শেষ ৩ ওভারে জয়ের জন্য লখনউ সুপার জায়ান্টসের দরকার ছিল ৫৩ রান। ৭ জন ব্যাটার ডাগ আউটে। টেলএন্ডারদের নিয়ে লড়াই করছিলেন মুকুল চৌধরি। এই পরিস্থিতি থেকে যে ম্যাচ হারতে হবে, সম্ভবত নাইট রাইডার্সের কোনও সমর্থকও ভাবতে পারেননি। এটা টি২০ ক্রিকেট। সবকিছুই সম্ভব। আর সম্ভব করলেন মুকুল চৌধরি নামে এক অখ্যাত ক্রিকেটার। টানটান উত্তেজনার ম্যাচে নাইট রাইডার্সকে ৩ উইকেটে হারিয়ে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিল লখনউ সুপার জায়ান্টস।
টস জিতে নাইট রাইডার্সকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন লখনউ সুপার জায়ান্টস অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। লক্ষ্য ছিল মহম্মদ সামিকে দিয়ে শুরুতেই ধাক্কা দেওয়া। উইকেট তুলতে না পারলেও নিজের প্রথম দুই ওভারে নাইট ব্যাটারদের চাপে রেখেছিলেন সামি। প্রিন্স যাদবের হাত ধরেই প্রথম সাফল্য আসে লখনউর। ঝড় তোলার আগেই তুলে নেন ফিন অ্যালেনকে (৮ বলে ৯)।
প্রাথমিক চাপ সামলে আক্রমণাত্মক ব্যাটি করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান অজিঙ্কা রাহানে ও অঙ্গকৃশ রঘুবংশী। দুজনের জুটিতে ওঠে ৮৪ রান। একাদশ ওভারে রাহানেকে (২৪ বলে ৪১) তুলে নিয়ে জুটি ভাঙেন দিগ্বেশ সিং রাঠি। পরের ওভারেই অঙ্গকৃশ রঘুবংশীকে ফেরান মনিমারান সিদ্ধার্থ। সিদ্ধার্থকে গ্যালারিতে পাঠিয়ে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দেন রঘুবংশী। ৩৩ বলে তিনি করেন ৪৫।
রাহানে ও রঘুবংশী আউট হওয়ায় নাইটদের রানের গতি কমে যায়। রিঙ্কু সিং (৭ বলে ৪) রান পাননি। ক্যামেরন গ্রিন ও রভম্যান পাওয়েল শুরুর দিকে নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি। পরে অবশ্য ঝড় তোলেন। এই দুই ব্যাটারের সৌজন্যেই নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৮১ রান তোলে। ক্যামেরন গ্রিন ২৪ বলে ৩২ ও রভম্যান পাওয়েল ২৪ বলে ৩৯ রান করে অপরাজিত থাকেন। লখনউর হয়ে প্রিন্স যাদব, মনিমারান সিদ্ধার্থ, দিগ্বেশ রাঠি ও আবেশ খান ১টি করে উইকেট পান। ৪ ওভারে ২৭ রান দিলেও কোনও উইকেট পাননি সামি।
জয়ের জন্য ১৮২ রানের লক্ষ্য খুব একটা সহজ ছিল না লখনউর কাছে। কারণ, পরের দিকে উকেট যথেষ্ট মন্থর হয়ে গিয়েছিল। শুরুর দিকে অবশ্য ঝড় তুলেছিলেন দুই ওপেনার এইডেন মার্করাম ও মিচেল মার্শ। ৪ ওভারেই তুলে ফেলেন ৪১। পঞ্চম ওভারে বৈভব আরোরার জোড়া ধাক্কা চাপে ফেলে দেয় লখনউকে। ১ বলের ব্যবধানে মার্করাম (১৫ বলে ২২) ও মার্শকে (১১ বলে ১৫) ফেরান বৈভব।
নিকোলাস পুরান (১৫ বলে ১৩), আব্দুল সামাদরা (৪ বলে ২) রান না পেলেও লখনউকে লড়াইয়ে রেখেছিলেন আয়ুশ বাদোনি। তাঁকে তুলে নেন অনুকূল রায়। ৩৪ বলে ৫৪ রান করে আউট হন বাদোনি। ঝোড়ো ব্যাটিং করে ম্যাচ জমিয়ে দিয়েছিলেন মুকুল চৌধরি। শেষ ওভারে জয়ের জন্য লখনউর দরকার ছিল ১৪ রান। বৈভব আরোরার প্রথম বলে ১ রান নিয়ে মুকুলকে স্ট্রাইক দেন আবেশ খান। পরের বলেই ছক্কা হাঁকান মুকুল। চতুর্থ বলে কোনও রান হয়নি। পঞ্চম বলে ছক্কা মেরে রান সমান করে ফেলেন মুকুল। শেষ বলে জয়ের জন্য দরকার ছিল ১ রান। ব্যাটে বল না লাগলেও দৌড় শুরু করেন মুকুল ও আবেশ। ১ রান বাই নিয়ে দলকে নাটকীয় জয় এনে দেন মুকুল। ২৭ বলে ৫৪ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। মারেন ২ টি ৪ ও ৭টি ৬।