শুক্রবার গভীর রাতে ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানল আফগানিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানে। রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৯। এলাকাটি অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কম্পনের কারণে হাজার হাজার মানুষ মারা গেছেন। শুক্রবারের ভূমিকম্পে অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কাবুলের গভর্নরের একজন মুখপাত্র। ১ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দিল্লি–এনসিআর এবং উত্তর ভারতের বিভিন্ন অংশেও তীব্র কম্পন অনুভূত হয়।
ইউরো মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার এবং ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবারের ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল আফগান শহর কুন্দুজ থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার (৯৩ মাইল) পূর্বে হিন্দুকুশ পর্বতমালায়। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৮০ কিলোমিটারেরও বেশি গভীরে। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের বেশিরভাগ অংশ জুড়ে কম্পন অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পের পরপরই কাবুল ও প্রাদেশিক স্বাস্থ্য কর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে। এই অঞ্চলে ভূমিকম্প প্রায়শই প্রাণঘাতী হয়, কারণ বেশিরভাগ গ্রামীণ বাড়ি কাঠ ও কাদামাটি দিয়ে তৈরি এবং সেগুলোর কাঠামো দুর্বল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফগানিস্তান বেশ কয়েকটি ভূমিকম্পের শিকার হয়েছে। ২০২৩ সালের আগস্টে ৬.০ মাত্রার একটা ভূমিকম্প হয়। নভেম্বরে ৬.৩ মাত্রার এবং ২০২৩ সালের অক্টোবরে ৬.৩ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয় এবং গ্রামগুলো বিধ্বস্ত হয়।
পাকিস্তান আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ইসলামাবাদ, পেশোয়ার, চিত্রাল, সোয়াত এবং শাংলায় কম্পন অনুভূত হয়েছে। পাকিস্তানি কর্তারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬.৩। আফগানিস্তানে ৮ জন মারা গেলেও পাকিস্তানের কোনও অংশে হতাহত বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। পাকিস্তান আবহাওয়া অধিদফতরের জাতীয় ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি রাত ৯টা ১৩ মিনিটে আঘাত হানে এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চলে, ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৯০ কিলোমিটার গভীরে, ৩৬.৪৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৭০.৮৪ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।
দিল্লি–এনসিআর এবং উত্তর ভারতের বিভিন্ন অংশেও তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। এই আকস্মিক কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশ কয়েকটি শহরের বাসিন্দারা ঘর ও অফিস ভবন থেকে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে আসেন। রাত প্রায় ৯টা ৫০ মিনিট নাগাদ কম্পন পাঞ্জাবের নয়ডা, চণ্ডীগড়, লুধিয়ানা এবং জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ, শ্রীনগর, উধমপুর, দেরাদুনসহ একাধিক শহর থেকে অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।