ট্রেন্ডিং

Bangladesh T20 World Cup Boycott

ভারতে টি২০ বিশ্বকাপ বয়কট, অথচ এশীয় শুটিংয়ে দল পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ, কেন এই দ্বিচারিতা?

নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ২০২৬ টি২০ বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে দল পাঠাল না, অথচ শুটিং দলকে এশীয় রাইফেল ও পিস্তল শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে দিল্লি পাঠাচ্ছে বাংলাদেশের মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। এইরকম দ্বিচারিতা কেন?‌ রাজনীতির সঙ্গে ক্রিকেটকে গুলিয়ে ফেলেছে। সেইসঙ্গে নিজেদের পায়ে নিজেরাই কুড়ুল মেরেছে বাংলাদেশ। তবে আইসিসি–ও কি একটু সদয় হতে পারত না বাংলাদেশের ওপর?‌

ক্রিকেটকে বারবার রাজনীতির সঙ্গে মিশিয়ে ফেলছেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ।

কঙ্কনা ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৩০, ২০২৬
Share on:

নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ২০২৬ টি২০ বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সরকারের ভারতে দল না পাঠানোর মূল কারণ মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলে খেলতে না দেওয়া। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড চেয়েছিল, ভারতের পরিবর্তে তাদের ম্যাচগুলি শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরিত করা হোক। আইসিসি সেই অনুরোধ প্রত্যাখান করায় বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের। বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ দিয়েছে আইসিসি। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা কি একটু সদয় হতে পারত না বাংলাদেশের ওপর?‌  

বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বক্তব্য, একজন ক্রিকেটারকে যেখানে নিরাপত্তা দিতে পারবে না ভারত, সেখানে গোটা দল, সাপোর্ট স্টাফ, সমর্থক, সাংবাদিকদের কীভাবে নিরাপত্তা দেবে?‌ কারণ, বিশ্বকাপ খেলতে শুধু ক্রিকেটাররা আসবেন না, বাংলাদেশী ক্রিকেট অনুরাগীরা যেমন আসবেন প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে, তেমনই বহু সাংবাদিকও আসবেন ম্যাচ কভার করতে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এই মুহূর্তে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক যে জায়গায় পৌঁছেছে, তাতে বাংলাদেশীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা অমূলক নয়। তাই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাংলাদেশের সিদ্ধান্তকে একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ভারত–বাংলাদেশের মধ্যে যে উত্তপ্ত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি চলছে তাতে যদি এদেশে আসার পর কোনও বাংলাদেশের ক্রিকেটার কিংবা সমর্থক বা সাংবাদিকের ক্ষতি হয়, তার দায় কে নেবে। ভারত যদি একজন ক্রিকেটারকে নিরাপত্তা না দিতে পারে, তাহলে কীভাবে গোটা দলসহ সাধারণ সমর্থক এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দেবে? প্রশ্ন উঠছে সেখানেই।


আইসিসি বিষয়টি নিয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ। পাকিস্তানের দাবি মেনে হাইব্রিড মডেল অনুসরণ করে তাদের ম্যাচ যদি শ্রীলঙ্কায় দিতে পারে, তাহলে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বিশেষভাবে বিবেচনা করে বাংলাদেশের ম্যাচ কেন স্থানান্তরিত করল না। আইসিসি–র উচিত ছিল আরও ঠান্ডা মাথায় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সমস্যার কথা মাথায় রেখে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়া। কিন্তু আইসিসি তা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আইসিসি–র চেয়ারম্যান যদি জয় শাহ না হয়ে অন্য কেউ হতেন, তাহলে এইরকম পরিস্থিতিতে পড়তে হত না বাংলাদেশকে। আসলে নিজের ইগো বজায় রাখতে গিয়ে বাংলাদেশকে বলি করেছেন আইসিসি চেয়ারম্যান। জগমোহন ডালমিয়ার মতো যদি কোন ক্রিকেট প্রশাসক আইসিসি–র চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকতেন, তাহলে এই পরিস্থিতিতে পড়তে হত না বাংলাদেশকে।

তবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশও তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে যথেষ্ট ভুল করেছে। রাজনীতির সঙ্গে তারা ক্রিকেটকে গুলিয়ে ফেলেছে। সেইসঙ্গে নিজেদের পায়ে নিজেরাই কুড়ুল মেরেছে। বারবার ভারতকে অপদস্ত করে, ভারতের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা ক্রমশই নিজেদের ভিত আলগা করছে বিশ্ব ক্রিকেটের মাঠে। শুধু কি বাংলাদেশের একার দায়?‌ দায় রয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডেরও। তাদের উস্কানিতেই তো বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশকে গাছে তুলে দিয়ে মই নিয়ে পালিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি মুখে বিশ্বকাপ না খেলার কথা বললেও সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এসেছে। ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে দল পাঠাল না, অথচ শুটিং দলকে এশীয় রাইফেল ও পিস্তল শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে দিল্লি পাঠাচ্ছে বাংলাদেশের মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। এইরকম দ্বিচারিতা কেন?‌  

আরও পড়ুনঃ

অন্যান্য খবর

Inside Bangla is a comprehensive digital news platform. This web portal started its humble journey. Its courageous journalism, presentation layout and design quickly won the hearts of people. Our journalists follow the strict Journalism ethics.

Copyright © 2026 Inside Bangla News Portal . All Rights Reserved. Designed by Avquora