এবছর ‘জুনিয়র মিস ইন্ডিয়া’ প্রতিযোগিতায় তাক লাগিয়ে দিয়েছে নির্মাণ সামগ্রী ব্যবসায়ীর কন্যা। বাংলার মুখ উজ্জ্বল করলেন প্রিন্সিপ্রিয়া ভৌমিক। দেশের সেরা সুন্দরী নির্বাচিত হয়েছে মালদার এই মেয়ে। রাজস্থানের জয়পুরে অনুষ্ঠিত জাতীয় স্তরের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় গোটা দেশের ১৭৪ জন প্রতিযোগীক পেছনে ফেলে এবছর ‘জুনিয়র মিস ইন্ডিয়া’ শিরোপা জিতে নিয়েছে প্রিন্সিপ্রিয়া। তার সাফল্যে গর্বিত মালদা তথা গোটা বাংলা।
এবছর ৬ থেকে ৮ জানুয়ারি রাজস্থানের জয়পুরে বলেছিল জাতীয় সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার আসর। জুমি লাক্সের পক্ষ থেকে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। জুনিয়র বিভাগে ২৬টি রাজ্য থেকে মোট ১৭৫ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিল। ৩ ধরে চলা প্রতিযোগিতার প্রথম দিন ছিল প্র্যাকটিশ সেশন। দ্বিতীয় দিন কালচারাল রাউন্ড৷ কালচারাল রাউন্ডে বাংলার প্রতিনিধিত্ব করেছিল প্রিন্সিপ্রিয়া। বাংলার নবান্ন উৎসব ছিল তার বিষয়৷ দ্বিতীয় দিনের প্রতিযোগিতায় রানার্স হয়েছিল প্রিন্সিপ্রিয়া। তৃতীয় দিনের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় বাজিমাত প্রিন্সিপ্রিয়ার।
চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় একটা ডিজাইনার ড্রেস রাউন্ডের সঙ্গে নিজের তৈরি গাউন পরে র্যাম্পে হেঁটেছিল প্রিন্সিপ্রিয়া। ৫ বছর বয়স থেকেই তার র্যাম্পে হাঁটার অভ্যাস। সেই অভিজ্ঞতা এবার কাজে লাগল। ১৫ থেকে ১৬ বছর বয়সী বিভাগে দেশের সেরা সুন্দরী নির্বাচিত হয়েছে প্রিন্সিপ্রিয়া। বিচারকের আসনে ছিলেন কৃতি রাঠোর, শেফালি সুদ, রিভা আরোরা, শোভা গোরি, উন্নতি সিং, অলোক শ্রীবাস্তব, ডঃ প্রশান্ত চৌবের মতো বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরা ৷
আরও পড়ুনঃ জম্মু–কাশ্মীরে রাজৌরির নিয়ন্ত্রণ রেখায় উড়ে এল সন্দেহভাজন পাকিস্তানি ড্রোন, সেনাবাহিনীর গুলি খেয়ে পলাতক
আরও পড়ুনঃ শূন্যের কম নম্বর পেয়েও MD এবং MS পড়তে পারবেন চিকিৎসকরা! NEET–PG তে কাট–অফ মার্ক কমাল কেন্দ্র
মালদা শহরের ৩ নম্বর গভর্নমেন্ট কলোনিতে থাকে প্রিন্সিপ্রিয়া। শহরের নামী ইংরেজি মাধ্যমের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী। বাবা সুরজিৎ ভৌমিকের বাড়ির নীচেই নির্মাণ সামগ্রীর দোকান রয়েছে। মা পূর্ণিমা ভৌমিক চক্রবর্তী গৃহবধূ। বড় দিদি ইঞ্জিনিয়ার। বর্তমানে গুরুগ্রামে একটা নামী বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। জুনিয়র বিভাগে ‘মিস ইন্ডিয়া’ হওয়ার পর প্রিন্সিপ্রিয়ার লক্ষ্য এবার ‘মিস ইউনিভার্স’।
প্রিন্সিপ্রিয়া জানিয়েছে, ‘দিদি আর মায়ের ইচ্ছে ছিল আমি মিস ইন্ডিয়া, মিস ইউনিভার্সের মতো প্রতিযোগিতায় অংশ নিই৷ অবশেষে প্রাথমিক পর্যায়ে সফল হয়েছি। বাড়ি ফেরার পর থেকেই একের পর এক ফোন আসছে। সবাই দারুণ খুশি। এবার আমার লক্ষ্য মিস ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতায় মালদা তথা পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব করা৷ তারপর মিস ইন্ডিয়া হিসেবে মিস ইউনিভার্সে প্রতিনিধিত্ব করা৷ তার জন্য প্রস্তুতি চলছে। আপাতত মিস ইন্ডিয়ার জন্য এখন ২ বছরের প্রস্তুতি চলবে।’