একদিকে যশপ্রীত বুমরা, রোহিত শর্মা, হার্দিক পান্ডিয়া, সূর্যকুমার যাদব, ট্রেন্ট বোল্টের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। অন্যদিকে, বৈভব সূর্যবংশী, যশস্বী জয়সওয়াল, ধ্রুব জুরেল, রিয়ান পরাগের মতো তরুণরা। অভিজ্ঞতাকে চাপিয়ে বাজিমাত তরুণদের। রাজস্থান রয়্যালসের তারুণ্যের কাছে মাথানত মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে মুম্বইকে ২৭ রানে হারিয়ে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিল রাজস্থান।
গুয়াহাটির বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামে এদিন লড়াইটা ছিল মূলত বৈভব সূর্যবংশীর সঙ্গে যশপ্রীত বুমরার। পেশাদার ক্রিকেটে আগে কখনও বুমরার বিরুদ্ধে খেলেনি বৈভব। ক্রিকেটপ্রেমীরাও অধীর আগ্রহে তাকিয়ে ছিল বৈভব–বুমরার লড়াইয়ের দিকে। বৃষ্টির জন্য অনেক দেরিতে খেলা শুরু হয়। ওভার সংখ্যা কমে যায়। ১১ ওভারের ম্যাচ করার সিদ্ধান্ত নেন আম্পায়াররা। পাওয়ার প্লে–র ওভারও কমে দাঁড়ায় ৩.২–এ।
টস জিতে রাজস্থানকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন মুম্বই অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া। মুম্বইয়ের হয়ে বোলিং শুরু করেছিলেন দীপক চাহার। তাঁর প্রথম ওভারে ওঠে ২২। দ্বিতীয় ওভার বোলিং করতে আসেন যশপ্রীত বুমরা। প্রথম বলই গ্যালারিতে পাঠিয়ে বুমরাকে স্বাগত জানায় বৈভব। চতুর্থ বলেও ছক্কা। বোলার নয়, বলের মেরিট থেকেই ব্যাটিং করছিল বৈভব। ট্রেন্ট বোল্টের তৃতীয় ওভারে ওঠে ২২। পাওয়ার প্লে–র ২০ বলে বৈভব ও যশস্বী মিলে তোলে ৫৯।
পঞ্চম ওভারের শেষ বলে বৈভব যখন আউট হন, রাজস্থানের রান ৮০/১। ৫টি ছক্কা ও ১টি চারের সাহায্যে ১৪ বলে ৩৯ রান করে আউট হন বৈভব। বৈভবের পাশাপাশি যশস্বীও এদিন দারুণ আগ্রাসী ছিলেন। এই দুই তরুণের তেজে ছাড়খার হয়ে যায় মুম্বইয়ের স্বপ্নের বোলিং। নির্ধারিত ১১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৫০ রান তোলে রাজস্থান। ৩২ বলে ৭৭ রানে বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন যশস্বী জয়সওয়াল। মারেন ১০টি চার ও ৪টি ছয়। ৩ ওভারে ৩২ রান দেন বুমরা। কোনও উইকেট পাননি।
জিততে গেলে শুরু থেকেই ঝড় তুলতে হত মুম্বইকে। কিন্তু দুই ওপেনার রায়ান রিকেলটন (৪ বলে ৮) ও রোহিত শর্মা (৬ বলে ৫) সেই দায়িত্ব নিতে পারেননি। সূর্যকুমার (৩ বলে ৬), হার্দিক পান্ডিয়া (৬ বলে ৯), তিলক ভার্মা (১০ বলে ১৪) বিশাল চাপের মুখে ব্যর্থ। শেষদিকে নমন ধীর (১৩ বলে ২৫) ও শেরফানে রাদারফোর্ড (৮ বলে ২৫) চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না। ১১ ওভারে শেষপর্যন্ত ১২৩/৯ তোলে মুম্বই। নান্দ্রে বার্গান, সন্দীপ শর্মা ও রবি বিষ্ণোই ২টি করে উইকেট পান।