ট্রেন্ডিং

Donald Trump threatens Iranian ships blockade

‌হরমুজ প্রণালী অবরোধ শুরু করলেন ট্রাম্প, পাল্টা হুমকি ইরানের, লক্ষ্য পার্শ্ববর্তী উপসাগরীয় বন্দর

ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরই ইরানের কোনও বন্দর থেকে জাহাজ বার হতে না দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী অবরোধের কথাও জানিয়েছিলেন। তাঁর সেই কথা মতো মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর ওপর অবরোধ শুরু করেছে। ট্রাম্পের লক্ষ্য খুমেইনি বন্দর, খার্গ দ্বীপ, আব্বাস বন্দর ও জাস্ক টার্মিনাল থেকে ইরানের কোনও জাহাজ যাতে বার হতে না পারে।

হরমুজ অবরোধ করার হুমকি ট্রাম্পের।

ইনসাইড বাংলা ওয়েব ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৪, ২০২৬
Share on:

ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরই ইরানের কোনও বন্দর থেকে জাহাজ বার হতে না দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী অবরোধের কথাও জানিয়েছিলেন। তাঁর সেই কথা মতো মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর ওপর অবরোধ শুরু করেছে। ট্রাম্পের লক্ষ্য খুমেইনি বন্দর, খার্গ দ্বীপ, আব্বাস বন্দর ও জাস্ক টার্মিনাল থেকে ইরানের কোনও জাহাজ যাতে বার হতে না পারে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’–এ বলেছেন, ‘‌ইরানের নৌবাহিনী সমুদ্রের তলদেশে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে পড়ে আছে। ইরানের দু–একটা জাহাজ নয়, ১৫৮টি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছি। আমরা এখনও ওদের ফাস্ট অ্যাটাক শিপগুলি’ লক্ষ্যবস্তু করিনি। যদি এই জাহাজগুলি কোনওটা আমাদের অবরোধের কাছাকাছি আসে, কিংবা হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে সেগুলিকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। এই পদক্ষেপ হবে দ্রুত এবং নির্মম।’‌

ট্রাম্পের এই অবরোধের লক্ষ্য হল তেল বিক্রি বন্ধ করে দিয়ে সরাসরি ইরানের অর্থনীতির ওপর আঘাত হানা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে অন্যান্য দেশও সমস্যায় পড়বে। ট্রাম্পের অবরোধের জেরে ইরান থেকে তেলবাহী জাহাজ বার হতে না পারলে বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পাবে। ফলে সব দেশের অর্থনীতিতে তার প্রভাব পড়বে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে যে, অবরোধের সময়কালে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশকারী সব দেশের জাহাজ আটকে দেওয়া হবে। তবে, সেন্টকম স্পষ্ট করে দিয়েছে, অন্যান্য দেশের জাহাজ আটকান হবে না।


এদিকে, ইরানও পাল্টা হুমকি দিয়েছে। তেহরান পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছে, তাদের জাহাজ আটকে দেওয়া হলে তারা পার্শ্ববর্তী উপসাগরীয় বন্দরগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করবে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)–এর ছোট ও দ্রুতগামী আক্রমণকারী জাহাজের একটা পৃথক নৌবহর রয়েছে, যা বিশেষভাবে পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীর মতো জলসীমায় অভিযানের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই ছোট জাহাজগুলি দ্রুত আক্রমণ চালানো, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ, মাইন পাতা এবং বাণিজ্যিক জাহাজকে হয়রানি করতে সক্ষম। 

হরমুজ প্রণালীর সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশ প্রায় ২০ মাইল চওড়া, যা এই ছোট জাহাজগুলিকে কৌশলগত সুবিধা দেয়। এই জাহাজগুলি সহজেই ছদ্মবেশে রাখা যায় এবং ধ্বংস করা কঠিন। ১৯৮৮ সালের ট্যাঙ্কার যুদ্ধের পর ইরান এই কৌশল গ্রহণ করে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একদিনের লড়াইয়ে তাদের সবচেয়ে বড় জাহাজগুলি ধ্বংস করে দিয়েছিল। এরপর থেকে ইরান ছোট ও দ্রুতগামী জাহাজের ওপর বেশি মনোযোগ দিতে শুরু করে।

এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ শুরু করলেও ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মতো বেশ কয়েকটি ন্যাটো সদস্যভূক্ত দেশ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাতে অবরোধে অংশ নেবে না। এই দেশগুলি জানিয়েছে, সংঘাত বাড়ানোর পরিবর্তে তাদের লক্ষ্য হল হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া। কারণ বিশ্বের প্রায় ২০% তেল এই প্রণালী দিয়েই যায়। যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

আরও পড়ুনঃ

অন্যান্য খবর

Inside Bangla is a comprehensive digital news platform. This web portal started its humble journey. Its courageous journalism, presentation layout and design quickly won the hearts of people. Our journalists follow the strict Journalism ethics.

Copyright © 2026 Inside Bangla News Portal . All Rights Reserved. Designed by Avquora