এবছরও কি বোলিং সমস্যায় ভুগতে হবে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে? প্রথম দুটি ম্যাচে তেমনই ইঙ্গিত। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ম্যাচে ২০০–র বেশি রান রক্ষা করতে পারেননি সুনীল নারাইনরা। ঘরের মাঠে এসেও বোলারদের সেই দৈন্যদশা। সঙ্গে ব্যাটিং ব্যর্থতা। ইডেনে নাইট বোলারদের তুলোধোনা করে ২২৬/৮ তোলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। জবাবে ১৬১ রানে গুটিয়ে যায় নাইটরা। অজিঙ্কা রাহানের দলের হার ৬৫ রানে।
সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ব্যাটিং শক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনও জায়গা নেই। ট্রেভিস হেড, অভিষেক শর্মার মতো দুই বিধ্বংসী ওপেনার। মিডল অর্ডারে রয়েছেন ঈশান কিষাণ, হেনরিখ ক্লাসেন, অনিকেত ভার্মারা। সেই দলের বিরুদ্ধে ভাল বোলিং লাইন না হলে মুশকিল। হাড়ে হাড়ে টের পেলেন সুনীল নারাইন, বরুণ চক্রবর্তী, কার্তিক ত্যাগী, বৈভব আরোরারা। টি২০ বিশ্বকাপ থেকেই বরুণ চক্রবর্তীর ‘মিস্ট্রি’ ধরা পড়ে গেছে। তিনি আর ‘রহস্যজনক বোলার’ নেই। সুনীল নারাইনের স্পিনও আর তেমন কাজ করছে না। হর্ষিত রানার অভাব মেটাতে পারছেন না বৈভব, কার্তিকরা। ক্যামেরুন গ্রিনও বোলিং করছেন না। ফলে নাইটদের বোলিংয়ের দৈন্যদশা ফুঠে উঠছে।
এদিন নাইট বোলারদের ওপর প্রথম থেকেই তাণ্ডব শুরু করেছিলেন দুই ওপেনার ট্রাভিস হেড ও অভিষেক শর্মা। ৫.৩ ওভারে তুলে ফেলেছিলেন ৮২। মাত্র ২১ বলে ৪৬ রান করে আউট হন হেড। ঈশান ক্রিজে নেমে ঝড় তুললেও মাত্র ১৪ রান করে আউট হন। একই ওভারে অভিষেক শর্মাকেও (২১ বলে ৪৮) তুলে নেন ব্লেসিং মুজারাবানি। পরের ওভারে অনিকেত ভার্মাকে (১) ফেরান অনুকূল রায়। ১১১/১ থেকে হঠাৎ ১১৮/৪ হয়ে যায় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। দ্রুত সেরা তিন ব্যাটারকে হারিয়ে চাপে পড়ে যায়। এরপর দলকে টেনে তোলেন হেনরিখ ক্লাসেন ও নীতিশ কুমার রেড্ডি।
ক্লাসেন ও নীতিশের জুটিতে ওঠে ৮২। নীতিশকে (২৪ বলে ৩৯) তুলে নিয়ে জুটি ভাঙেন বৈভব আরোরা। একই ওভারে সলিল আরোরাকেও (০) ফেরান বৈভব। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২২৬ রান তোলে হায়দরাবাদ। ৩৫ বলে ৫২ রান করেন হেনরিখ ক্লাসেন। ব্লেসিং মুজারাবানি ৪১ রানে ৪ উইকেট পান। ৪৭ রানে ২ উইকেট নেন বৈভব আরোরা। কার্তিক ও অনুকূল রায় ১টি করে উইকেট নেন। দলের দুই সেরা স্পিনার সুনীল নারাইন ও বরুণ চক্রবর্তী উইকেটহীন।
শুধু নাইট কেন, সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বোলিং শক্তিও আহামরি নয়। প্যাট কামিন্সের অভাব রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ম্যাচেই ফুটে উঠেছিল। ইডেনেও সেই একই ছবি। ডেভিড পেন, হর্শ দুবেরা কামিন্সের অভাব মেটাতে পারেননি। ডেভিড পেনের প্রথম ওভারে ওঠে ২৫। এর মধ্যে ৫ বলে ২৪ করেন ফিন অ্যালেন। যদিও অ্যালেনের ঝড় বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দ্বিতীয় ওভারেই হর্শ দুবের বলে তাঁর হাতেই ক্যাচ দিয়ে আউট হন অ্যালেন (৭ বলে ২৮)।
অ্যালেন আউট হওয়ার ক্রিজে নেমেই ঝড় তোলেন অঙ্গকৃশ রঘুবংশী। অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে অবশ্য এদিন একেবারেই সুবিধা করতে পারেননি। ১০ বলে ৮ রান করে তিনি জয়দেব উনাদকাটের বলে আউট হন। পাওয়ার প্লে–র শেষ বলে অঙ্গকৃশ রঘুবংশীর সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে আউট হন ক্যামেরন গ্রিন (২ বলে ২)। পাওয়ার প্লে–র ৬ ওভারে নাইটরা তোলে ৭৪/৩।
তখনও অবশ্য নাইটদের জয়ের আশা কিছুটা হলেও ছিল। কিন্তু রঘুবংশীর আউট হওয়ার পর আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়। রিঙ্কু সিংয়ের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হন রঘুবংশী। ২৯ বলে তিনি করেন ৫২। একই ওভারে আউট হন অনুকূল রায় (০)। এরপরই ধস নামে নাইট রাউডার্স ইনিংসে। পরপর ফিরে যান রিঙ্কু সিং (২৫ বলে ৩৫), সুনীল নারাইন (৪ বলে ১২), রমনদীপ সিং (৯ বলে ১০), কার্তিক ত্যাগী (৫ বলে ৫) ও বরুণ চক্রবর্তী (০)। ১৬ ওভারে ১৬১ রানে গুটিয়ে যায় নাইটরা। ২১ রানে ৩ উইকেট নেন জয়দেব উনাদকাট। ২টি করে উইকেট পান এশান মালিঙ্গা ও নীতিশ রেড্ডি।