ইডেন টেস্টে হারের পর ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীর বলেছিলেন, উইকেট দিয়ে কী হবে, ভাল ব্যাটিং করাটা জরুরি। কথাটা ভুল বলেননি ভারতীয় দলের ‘হেড স্যার’। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে ভারতীয় দলের ব্যাটারদের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেছে। আসলে টি২০ ক্রিকেটের দক্ষতা দিয়ে তো আর লাল বলের ক্রিকেট খেলা যায় না। হাল যা হওয়ার, তাই হচ্ছে। গুয়াহাটিতে চূড়ান্ত ব্যাটিং ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে পরাজয়ের হাতছানি ভারতের সামনে। দক্ষিণ আফ্রিকার ৪৮৯ রানের জবাবে ভারতের প্রথম ইনিংস শেষ ২০১ রানে। ভারতকে ফলোঅনের লজ্জায় না ফেলে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় দিনের শেষে ২৬/০ রান তুলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৩১৪ রানে এগিয়ে।
গুয়াহাটির বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামের উইকেটে বোলারদের জন্য বিশেষ কিছু নেই। দ্বিতীয় দিনের ম্যাচের শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে এসে ভারতীয় দলের স্পিনার কুলদীপ যাদব বলেছিলেন, একেবারে পাটা উইকেট। সেই পাটা উইকেটে কিনা ২৭ রানে ৬ উইকেট হারাল ভারত! ৯৫/১ থেকে ১১২২/৭! সত্যিই কী হাল ভারতীয় ব্যাটিংয়ে। অথচ ভারতীয় ইনিংসে সবচেয়ে বেশি বল খেললেন ৯ নম্বরে ব্যাটিং করতে নামা কুলদীপ যাদব। ১৩৪ বল ক্রিজে কাটিয়েছিলেন। কুলদীপ আর ওয়াশিংটন সুন্দর মাটি কামড়ে পড়ে না থাকলে হয়তো দেড়শ রানও পার করতে পারত না ভারতয
আগের দিনের ৯/০ রান নিয়ে খেলতে নেমে দলকে ভালই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন যশস্বী জয়সওয়াল ও লোকেশ রাহুল। সকালের দিকো জোরে বোলিং বেশ ভালই সামলাচ্ছিলেন লোকেশ রাহুল। কেশব মহারাজের স্পিনেই বেসামাল। স্লিপে ক্যাচ দিলেন রাহুল (৬৩ বলে ২২)। যশস্বী জয়সওয়াল যথেষ্ট সাবলীল ছিলেন। হাফ সেঞ্চুরির পর সাইমন হারমারের বাউন্স সামলাতে পারলেন না যশস্বী (৯৭ বলে ৫৮)। সাই সুদর্শনও (৪০ বলে ১৫) ব্যর্থ। তিন ন্বরে ব্যাট করাটা অত সোজা নয়, সুদর্শনের বোঝা উচিত ছিল।
যশস্বী যখন আউট হন, ভারতের রান ছিল ৯৫। এরপরই ধস। সুদর্শনের পর ফিরে যান ধ্রুব জুরেল (০)। ইডেনেও ব্যর্থ হয়েছিলেন। সরফরাজ খানের মতো ব্যাটাররা দলে সুযোগ পান না, আর দিনের পর দিন ব্যর্থ হন জুরেলরা। জুরেলকে বাউন্সারের প্রলোভনে ফেলে তুলে নেন জানসেন। ভারতীয় মিডল অর্ডারে ধস নামান এই দীর্ঘদেহী প্রোটিয়া বোলার। ঋষভ (৭) ভেবেছিলেন আক্রমণ শানিয়ে ছন্দ নষ্ট করবেন প্রোটিয়া বোলারদের। টি২০ ঢংয়ে জানসেনকে ওড়াতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ। রবীন্দ্র জাদেজাও (৬) জানসেনের শিকার। দলে নীতীশ রানার ভূমিকা কী, একমাত্র গম্ভীরই বলতে পারবেন।
১২২ রানে ৭ উইকেট। লড়াই শুরু ওয়াশিংটন ও কুলদীপের। দুই ব্যাটার দেখিয়ে দিলেন উইকেট জুজু ছিল না। ১৯৪ পর্যন্ত দলকে টেনে নিয়ে গেলেন। ওয়াশিংটনকে (৯২ বলে ৪৮) তুলে নিয়ে জুটি ভাঙলেন হারমার। কুলদীপ (১৩৪ বলে ১৯) ও বুমরাকে (৫) তুলে নিয়ে ভারতকে ২০১ রানে গুটিয়ে দেন জানসেন। ৪৮ বলে ৬ উইকেট নিয়ে ভারতকে শেষ করে দিলেন এই প্রোটিয়া বোলার। ৬৪ রানে ৩ উইকেট হারমারের। দিনের শেষে দক্ষিণ আফ্রিকা তুলেছে ২৬। ক্রিজে রয়েছেন এইডেন মার্করাম (১২) ও রায়ান রিকেলটন (১৩)।