ ওভারে ভারত তোলে ৫২/১।
নবম ওভারের চতুর্থ বলে পাকিস্তানকে ব্রেক থ্রু এনে দেন সাইম আয়ুব। তাঁর বল ব্যাকফুটে ড্রাইভ করতে গিয়ে বোল্ড হন ঈশান কিষাণ। ৪০ বলে ৭৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে তিনি আউট হন। ঈশানের ইনিংসে রয়েছে ১০টি ৪ ও ৩টি ৬। তিনি যখন আউট হন ভারতের রান ছিল ৮.৪ ওভারে ৮৮/২। ঈশান যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন, মনে হচ্ছিল ভারত অনায়াসে ২০০ রানের গন্ডি পার করে ফেলবে। কিন্তু তিনি আউট হওয়ার পরপরই ভারতের রান তোলার গতি কমে যায়। তিলক ভার্মা ও সূর্যকুমার যাদব পাকিস্তান স্পিনারদের বিরুদ্ধে সেভাবে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারেননি।
১৫তম ওভারে ভারতে চাপে ফেলে দেন সাইম আয়ুব। পরপর ২ বলে তুলে নেন তিলক ভার্মা ও হার্দিক পান্ডিয়াকে। ২৪ বলে ২৫ রান করে এলবিডব্লু হন তিলক। ক্রিজে এসেই সাইমের অফসাইডের বাইরের বল তুলে মারতে গিয়ে বাবর আজমের হাতে ক্যাচ দেন হার্দিক (০)। পরপর ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভারত। সূর্যকুমার ও শিবম দুবে চাপ কাটিয়ে ভারতে এগিয়ে নিয়ে যান। ২৯ বলে ৩২ রান করে আউট হন সূর্য। ১৭ বলে ২৭ করেন শিবম দুবে। ৪ বলে ১১ রান করে অপরাজিত থেকেন রিঙ্কু সিং। পাকিস্তানের হয়ে দুরন্ত বোলিং করে ২৫ রানে ৩ উইকেট নেন।
টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে আগে কখনও এত রান তাড়া করে জেতেনি পাকিস্তান। বড় রানের চাপ নিতে পারেননি পাকিস্তান ব্যাটাররা। তার ওপর শুরুতেই হার্দিক পান্ডিয়া ও যশপ্রীত বুমরার ধাক্কায় বেসামাল হয়ে পড়ে পাকিস্তান। ২ ওভারের মধ্যেই ১৩ রানে ডাগ আউটে সাহিবজাদা ফারহান (০), সাইম আয়ুব (৬) ও সলমান আগা (৪)। চাপ আরও বেড়ে যায় অক্ষর প্যাটেলের বলে বাবর আজম (৫) আউট হওয়ায়। পাওয়ার প্লে–র মধ্যে ৩৪ রানে ৪ উইকেট হারায় পাকিস্তান।
এরপর উসমান খান (৩৪ বলে ৪৪) ও সাদাব খান জুটি (১৫ বলে ১৪) দলকে কিছুটা এগিয়ে নিয়ে গেলেও চাপ কাটিয়ে বিপর্যয়ের হাত থেকে উদ্ধার করার মতো ব্যাটার পাকিস্তান দলে নেই। ফলে ১৮ ওভারে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। একসময় মনে হচ্ছিল ১০০ রানের গন্ডিও পার করতে পারবে না পাকিস্তান। শাহিন আফ্রিদির (১৯ বলে অপরাজিত ২৩) সৌজন্যে শেষ পর্যন্ত মান বাঁচায়। ভারতের প্রতিটা বোলার এদিন দুরন্ত বোলিং করেন। ভারতের হয়ে হার্দিক পান্ডিয়া, যশপ্রীত বুমরা, অক্ষর প্যাটেল ও বরুণ চক্রবর্তী ২টি করে উইকেট নেন।