সুস্থ–সবল ক্রিকেটারদের মতো ওরাও দেশকে গর্বিত করেছে। বিশ্বমঞ্চে বাড়িয়ে তুলেছে সম্মান। আর তাঁদের সেই প্রয়াসকে কুর্নিশ জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দৃষ্টিহীন মহিলাদের প্রথম টি২০ বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ী ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের সঙ্গে ঐতিহাসিক জয় উদযাপন করলেন। ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দনও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বিশ্বকাপ জিতে শ্রীলঙ্কার কলম্বো থেকে দেশে ফিরেছে ভারতীয় দল। বৃহস্পতিবার রাজধানী দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি ভারতীয় দলের কাছে একটা গর্বের মুহূর্ত ছিল। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেক ক্রিকেটারের সঙ্গে আলাদা–আলাদাভাবে কথা বলেন। ক্রিকেটাররা কৃতজ্ঞতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে একটা সকলের স্বাক্ষরিত একটা ব্যাট উপহার দেন। প্রধানমন্ত্রী মোদীও দলের জন্য একটা ক্রিকেট বলে স্বাক্ষর করে তাদের হাতে তুলে দেন।
গোটা প্রতিযোগিতা জুড়ে ক্রিকেটারদের দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা এবং সংযমের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি ইতিহাস তৈরির জন্য ক্রিকেটারদের প্রশংসা করেন এবং তাদের কৃতিত্ব ভবিষ্যত প্রজন্মকে কীভাবে অনুপ্রাণিত করবে তা তুলে ধরেন। আগের দিন মোদী এক্স–এ ভারতের এই বিশ্বকাপ জয়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেন।
আরও পড়ুনঃ ‘বাবাকে নির্জন মৃত্যু সেলে রাখা হয়েছে’, বেঁচে থাকার প্রমাণ চাইলেন ইমরান খানের ছেলে কাসিম
আরও পড়ুনঃ সৈয়দ মোদি ব্যাডমিন্টনে চমক, ভারতের ১৬ বছরের তানভি শর্মার কাছে বশ্যতাস্বীকার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওকুহারার
গোটা দেশে দৃষ্টিহীন ক্রিকেটারদের এই সাফল্য প্রশংসিত হচ্ছে। কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ভারতীয় দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারের জন্য আর্থিক পুরষ্কার ঘোষণা করেছেন। ভারতীয় দলের কর্ণাটকের ক্রিকেটারদের ১০ লক্ষ টাকা করে ও সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। অন্যান্য রাজ্যের ক্রিকেটারদের দেওয়া হবে ২ লক্ষ টাকা করে। বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলে কর্ণাটকের বাইরের ১৩ জন ক্রিকেটার ছিলেন।
দারুণ আধিপত্য দেখিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। ফাইনালে নেপালকে ১১৪/৫ রানে আটকে রেখে ১৩ ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছয়। ওপেনার ফুলা সরেন ২৭ বলে ৪৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। অন্যদিকে করুণা কে ২৭ বলে ৪২ রান করেন। ফাইনালের সেরা নির্বাচিত হন ফুলা সরেন। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ভারত ধারাবাহিকতা দেখিয়েছিল। শ্রীলঙ্কা এবং অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে জয়ের মাধ্যমে শুরু করে। এরপর হারায় পাকিস্তান, নেপালকে। সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৯ উইকেটে বিধ্বংসী জয় ফাইনালে নেপালের বিরুদ্ধে তাদের জয়ের পথ তৈরি করে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করা স্বীকৃতি এবং উৎসাহের এক দুর্দান্ত মুহূর্ত।