রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ৪ বছর ধরে চলমান যুদ্ধে ৩২ জন ভারতীয় নিহত হয়েছেন। আরও ৩৫ জন ভারতীয়কে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। আকর্ষণীয় বেতনের লোভ দেখিয়ে প্রতারণা করে এই ভারতীয়দের রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে ভারতীয়দের নিয়োগ দিল্লি ও মস্কোর মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিষয়টি শুধু পররাষ্ট্রনীতির জন্যই একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে না, বরং কাজের সন্ধানে বিদেশে যাওয়া ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।
এজেন্টরা আকর্ষণীয় বেতন, বোনাস এবং নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বহু ভারতীয়কে রাশিয়ায় নিয়ে যায়। এরপর তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। অনেককে এমন মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়, যাতে জীবনের জেল থেকে ছাড়া না পায়। তাঁদের শর্ত দেওয়া হয়, সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেই জেল থেকে ছাড়া পাবেন। এইভাবেই ভারতীয়দের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং সংসদে এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে জানান যে, রুশ সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় ২৬ জন ভারতীয় নিহত হয়েছেন এবং ৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এই সংখ্যা এখন বেড়ে ৩২ হয়েছে, অন্যদিকে নিখোঁজ ভারতীয়দের সংখ্যা বেড়ে ১২ হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২১৪ জন ভারতীয় রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। দিল্লি কর্তৃপক্ষ এবং মস্কোতে অবস্থিত দূতাবাসের প্রচেষ্টায় তাঁদের মধ্যে ১৩৫ জনকে মুক্ত করে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সূত্রমতে, রুশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ৩৫ জন ভারতীয়র মুক্তি নিশ্চিত করতে নয়াদিল্লি সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এই ভারতীয়দের যত দ্রুত সম্ভব রুশ সেনাবাহিনী থেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব।
ভারতীয়দের জন্য উদ্বেগের আরেকটি বিষয় হল, রাশিয়ায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী, প্লাম্বার এবং নির্মাণ শ্রমিকের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করার জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত কিছু ভারতীয়কে এজেন্টরা রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ায় ভারতীয় শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ লক্ষে পৌঁছেছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলিতে রুশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় শহীদ হওয়া বেশ কয়েকজন ভারতীয়ের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। রবিবার ২৪ বছর বয়সী শচীন খাজুরিয়ার মরদেহ জম্মু জেলার আখুনুর শহরে আনা হয়। যদিও বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, তিনি গত বছর মারা গেছেন। ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে শহীদ হওয়া মনজিন্দর সিংয়ের মরদেহও ফেব্রুয়ারিতে তাঁর আর এস পুরার বাড়িতে আনা হয়েছিল। হরিয়ানার কাইথালের বাসিন্দা ২১ বছর বয়সী গীতিক শর্মার মরদেহ মার্চ মাসে রাশিয়া থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। তাঁর পরিবার জানিয়েছে, শর্মা ২০২৫ সালের মার্চ মাসে কাজের জন্য রাশিয়া গিয়েছিলেন। পরে তাঁকে রুশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করা হয় এবং ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি মারা যান।