‘আচ্ছা চলতা হু দুয়াও মে ইয়াদ রাখনা’। অরিজিৎ সিং ‘প্লেব্যাক’ থেকে অবসর ঘোষণার পর তাঁর অনুরাগীদের মনের মধ্যে যেন এই গানটাই সর্বদা বেজে চলেছে। আর সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে তার নিদর্শন বেশ চোখে পড়ার মতো। ৮ থেকে ৮০, প্রায় সকলেরই প্রিয় অরিজিৎ সিং। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না ভক্তরা।
গায়ক হিসাবে অরিজিৎ সিংয়ের আত্মপ্রকাশ ঘটে ‘মার্ডার’ সিনেমায় ‘ফির মহব্বত’ গানের মাধ্যমে। যা ২০০৯ সালে রেকর্ড করা হয় আর ২০১১ সালে প্রকাশিত হয়। অরিজিতের জনপ্রিয়তা ‘দুয়া’ এবং ‘তুম হি হো’–র মত সুপারহিট গান গেয়ে। হিন্দি, বাংলা, তেলেগু ও আরও বিভিন্ন ভাষা মিলিয়ে ৭০০–রও বেশি গান গেয়েছেন।
মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই কেরিয়ারের প্রায় সর্বোচ্চ শিখরে থাকা সত্বেও হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত তিনি কেনও নিলেন, সেই বিষয় নিয়ে তাঁর অনুরাগীদের মধ্যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। আর সেই কারণেই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তাঁর অনুরাগীরা বিভিন্ন ছবি, ভিডিও, লেখা পোস্ট করছে।
কেউ দুঃখ প্রকাশ করেছেন। কেউ আবার বলিউড ইন্ডাস্ট্রিকে দোষারোপ করছেন। কেউ কেউ সলমান খানের সঙ্গে অরিজিতের পুরনো ঝামেলার কথাও স্মরণ করছেন। অনেকেই অতি দুঃখের সঙ্গে বিভিন্ন ভিডিও বানিয়ে পোস্ট করছেন যা প্রতিপন্ন করছে যেন তিনি একেবারে সঙ্গীতের দুনিয়া থেকেই অবসর ঘোষণা করেছেন। যা একেবারেই নয়। তিনি শুধুমাত্র প্লেব্যাক থেকেই অবসর নিয়েছেন, যদিও পরবর্তীকালে তিনি কীভাবে আবার তাঁর অনুরাগীদের সামনে ফিরে আসবেন তাঁর সঙ্গীতের ডালি নিয়ে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
অরিজিৎ সিং মানেই মাটির মানুষ, বিদেশী তারকাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জনপ্রিয় গান বানিয়ে, কোটি কোটি টাকার শো করেও, অজস্র হিট গান দিলেও তিনি মাটিতে পা রেখে চলতে জানেন। তিনি গোটা বিশ্বের কাছে অরিজিৎ সিং হয়েও জিয়াগঞ্জের মানুষের কাছে আজও ঘরের ছেলে। জিয়াগঞ্জের অলিতে গলিতে স্কুটি নিয়ে অনায়াসে ঘুরে বেড়ান, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা মারেন। একেবারে মধ্যবিত্ত জীবন কাটান। তাই বোধহয় সাধারণ জনতার কাছে অরিজিৎ সিং একটু বেশিই প্রিয়। তাই তাঁর হঠাৎ এমন প্লেব্যাক থেকে অবসর ঘোষণা অনুরাগীদের আর সর্বোপরি সঙ্গীতপ্রেমী মানুষদের মনে বড় আঘাত দিয়েছে।
অনেকেই মনে করছেন, নতুন শিল্পীদের জায়গা করে দেওয়ার জন্যই হয়তো এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অরিজিৎ। কারও কারও বক্তব্য স্বাধীনভাবে কিছু করতে চান বলেই প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে এই নিয়ে সমাজ মাধ্যম রীতিমতো তোলপাড়। ভক্তরা এতটাই শোকাতুর, অনেক বড় বড় দুঃখের ঘটনার ক্ষেত্রেও এত শোক দেখা যায় না। মানুষ এখন ট্রেন্ডে গা ভাসাতে ব্যস্ত। যিনি দুদিন আগেও হয়তো অরিজিৎ সিংয়ের গান শুনতেন না, তিনিই এখন তাঁর সবথেকে বড় ফ্যান হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মরাকান্না জুড়ে দিয়েছেন। যাইহোক এখন এটাই দেখার যে, অরিজিৎ সিং আবার কবে তাঁর অনুরাগীদের মাঝে স্বমহিমায় ফিরে আসেন অসামান্য গানের ঝুলি নিয়ে।