ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া। বৃহস্পতিবার সকালে দেশের উত্তরাঞ্চলীয় মলুকা সাগরে একটা অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.৪। ভূমিকম্পের ফলে উত্তর ইন্দোনেশিয়ায় ছোট আকারের সুনামি সৃষ্টি হয়। পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার শহর টারনাটের উপকূলের কাছে উত্তর মলুকা সাগরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানায় পার্শ্ববর্তী দ্বীপগুলোর জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সুনামিতে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে অনুসারে, ভূমিকম্পটির প্রাথমিক মাত্রা ছিল ৭.৮ এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার (৬.২১ মাইল) গভীরে। কেন্দ্রস্থলটি ইন্দোনেশিয়ার উত্তর মালুকু প্রদেশে অবস্থিত টারনাট থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার (৭৫ মাইল) দূরে ছিল। মার্কিন সুনামি সতর্কতা ব্যবস্থা অনুসারে, কেন্দ্রস্থল থেকে ১,০০০ কিলোমিটার (৬২১ মাইল) ব্যাসার্ধের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন এবং মালয়েশিয়ার উপকূল বরাবর বিপজ্জনক সুনামি ঢেউয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হনলুলুর প্যাসিফিক সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে যে মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, তাইওয়ান এবং পাপুয়া নিউ গিনিতেও ছোট ঢেউ দেখা যেতে পারে। তবে হাওয়াই, গুয়াম এবং অন্যান্য দূরবর্তী দ্বীপপুঞ্জ ঝুঁকিতে নেই। ভূমিকম্পের ফলে ইন্দোনেশিয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনও ক্ষয়ক্ষতি, আহত বা মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় দুর্যোগ ত্রাণ সংস্থা এবং ইন্দোনেশিয়ার অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থা এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে ক্ষয়ক্ষতির কোনও রিপোর্ট প্রকাশ করেনি।
উত্তর সুলাওয়েসি প্রদেশের উপকূলীয় শহর বিটুং–এ ভূমিকম্প সবচেয়ে তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছিল। এখানকার বাসিন্দারা আতঙ্কে বাড়িঘর থেকে ছুটে বেরিয়ে আসেন। মার্টেন মান্দাগি নামে একজন বাসিন্দা জানান, ‘আমরা সবে ঘুম থেকে উঠেছিলাম। তখনই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। আমরা সবাই বাড়ি থেকে দৌড়ে বেরিয়ে আসি। কম্পন খুবই শক্তিশালী ছিল।’ তবে তাঁর এলাকায় কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে তিনি জানান। মান্দাগি আরও বলেন, ‘কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিনা তা আমরা এখনও খতিয়ে দেখছি। তবে আমরা এখানে নিরাপদে আছি। কোনও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।’ কর্তৃপক্ষ উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং সরকারি নির্দেশনামা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।