মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এফ–১৫ যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করে করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এই যুদ্ধ বিমানের পাইলটকেও আটক করেছে। পরে পাইলটকে উদ্ধার করতে আসা মার্কিন হেলিকপ্টারগুলিকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। এমনই দাবি করেছে ইরান। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের এই দাবি অস্বীকার করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী একটা মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। এটা অত্যন্ত উন্নত মার্কিন এফ–১৫ ঈগল যুদ্ধবিমান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই বিমানটিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। পরে বেশ কয়েকটা মার্কিন ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার এফ–১৫ ঈগল যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধার করতে আসে। সেগুলিকেও তারা ভূপাতিত করেছে। ফাঁস হওয়া কিছু ছবির ভিত্তিতে জানা গিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটা সি–১৩০ বিমান এবং চারটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ইরানের ভেতরে পাঠিয়েছিল। এই ঘটনাকে অনুপ্রবেশ আখ্যা দিয়ে ইরানের সামরিক বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদক জানিয়েছেন, এফ–১৫ যুদ্ধবিমান গুলিবিদ্ধ হয়ে ভূপাতিত হওয়ার পর পাইলট বিমান থেকে বেরিয়ে আসেন এবং ইরানের মাটিতে অবতরণ করেন। এরপর থেকে পাইলটের অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের দাবি করা হচ্ছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, পাইলটকে ইরানি সেনাবাহিনী আটক করেছে। আবার অন্য প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময় হওয়া প্রচণ্ড বিস্ফোরণের কারণে পাইলটের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম, প্রেস টিভি এবং আইআরআইবি–ও জানিয়েছে যে, সংঘর্ষের সঙ্গে সঙ্গে একটা প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটেছিল। যার ফলে পাইলটের বেঁচে থাকার কোনও সম্ভাবনাই নেই।
ইরানের খাতাম আল–আনবিয়া সামরিক সদর দফতরের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, মধ্য ইরানের আকাশে ভূপাতিত হওয়া এটা দ্বিতীয় এফ–৩৫ জেট। তিনি আরও বলেন, আইআরজিসি–র নতুন ও আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে, যুক্তরাষ্ট্র এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটা একটা এফ–৩৫ ছিল। আবার অন্যেরা দাবি করেছে, এটা এফ–১৫ যুদ্ধবিমানই। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে যে, পাইলটকে খুঁজতে ও উদ্ধার করতে মার্কিন বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার ও বিমান ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল।
এর আগে, ১৯শে মার্চ, ইরান প্রথম একটা মার্কিন এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছিল। তবে, সিএনএন•এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বিমানটি জরুরি অবতরণ করে এবং পাইলট অক্ষত ছিলেন। সেই ঘটনাটিও তদন্তাধীন রয়েছে। আইআরজিসি–র মতে, দ্বিতীয় হামলাটি স্থানীয় সময় ভোর ২:৫০ মিনিটে ঘটে। ইরান জানিয়েছে যে বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এছাড়াও, ইরান এখন পর্যন্ত ১২৫টিরও বেশি মার্কিন ও ইজরায়েলি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে।