এবারের আইপিএলের নিলামে অনেক বদল হয়েছে। এই যেমন সঞ্জু স্যামসন রাজস্থান রয়্যালস ছেড়ে চেন্নাই সুপার কিংসে। অন্যদিকে, চেন্নাই ছেড়ে রাজস্থানে রবীন্দ্র জাদেজা। নতুন দলের জার্সিতে দুই তারকা কেমন খেলেন, সকলেরই আগ্রহ ছিল। সঞ্জু ব্যর্থ হলেও সফল জাদেজা। তবে সবাইকে ছাপিয়ে নজর কাড়লেন বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ১৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি। ভাঙলেন নিজের রেকর্ড। তাঁর ব্যাটিং তাণ্ডবে উড়ে গেল চেন্নাই। ধোনিহীন চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে ৮ উইকেটে সহজ জয় রাজস্থানের।
রাজস্থানের জয়ের প্ল্যাটফর্ম অবশ্য গড়ে দিয়েছিলেন বোলাররা। গুয়াহাটির বর্ষাপাড়ার স্যাঁতসেঁতে উইকেটে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রাজস্থান অধিনায়ক রিয়ান পরাগ। অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে দ্বিতীয় ওভারেই ধাক্কা নান্দ্রে বার্গারের। তাঁর দুরন্ত ডেলিভারি ছিটকে দেয় সঞ্জুর অফ স্টাম্প। টি২০ বিশ্বকাপের নায়ক আইপিএলের প্রথম ম্যাচেই ব্যর্থ। ৭ বলে সংগ্রহ মাত্র ৬।
দ্বিতীয় ওভারে সঞ্জু স্যামসনের আউটের ধাক্কা সামলানোর সুযোগ পায়নি চেন্নাই। পরের ওভারেই অধিনায়ক ঋতুরাজ গায়কোয়াড়কে (১১ বলে ৬) তুলে নেন জোফ্রা আর্চার। চতুর্থ ওভারে চেন্নাই শিবিরে আবার আঘাত হানেন নান্দ্রে বার্গার। এবার তুলে নেন আয়ুশ মাত্রেকে (০)। অনফিল্ড আম্পায়ার প্রথমে আউট দেননি। ডিআরএস নেন রিয়ান। টিভি আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে ডাগ আউটে ফিরতে হয় আয়ুশকে।
৩.১ ওভারের মধ্যে ১৯ রানে ৩ ব্যাটার ডাগ আউটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আয়ুশের পরিবর্তে দ্রুত সরফরাজ খানকে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে নামাতে বাধ্য হয় চেন্নাই টিম ম্যানেজমেন্ট। তাতেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। দলকে ভরসা দিতে ব্যর্থ সরফরাজও (১২ বলে ১৭)। পুরনো দলের বিরুদ্ধে নিজের প্রথম ওভারেই জোড়া সাফল্য। সরফরাজকে তুলে নেওয়ার পর ফেরান শিবম দুবেকেও (৪ বলে ৬)। জাদেজার এই জোড়া ধাক্কা সামলাতে পারেনি চেন্নাই।
শিবম আউট হওয়ার পর একসময় মনে হচ্ছিল চেন্নাই হয়তো ১০০ রানের গণ্ডিও টপকাতে পারবে না। কার্তিক শর্মাকে (১৫ বলে ১৮) নিয়ে লড়াই করেন জেমি ওভারটন। ওভারটনের সৌজন্যেই ১০০ রানের গণ্ডি পার করে ফেলে চেন্নাই। ৩৬ বলে ৪৩ রান করে রান আউট হন ওভারটন। শেষ পর্যন্ত ১৯.৪ ওভারে ১২৭ রান তুলতে সমর্থ হয় চেন্নাই। রবীন্দ্র জাদেজা ১৮ রানে ২টি, জোফ্রা আর্চার ১৯ রানে ২টি ও নান্দ্রে বার্গার ২৬ রানে ২টি উইকেট নেন।
জয়ের জন্য ১২৮ রানের লক্ষ্য মোটেই কঠিন ছিল না রাজস্থানের কাছে। তাছাড়া পরের দিকে উইকেটে স্যাঁতসেঁতে ভাব কেটে যাওয়ায় শট খেলা সহজ হয়ে গিয়েছিল। সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে শুরু থেকেই ঝড় তোলেন বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ১৫ বলে হাফ সেঞ্চুরিতে পৌঁছে যান। অল্পের জন্য রক্ষা পেল যশস্বী জয়সওয়ালের দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ড। ১৩ বলে ৫০ করেছিলেন যশস্বী। যশস্বীর রেকর্ড ভাঙতে না পারলেও নিজের রেকর্ড উন্নত করলেন বৈভব। এর আগে তার দ্রুততম ৫০ ছিল ১৭ বলে। শেষ পর্যন্ত ১৭ বলে ৫২ রান করে আউট হন বৈভব। মারেন ৪টি ৪, ৫টি ৬। ৯ বলে ১৮ রান করে আউট হন ধ্রুব জুরেল। ১২.১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় রাজস্থান (১২৮)। ৩৬ বলে ৩৮ রান করে অপরাজিত থাকেন যশস্বী। ১১ বলে ১৪ রান করে অপরাজিত থাকেন রিয়ান পরাগ। চেন্নাইয়ের হয়ে ২টি উইকেটই নেন অংশুল কম্বোজ।