ট্রেন্ডিং

NEET PG 2025 Cutoff Reduced

শূন্যের কম নম্বর পেয়েও MD এবং MS পড়তে পারবেন চিকিৎসকরা!‌ NEET–PG তে কাট–অফ মার্ক কমাল কেন্দ্র

শূন্যের কম নম্বর পেয়েও MD এবং MS পড়তে পারবেন চিকিৎসকরা! হায় রে, দেশের চিকিৎসা শিক্ষার কী হাল!‌ ২০২৫ সালের চিকিৎসকদের স্নাতকোত্তর নিট পরীক্ষার যোগ্যতার কাট–অফ নম্বর উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। দেশে ডাক্তারের তীব্র সঙ্কট মেটাতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তে, ডাক্তারদের গুনমান নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

NEET–PG–তে কাট–অফ মার্ক কমানোর সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের।

ইনসাইড বাংলা ওয়েব ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৪, ২০২৬
Share on:

শূন্যের কম নম্বর পেয়েও MD এবং MS পড়তে পারবেন চিকিৎসকরা! হায় রে, দেশের চিকিৎসা শিক্ষার কী হাল!‌ ২০২৫ সালের চিকিৎসকদের স্নাতকোত্তর নিট পরীক্ষার যোগ্যতার কাট–অফ নম্বর উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের এই সিদ্ধান্ত মেডিকেল কলেজগুলিতে ৯ হাজারের বেশি শূন্য স্নাতকোত্তর মেডিকেল আসন পূরণের পথ প্রশস্ত করেছে। দেশে ডাক্তারের তীব্র সঙ্কট মেটাতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তে, ডাক্তারদের গুনমান নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। 

NEET–PG–তে কাট–অফের হার বেশি থাকার কারণে হাজার হাজার আসন খালি ছিল। ফলে ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (‌IMA)‌ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের কাছে স্নাতকোত্তর নিট পরীক্ষার যোগ্যতামান সংশোধন করার অনুরোধ করেছিল। সরকার তাদের অনুরোধ মেনে নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে কম নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীরাও স্নাতকোত্তরে ভর্তি হতে পারবেন। 

সংশোধিত মানদণ্ডের অধীনে, সাধারণ বিভাগ এবং দারিদ্র সীমার নীচে থাকা প্রার্থীদের জন্য যোগ্যতামান ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে। সাধারণ বিভাগের প্রতিবন্ধীদের জন্য ৪৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। একইভাবে, SC, ST এবং OBC প্রার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কাট–অফ স্কোর ৮০০ এর মধ্যে নেতিবাচক মার্কিংয়ের কারণে (‌-৪০)‌। 

ন্যাশনাল বোর্ড অফ এক্সামিনেশনস ইন মেডিকেল সায়েন্সেস (NBEMS) এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে, যা কাউন্সেলিং এবং ভর্তির যোগ্যতা উন্নত করার জন্য সকল বিভাগের যোগ্যতার শতাংশ সংশোধন করেছে। কর্তারা জানিয়েছেন যে, এই বছর প্রায় ২.৪ লক্ষ প্রার্থী NEET–PG পরীক্ষায় বসেছিলেন। কিন্তু উচ্চ কাট–অফের কারণে হাজার হাজার আসন খালি রয়েছে। স্নাতকোত্তরে গোটা দেশে ৬৫০০০ থেকে ৭০০০০ পিজি মেডিকেল আসন রয়েছে। এক–সপ্তমাংশ আসন খালি থাকার ফলে হাসপাতালে শিক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং স্বাস্থ্যসেবা পরিষেবার ওপর চাপ পড়বে, বিশেষ করে যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠান আবাসিক ডাক্তারদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে।


১২ জানুয়ারি ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (IMA) এক প্রতিনিধিদল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে দেখা করে একটা চিঠি দেন। সেই  চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এই উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন করা হয়েছে। চিঠিতে বিপুল সংখ্যক শূন্য আসন পূরণের জন্য কাট–অফ সংশোধনের দাবি জানানো হয়েছিল। এই দাবির জবাবে, NBEMS কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে প্রবেশিকা পরীক্ষার উদ্দেশ্য হল একট মেধা তালিকা তৈরি করা, ইতিমধ্যেই MBBS এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ডাক্তারদের যোগ্যতা পুনর্মূল্যায়ন করা নয়।

তবে, NBEMS স্পষ্ট করেছে যে কাট•অফ পরিবর্তন পরীক্ষার স্কোর বা র‌্যাঙ্কিং পরিবর্তন করে না, বরং কেবল কাউন্সেলিংয়ে অংশগ্রহণের জন্য কে যোগ্য তা নির্ধারণ করে। কর্মকর্তারা ব্যাখ্যা করেছেন যে পার্সেন্টাইল সিস্টেমটি ইতিমধ্যেই যোগ্য ডাক্তারদের র‌্যাঙ্ক করার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং সমস্ত স্নাতকোত্তর আসন পূরণের জন্য পর্যাপ্ত প্রার্থী রয়েছে তা নিশ্চিত করার জন্য কাট–অফ কমানো হয়েছে। আইএমএ আরও সতর্ক করে দিয়েছিল যে, শূন্য আসন আবাসিক ডাক্তারের ঘাটতি আরও বাড়িয়ে তুলবে, ডাক্তারদের ওপর কাজের চাপ বৃদ্ধি করবে, পড়াশোনা ব্যাহত করবে এবং রোগীদের পরিষেবার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে, বিশেষ করে সরকারি এবং ছোট হাসপাতালে।

কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনাও করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স–এ @theskindoctor13 এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘‌এখন পর্যন্ত, SC, ST এবং OBC প্রার্থীদের জন্য স্নাতকোত্তর মেডিকেল আসনের জন্য ন্যূনতম যোগ্যতার মানদণ্ড ছিল ৪০ শতাংশ। অর্থাৎ ৮০০ নম্বরের মধ্যে প্রায় ২৩৫। কিন্তু এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রকের আদেশ অনুসরণ করে এটা ০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। যার অর্থ আসনের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে ৮০০ নম্বরের মধ্যে -৪০ (‌মাইনাস ৪০) পাওয়া চিকিৎসকও যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।’‌ এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে আরও লেখা হয়েছে, ‘‌এটা এমন একটা পেশা, যা সরাসরি জীবন ও মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত। যেখানে দক্ষতা অবশ্যই সুনির্দিষ্ট এবং আলোচনাযোগ্য হতে হবে। কিন্তু এখন এটা এতটা নিচে নেমে এসেছে। সম্ভবত ভারতই বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে মানের এত বিপজ্জনক পতন। এটা কেবল সহ্য করা হয় না, বরং সক্রিয়ভাবে উৎসাহিত করা হয়।’

আরও পড়ুনঃ

অন্যান্য খবর

Inside Bangla is a comprehensive digital news platform. This web portal started its humble journey. Its courageous journalism, presentation layout and design quickly won the hearts of people. Our journalists follow the strict Journalism ethics.

Copyright © 2026 Inside Bangla News Portal . All Rights Reserved. Designed by Avquora