বিদেশি দলকে ডেকে নিয়ে এসে স্পিনের ফাঁদে ফেলে একের পর এক টেস্ট জেতার বদঅভ্যাসটা চালু হয়েছিল মহম্মদ আজহারউদ্দিনের নেতৃত্বের সময় থেকে। রাজেশ চৌহান, বেঙ্কটপতি রাজু, নরেন্দ্র হিরওয়ানিদের পরবর্তীকালে ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছিলেন অনিল কুম্বলে, হরভজন সিং, রবিচন্দ্রন অশ্বিনরা। স্পিনিং ট্র্যাক বানিয়ে একের পর সিরিজ জয়। সেই স্পিনিং ট্র্যাকই এখন বুমেরাং হয়ে ফিরে আসছে। দেশের মাটিতে পরপর দুটো সিরিজে স্পিনারদের কাছেই নাস্তানাবুদ ভারত।
গতবছর ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৩–০ ব্যাবধানে সিরিজ হারতে হয়েছিল ভারতকে। অখ্যাত স্পিনার মিচেল স্যান্টনার বিপর্যস্ত করে দিয়েছিলেন বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা সমৃদ্ধ ভারতীয় ব্যাটিং লাইনকে। আর এবার আর এক অখ্যাত স্পিনার সাইমন হারমার। দক্ষিণ আফ্রিকার এই স্পিনারের কাছে অসহায় আত্মসর্পন ভারতীয় ব্যাটিং লাইনের। ইডেনের পর গুয়াহাটিতে দ্বিতীয় টেস্টেও হার। গুয়াহাটিতে ভারতকে ৪০৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ২–০ ব্যবধানে সিরিজ দিতে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। রানের দিক দিয়ে এটাই ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে পরাজয়। ঘরের মাঠে পরপর দুটো সিরিজে হোয়াইটওয়াশ।
প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা তুলেছিল ৪৮৯। জবাবে ভারত গুটিয়েও যায় ২০১ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৬০/৬ রান তুলে ইনিংস সমাপ্তি ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা।
জয়ের জন্য ভারতের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৫৪৯। বিশাল ব্যবধান তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিনের শেষে ভারত ২ উইকেট হারিয়ে তুলেছিল ২৭। ক্রিজে ছিলেন নৈশপ্রহরী কুলদীপ যাদব ও সাই সুদর্শন। পঞ্চম দিন সকালে প্রোটিয়া স্পিনারদের ভেলকি শুরু। প্রথমেই কুলদীপ যাদবের (৫) স্টাম্প ছিটকে দেন সাইমন হারমার। একই ওভারে ফেরান ধ্রুব জুরেলকে (২)। এরপর ঋষভ পন্থকেও (১৩) তুলে নেন হারমার।
সাই সুদর্শনের সঙ্গে জুটি বেঁধে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন রবীন্দ্র জাদেজা। ৯৫ রানের মাথায় সুদর্শনকে তুলে নিয়ে জুটি ভাঙেন সেনুরান মুথুস্বামী। ১৪৯ বল ক্রিজে কাটিয়ে মাত্র ১৪ রান করে আউট হন সুদর্শন। এরপর ওয়াশিংটন সুন্দর জাদেজাকে কিছুটা সঙ্গ দেন। আবার ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন হারমার। ওয়াশিংটনকে (৪৪ বলে ১৬) তুলে নিয়ে জুটি ভাঙেন। এক ওভার পরেই ফেরান নীতীশ কুমার রেড্ডিকে (৩)। ৮৭ বলে ৫৪ রান করে কেশব মহারাজের বলে স্টাম্প হন রবীন্দ্র জাদেজা। এরপর মহম্দদ সিরাজকে (০) তুলে নিয়ে ভারতকে ১৪০ রানে গুটিয়ে দেন মহারাজ। দুরন্ত বোলিং করে ৩৭ রানে ৬ উইকেট নেন সায়মন হারমার। তিনিই সিরিজের সেরা। ম্যাচের সেরা হয়েছেন মার্কো জানসেন।